Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বুদ্ধের ভিক্ষাচরণে সুপ্রবুদ্ধের পথ অবরোধ

 মহামানব গৌতম বুদ্ধ

আমার কন্যাটাকে ত্যাগ করে তিনি অভিনিষ্ক্রমণ করেছেন এবং আমার পুত্রটাকে প্রব্রজিত করে তার সঙ্গে শত্রুতা করেছেন’-এ দুইটি কারণে সুপ্রবুদ্ধ শাক্য বুদ্ধের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে একদিন ‘এখন আমি তাঁকে নিমন্ত্রণ স্থানে গিয়ে ভোজন করতে দেবো না’ বলে বুদ্ধের যাবার পথ বন্ধ করে রাস্তার পাশে বসে সুরাপান করতে লাগল। বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘে পরিবৃত হয়ে সেখানে এসে উপস্থিত হলে ‘বুদ্ধ এসেছেন’ বলে তাঁকে জানানো হলো। তিনি বললেন, ‘তাঁকে আমার সামনে দিয়ে যেতে বলো। তিনি তো বয়সে আমার চেয়ে বড়ো নন। আমি তাঁকে যেতে দেবো না।’ বার বার বলা সত্ত্বেও সেভাবেই বলে বসে থাকলেন। বুদ্ধ মামার কাছ হতে রাস্তা না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসলেন। সুপ্রবুদ্ধও এক পুরুষ চরকে পাঠালেন, ‘যাও, তাঁর কথা শুনে আসো।’ এদিকে বুদ্ধ ফিরে যাবার সময় মৃদু হাসলেন, তা দেখে আনন্দ স্থবির বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভন্তে, এই মৃদু হাসির কারণ কী?’ বুদ্ধ বললেন, ‘আনন্দ সুপ্রবুদ্ধকে দেখছ তো?’ ‘হ্যাঁ ভন্তে, দেখছি।’
‘তিনি আমার যাবার পথটা বন্ধ করেছেন। আজ হতে সাত দিনের মাথায় নিজের প্রাসাদের নিচে সিঁড়ির গোড়ায় তিনি পাতালে প্রবেশ করবেন।’ চর পুরুষ সেই কথা শুনে সুপ্রবুদ্ধের কাছে গেলে সুপ্রবুদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার ভাগিনা ফিরে যাবার সময় কী বললেন?’ জিজ্ঞাসিত হলে চরপুরুষ যা শুনেছিল সব বলল। তিনি তার কথা শুনে, ‘এখন আমার ভাগিনার কথায় দোষ নেই। তিনি যা বলেন নিশ্চয়ই তা হয়। তাহলেও এখন আমি প্রমাণ করব যে তিনি মিথ্যাবাদী। তিনি আমার ‘সপ্তম দিনে পৃথিবীতে প্রবেশ করবেন’ এই কথা না বলে ‘প্রাসাদের নিচে সিঁড়ির গোড়ায় পৃথিবীতে প্রবেশ করবেন’ বলেছেন। ‘এখন হতে আমি ওখানেই যাব না, অতএব সেখানে আমার পৃথিবী প্রবেশ না হলে তিনি মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হবেন।’ এই বলে তিনি তাঁর উপভোগ্য সবকিছু সাত তলা প্রাসাদের ওপরে উঠায়ে সিঁড়ি সরায়ে দিয়ে দরজাটা বন্ধ করায়ে এক একটি দরজায় দুইজন করে চৌকিদার রেখে বললেন, ‘যদি আমি প্রমাদবশত নিচে নামতে ইচ্ছা করি, আমাকে বাধা দেবে।’ এ কথা বলে সাত তলার কক্ষের ভেতর অবস্থান করলেন। বুদ্ধ সেই ব্যাপারটা জেনে বললেন, ‘হে ভিক্ষুগণ, সুপ্রবুদ্ধ শুধু প্রাসাদতলে কেন, আকাশে উঠে আকাশেই অবস্থান করুন, নৌকায় সমুদ্রমধ্যে চলে যান, পর্বতগুহায় প্রবেশ করুন, বুদ্ধদের কথা দুই হয় না। আমি যা বলেছি সেখানেই তাঁর পাতাল প্রবেশ হবে।’ এই কথা বলে উপসংহারে ধর্মদেশনাকালে বুদ্ধ বললেন :
‘আকাশে, সমুদ্রমধ্যে কিংবা পর্বতগুহায় জগতে এমন কোনো স্থান বিদ্যমান নেই যেখানে অবস্থান করলে মৃত্যু স্পর্শ করে না।’
বুদ্ধের ভিক্ষায় যাওয়ার পথটা অবরোধ করার সাত দিনের মাথায় প্রাসাদের নিচে সুপ্রবুদ্ধের মঙ্গল ঘোড়াটা উদ্দাম হয়ে প্রাসাদের বিভিন্ন ভিত্তিতে প্রহার করল। সুপ্রবুদ্ধ ওপরে অবস্থান করেই তার শব্দ শুনে ‘কী ব্যাপার’ জিজ্ঞেস করলেন। চৌকিদারেরা বলল, ‘মঙ্গল ঘোড়া উদ্দাম হয়েছে।’ সেই ঘোড়াটা আবার একমাত্র সুপ্রবুদ্ধকে দেখলেই শান্ত হয়। তখন তাকে ধরার জন্য তিনি আসন হতে উঠে দরজার দিকে মুখ করলেন, তখন দরজাগুলো নিজে নিজেই খুলে গেল, সিঁড়ি যথাস্থানে স্থিত হলো। দরজায় অবস্থানকারী চৌকিদারগণ তাঁকে গলাধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল। এভাবে সাতটি তলার দরজাগুলো আপনা-আপনি খুলে গেল, সিঁড়িগুলো যথাস্থানে স্থিত হলো। প্রত্যেকটা তলা থেকে চৌকিদারগণ তাঁকে গলাধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল। প্রাসাদের নিচে সিঁড়ির গোড়ায় তিনি উপস্থিত হওয়ামাত্রই মহাপৃথিবী উন্মুক্ত হয়ে তাঁকে গ্রাস করল, তিনি মৃত্যুবরণ করে অবীচিতে উৎপন্ন হলেন।—সুপ্রবুদ্ধ শাক্যের উপাখ্যান, পাপবর্গ, ধর্মপদ অর্থকথা
(ক্রমশ)

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement