(১) আপনি যদি সুখী হতে চান, তবে প্রথমেই অন্যকে দুঃখ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ কর্মের ফল অনিবার্য—যে যেমন কর্ম করে, সে তেমন ফলই ভোগ করে। আজ যদি আপনি কাউকে দুঃখ দেন, ভবিষ্যতে সেই দুঃখই আপনার জীবনে ফিরে আসতে পারে। তাই অন্যকে কষ্ট না দিয়ে মৈত্রী ও করুণার চিত্তে চলুন—এতেই সত্যিকারের সুখ নিহিত। (২) অন্যের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করুন। কারণ অনিত্য এই জগতে কোনো সম্পর্কই স্থায়ী নয়, আর আসক্তি থেকেই দুঃখের উৎপত্তি হয়। এই সংসার স্বার্থনির্ভর—স্বার্থের সামান্য অভাব ঘটলেই মানুষ পরিবর্তিত হতে পারে এবং দুঃখের কারণ হয়ে উঠতে পারে। অতএব প্রজ্ঞার সঙ্গে বুঝে নিন—যেখানে আসক্তি আছে, সেখানেই দুঃখের সম্ভাবনা আছে। তাই অন্যের ভালোবাসায় অতিরিক্ত আসক্ত না হয়ে সমতা ও মৈত্রীর চিত্তে অবস্থান করুন। আসক্তি হ্রাস করুন, অনিত্যকে অনিত্য জেনে চিত্তকে সংযত করুন—এতেই শান্তি নিহিত। (৩) এই জগৎ অনিত্য—এ সত্যটি সম্যকভাবে উপলব্ধি করুন। প্রকৃত অর্থে এখানে কেউ কারো নিত্য সঙ্গী নয়। অতীতে কেউ চিরকাল আপনার সাথে ছিল না, ভবিষ্যতেও কেউ স্থায়ীভাবে থাকবে না। এই পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চে আমরা কর্মফলের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য একত্রিত হয়েছি। অতএব এই সরল সত্যটি জেনে ও মেনে নিয়ে এ জগতের কাউকে নিয়ে নিত্যকাল বাঁচার আকাঙ্ক্ষা করবেন না। কারণ যা অনিত্য, তা একদিন বিচ্ছিন্ন হবেই। যে কেউ যেকোন সময় আপনাকে একা রেখে চলে যেতে পারে—এটাই সংসারের স্বাভাবিক ধর্ম। অনিত্যকে অনিত্য জেনে আসক্তি হ্রাস করুন, সম্যক জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় স্থির হোন—এই পথই শান্তির পথ। (৪) আপনি এ কথা উপলব্ধি করুন—এই সংসার দুঃখময়। এ সত্যকে সম্যকভাবে জেনে দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য তথাগত ভগবান বুদ্ধের নির্দেশিত নির্বাণের পথে নিজেকে নিয়োজিত করুন। এজন্য অবশ্যই চতুরার্য সত্য ও আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করুন এবং বুদ্ধের প্রদত্ত ধ্যান নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার জীবন পরিচালিত করুন। মনগড়া মতবাদ ও ভ্রান্ত ধর্ম পরিহার করে সম্যক ধর্মে প্রতিষ্ঠিত হোন। 🌼 দুঃখকে জেনে নিন 🌼 দুঃখের কারণ বুঝুন 🌼 দুঃখের নিরোধ উপলব্ধি করুন 🌼 দুঃখনিরোধের পথে চলুন এই পথই শান্তির পথ, এই পথই নির্বাণের পথ। যদি আপনি এই চারটি সত্য সম্যকভাবে উপলব্ধি করে জীবনে ধারণ করেন, তবে দেখবেন কোনো দুঃখই সহজে আপনার মনকে বিচলিত করতে পারবে না। আপনার ইহকাল শান্তিময় হবে এবং পরকালও হবে কল্যাণময় ও আনন্দপূর্ণ। কলমে: ভিক্ষু বোধি, এম. এ অধ্যয়নরত বুদ্ধা ধম্মা সেন্টার অব্ হংকং বিশ্ববিদ্যালয়।
0 Comments