Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

অনাগারিক ধম্মপালের স্মৃতি দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি


 অনাগারিক ধম্মপালের স্মৃতি দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

গতকাল ছিল ২৯শে এপ্রিল। ১৯৩৩ সালের এদিনে ভারতে বৌদ্ধ ধম্মের পুণরুত্থানকারী, বৌদ্ধ জগতের প্রাণপুরুষ, বোধিসত্ব অনাগারিক ধম্মপাল বুদ্ধের প্রথম ধম্মদেশনার স্থান অপরিবর্তনীয় মহাপূণ্যতীর্থ সারনাথে দেহাবসান করেছিলেন। তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৮৬৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি সম্ভ্রান্ত বৌদ্ধ পরিবারে।
বুদ্ধ শাসনে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা জীবন (১৯৩১-১৯৩৩)
————————
বোধিসত্ব অনাগারিক ধম্মপালের জীবনের অন্তিম সময়ে তিনি শ্বেতবস্ত্র পরিহিত অনাগারিক জীবন হতে পূর্ণরূপে বিদায় নিয়ে গৈরিক বসনে দীক্ষিত হয়ে বৌদ্ধ সঙ্ঘে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি ১৯৩১ সালের ১৩ই জুলাই প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলে তাঁর দীক্ষিত নাম হয় দেবমিত্র ধম্মপাল। অতঃপর ১৯৩৩ সালের ১৬ই জানুয়ারি তিনি উপসম্পা গ্রহণ করে ভিক্ষু হয়েছিলেন। এভাবে প্রয়ানের মাত্র কয়েকমাস পূর্বেই তিনি পূর্ণ ভিক্ষুত্বের জীবনে এসেছিলেন।
অন্তিম দিনগুলিতে সে তাঁর স্বাস্থ্য
———————————
জীবনের অন্তিম সময়ে এসে তাঁর শারীরিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিলনা। তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। এরপরেও সদ্ধম্মের প্রচার-প্রসার এবং ভারতে বৌদ্ধ স্থল সমূহের বিশেষ করে বৌদ্ধ মহাতীর্থ তথাগতের সম্বোধি লাভের স্থান বুদ্ধগয়া এবং ধম্মচক্র প্রবর্তন স্থান সারনাথ - এ দু’ অপরিবর্তনীয় স্থানের পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ছিলেন।
বোধিসত্ব দেবমিত্র ধম্মপাল সারনাথে স্বীয় প্রতিষ্ঠিত মূলগন্ধকুঠি বিহারে অবস্থান করেছিলেন। এ মূলগন্ধকুঠি বিহারের নির্মাণ কাজ শেষ করে তিনি ১৯৩১ সালে দ্বারোদ্ঘাটন করেছিলেন। এখানেই কালে কালে উৎপন্ন বুদ্ধগণ তাঁদের প্রথম ধম্মোপদেশ প্রদান করে থাকেন।
দেহাবসান (২৯শে এপ্রিল ১৯৩৩)
——————————-
২৯ শে এপ্রিল ১৯৩৩ দিনটি অতীব সংবেগপূর্ণ দিবস। এ দিন ভোরে তিনি মূলগন্ধকুঠি বিহার, সারনাথেই দেহাবসান করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। প্রয়ানের সময় তিনি তাঁর মুখমণ্ডল মূলগন্ধকুঠি বিহারের দিকে করে নিয়েছিলেন।
প্রয়ানের সময় তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে অন্তিম শব্দ সমূহ এভাবে উচ্চারণ করেছিলেন-‘আমি ২৫ বার আরও জন্ম নিতে চাই। যাতে বুদ্ধ ধম্মের প্রচার-প্রসার করতে পারি।’ (Let me be reborn twenty five times to spread the Buddha Dhamma.)’ তখন সেখানে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, চিকিৎসক, কিছু ভক্ত অনুসারী এবং অন্যান্য ভিক্ষুগণ উপস্থিত ছিলেন।
অস্থি অবশেষ এবং স্মৃতি
————————————
তাঁর অস্থি অবশেষ সমূহ মূলগন্ধকুঠি বিহারের নিকটে একটি স্তূপে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে তাঁর অস্থি অবশেষের একটি অংশ শ্রীলঙ্কায়ও নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভব্য শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান পূর্বক স্তূপ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
অন্তিম সময়ে তাঁর জীবন সাধনা, ভিক্ষু জীবন এবং ধম্ম প্রচারের প্রতি পূর্ণ সমর্পণ ছিল। তিনি ঘর, পরিজন, আরাম-আয়েস এবং স্বাস্থ্যের চিন্তা ত্যাগ করে অন্তিম শ্বাস পর্যন্ত বুদ্ধের শিক্ষার প্রসার এবং ভারতে বৌদ্ধ ধম্মের পুনরুত্থানের জন্য কাজ করেছেন।
বুদ্ধগয়া মহাবোধি মহাবিহারের মুক্তির জন্য সংঘর্ষ
——————————
দেবমিত্র অনাগারিক ধম্মপাল বৌদ্ধ স্থল সমূহ বিশেষভাবে সারনাথ এবং বুদ্ধগয়া মহাবোধি মহাবিহারের মুক্তির জন্য দীর্ঘ বছর পর্যন্ত সংঘর্ষ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্কল্প এবং বোধিসত্বের অপরিসীম কল্যাণ ভাবনা ছিল অটুট।
এ সমস্ত তথ্য তাঁর জীবনী, তাঁর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মহাবোধি সোসাইটি (১৮৯১) কর্তৃক সংরক্ষিত নথি এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে প্রদত্ত হয়েছে। পূজ্য দেবমিত্র অনাগারিক ধম্মপালের জীবনের অন্তিম সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুরূপে শান্তিপূর্ণ, ধম্মময় এবং প্রেরণাদায়ক ছিল। এরূপ মহান বোধিসত্বকে ভারত তথা পৃথিবীবাসী হরিয়েছেন। কিন্তু তাঁর প্রেরণা, শক্তি এবং মার্গ দর্শন মহাবোধি মহাবিহারের মুক্তি আন্দোলনের জন্য উপলব্ধ হচ্ছে। ২০২৬ সালে তাঁর প্রয়ান দিবস উপলক্ষে বোধিসত্ব পূজ্য ভদন্ত দেবমিত্র ধম্মপালের স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করছি।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement