মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ প্রচারিত ধম্মে কোনো পূজা পদ্ধতি বা অন্ধ ভক্তির আতিশয্য কিংবা আড়ম্বরতা নাই। এখানে অন্ধবিশ্বাস বা অন্ধমান্যতারও স্থান নাই। বুদ্ধের শিক্ষা হল জীবন-যাপনের এক উৎকৃষ্ট কলা। ইহা এমন এক মার্গ, যা মানুষকে আত্ম জ্ঞান, শান্তি ও করুণা এবং ইহা দুঃখচক্র হতে মুক্তির দিকে নিয়ে যায়। এজন্য ইহাকে সদ্ধম্ম বলা হয়। এ সদ্ধম্ম ২৫৬৯ বছরেরও অধিক পুরাতন। কিন্তু সদ্ধম্মের এ শিক্ষা এখনও সমভাবে প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে আজকের যুবক-যুবতীদের জন্য, যাঁরা মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিষন্নতা, হতাশা ইত্যাদি সমস্যা দ্বারা জর্জরিত ও গ্রসিত। বর্তমান সময়ে যখন যুব সমাজ উপরিউক্ত সমস্যা সমূহ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, এরূপ অবস্থায় বুদ্ধের ধ্যান শিক্ষা তাদেরকে সন্তুলন বা সমতা, শান্তি এবং আত্মচিন্তনের মার্গ দেখিয়ে থাকে।
বৌদ্ধ ধম্মের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আধুনিক যুগের যুবক-যুবতীদের জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন-
১) সজাগতা বা স্মৃতি সাধনা (Mindfulness Meditation) : বুদ্ধের শিক্ষায় সতি বা স্মৃতি সাধনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। মাইণ্ডফুলনেস বা সজাগতার অনুশীলন বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীর লোকদের কাছে অতীব আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। এরকম স্মৃতি সাধনা আমাদেরকে বর্তমানকে ভিত্তি করে জীবিত থাকতে, স্বীয় বিচার এবং চিন্তা-ভাবনা সমূহকে বুঝার কলা শিখিয়ে থাকে। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি যখন যুব সমাজ সহ অন্যান্যরা যেভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে, তখন এরকম স্মৃতি সাধনা অনুশীলন একটি উত্তম ঔষধি রূপে কাজ করবে সন্দেহ নাই। আমরা নিজেদের প্রত্যেক কাজ, বিচার এবং চেতনাকে সজাগতার দ্বারা কিভাবে বুঝতে পারব, তা স্মৃতি সাধনা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকে। আজকের ব্যস্ততম যান্ত্রিক জীবনে এরকম স্মৃতি সাধনার অনুশীলন আমাদেরকে মানসিক শান্তি, আত্ম বিশ্বাস ও আত্ম নিয়ন্ত্রণ করতে যথেষ্ট সহযোগ প্রদান করে থাকে।
২) দুঃখ এবং দুঃখমুক্তিকে বুঝা (Understanding of Suffering and freedom from suffering): তথাগত বুদ্ধ চার আর্যসত্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, দুঃখ হল জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দুঃখ হতে মুক্তি লাভও আমাদের করায়ত্বে। বর্তমান প্রজন্ম, যারা অসফলতা এবং মানসিক সংঘর্ষ দ্বারা জীবন অতিবাহিত করছে, চার আর্যসত্যের শিক্ষার মাধ্যমে তারা জীবনকে ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। আমরা সবসময় জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হই। কিন্তু বুদ্ধের শিক্ষা আমাদেরকে শিখিয়ে থাকে যে, দুঃখ হল জীবনেরই একটি অংশ। আমরা দুঃখকে বরণ করে এবং সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ ও মোকাবেলা করে দুঃখ হতে বের হতে পারি।
৩) মধ্যম মার্গ (Middle Path) তথাগত বুদ্ধ অত্যধিক ভোগ বিলাস এবং আত্ম কঠোরতা বা কৃচ্ছ্রতা সাধন-এ উভয় প্রকার অন্ত হতে বের হয়ে মধ্যম মার্গ অর্থাৎ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ গ্রহণ ও অনুশীলন করার কথা বলেছেন। ইহা যে বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ সন্তুলন বার্তা তাতে সন্দেহ নাই। আমরা সবসময় হয়তো অত্যধিক ভোগ বিলাসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি, নয়তো কঠোর আত্ম নিয়ন্ত্রণের পথ অনুসরণ করি। এরকম পরিস্থিতিতে বুদ্ধ প্রদর্শিত মধ্যম মার্গই আমাদেরকে শান্তি এবং স্থিরতা প্রদান করে থাকে। এ শিক্ষা সকলকে সমতা সম্পন্ন জীবন-যাপনের প্রেরণা দিয়ে থাকে।
৪) অহিংসা এবং করুণা (Non-violence and Compassion) : সকল প্রাণীর প্রতি করুণা এবং অহিংসা ভাব পোষণ হল বুদ্ধ শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। এরূপ ভাবনা বর্তমান বিশ্বের হিংস্রতাপূর্ণ এবং অসহিষ্ণু পরিবেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সহানুভূতি এবং মানবতা ভাবনাকে প্রসারিত করে থাকে।
৫) আত্মনির্ভরতা এবং অনুভবের মহত্ব (The importance of self-reliance and experience) : তথাগত বুদ্ধ সকলকে উপদেশ দিয়ে থাকেন যে, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য। তাঁর শিক্ষা হল ‘অত্ত দীপ ভব’ অর্থাৎ নিজেই নিজের দীপ হও। তথাগত বুদ্ধ আমাদেরকে শিখিয়েছেন যে, অন্ধানুকরণের পরিবর্তে স্বয়ং বিচার করো, নিজেকে বুঝতে প্রয়াস করো এবং অনুভব হতে শিক্ষা নাও। এরূপ বিচার আজকের যুব সমাজকে আত্মনির্ভর, বিচারশীল এবং সশক্ত বানাতে সহায়তা করে থাকে।
৬) সরলতা এবং সন্তোষ (Simplicity and Satisfaction) : বুদ্ধের শিক্ষা সরলতা এবং অল্পেচ্ছুক মানসিকতা বৃদ্ধি করে থাকে। যা ভোগবাদের প্রতি আসক্তবর্তমান প্রজন্মের জন্য বৌদ্ধ ধম্মের আবশ্যকতা
ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু
মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ প্রচারিত ধম্মে কোনো পূজা পদ্ধতি বা অন্ধ ভক্তির আতিশয্য কিংবা আড়ম্বরতা নাই। এখানে অন্ধবিশ্বাস বা অন্ধমান্যতারও স্থান নাই। বুদ্ধের শিক্ষা হল জীবন-যাপনের এক উৎকৃষ্ট কলা। ইহা এমন এক মার্গ, যা মানুষকে আত্ম জ্ঞান, শান্তি ও করুণা এবং ইহা দুঃখচক্র হতে মুক্তির দিকে নিয়ে যায়। এজন্য ইহাকে সদ্ধম্ম বলা হয়। এ সদ্ধম্ম ২৫৬৯ বছরেরও অধিক পুরাতন। কিন্তু সদ্ধম্মের এ শিক্ষা এখনও সমভাবে প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে আজকের যুবক-যুবতীদের জন্য, যাঁরা মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিষন্নতা, হতাশা ইত্যাদি সমস্যা দ্বারা জর্জরিত ও গ্রসিত। বর্তমান সময়ে যখন যুব সমাজ উপরিউক্ত সমস্যা সমূহ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, এরূপ অবস্থায় বুদ্ধের ধ্যান শিক্ষা তাদেরকে সন্তুলন বা সমতা, শান্তি এবং আত্মচিন্তনের মার্গ দেখিয়ে থাকে।
বৌদ্ধ ধম্মের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আধুনিক যুগের যুবক-যুবতীদের জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন-

১) সজাগতা বা স্মৃতি সাধনা (Mindfulness Meditation) : বুদ্ধের শিক্ষায় সতি বা স্মৃতি সাধনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। মাইণ্ডফুলনেস বা সজাগতার অনুশীলন বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীর লোকদের কাছে অতীব আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। এরকম স্মৃতি সাধনা আমাদেরকে বর্তমানকে ভিত্তি করে জীবিত থাকতে, স্বীয় বিচার এবং চিন্তা-ভাবনা সমূহকে বুঝার কলা শিখিয়ে থাকে। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি যখন যুব সমাজ সহ অন্যান্যরা যেভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে, তখন এরকম স্মৃতি সাধনা অনুশীলন একটি উত্তম ঔষধি রূপে কাজ করবে সন্দেহ নাই। আমরা নিজেদের প্রত্যেক কাজ, বিচার এবং চেতনাকে সজাগতার দ্বারা কিভাবে বুঝতে পারব, তা স্মৃতি সাধনা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকে। আজকের ব্যস্ততম যান্ত্রিক জীবনে এরকম স্মৃতি সাধনার অনুশীলন আমাদেরকে মানসিক শান্তি, আত্ম বিশ্বাস ও আত্ম নিয়ন্ত্রণ করতে যথেষ্ট সহযোগ প্রদান করে থাকে।
২) দুঃখ এবং দুঃখমুক্তিকে বুঝা (Understanding of Suffering and freedom from suffering): তথাগত বুদ্ধ চার আর্যসত্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, দুঃখ হল জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দুঃখ হতে মুক্তি লাভও আমাদের করায়ত্বে। বর্তমান প্রজন্ম, যারা অসফলতা এবং মানসিক সংঘর্ষ দ্বারা জীবন অতিবাহিত করছে, চার আর্যসত্যের শিক্ষার মাধ্যমে তারা জীবনকে ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। আমরা সবসময় জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হই। কিন্তু বুদ্ধের শিক্ষা আমাদেরকে শিখিয়ে থাকে যে, দুঃখ হল জীবনেরই একটি অংশ। আমরা দুঃখকে বরণ করে এবং সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ ও মোকাবেলা করে দুঃখ হতে বের হতে পারি।
৩) মধ্যম মার্গ (Middle Path) তথাগত বুদ্ধ অত্যধিক ভোগ বিলাস এবং আত্ম কঠোরতা বা কৃচ্ছ্রতা সাধন-এ উভয় প্রকার অন্ত হতে বের হয়ে মধ্যম মার্গ অর্থাৎ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ গ্রহণ ও অনুশীলন করার কথা বলেছেন। ইহা যে বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ সন্তুলন বার্তা তাতে সন্দেহ নাই। আমরা সবসময় হয়তো অত্যধিক ভোগ বিলাসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি, নয়তো কঠোর আত্ম নিয়ন্ত্রণের পথ অনুসরণ করি। এরকম পরিস্থিতিতে বুদ্ধ প্রদর্শিত মধ্যম মার্গই আমাদেরকে শান্তি এবং স্থিরতা প্রদান করে থাকে। এ শিক্ষা সকলকে সমতা সম্পন্ন জীবন-যাপনের প্রেরণা দিয়ে থাকে।
৪) অহিংসা এবং করুণা (Non-violence and Compassion) : সকল প্রাণীর প্রতি করুণা এবং অহিংসা ভাব পোষণ হল বুদ্ধ শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। এরূপ ভাবনা বর্তমান বিশ্বের হিংস্রতাপূর্ণ এবং অসহিষ্ণু পরিবেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সহানুভূতি এবং মানবতা ভাবনাকে প্রসারিত করে থাকে।
৫) আত্মনির্ভরতা এবং অনুভবের মহত্ব (The importance of self-reliance and experience) : তথাগত বুদ্ধ সকলকে উপদেশ দিয়ে থাকেন যে, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য। তাঁর শিক্ষা হল ‘অত্ত দীপ ভব’ অর্থাৎ নিজেই নিজের দীপ হও। তথাগত বুদ্ধ আমাদেরকে শিখিয়েছেন যে, অন্ধানুকরণের পরিবর্তে স্বয়ং বিচার করো, নিজেকে বুঝতে প্রয়াস করো এবং অনুভব হতে শিক্ষা নাও। এরূপ বিচার আজকের যুব সমাজকে আত্মনির্ভর, বিচারশীল এবং সশক্ত বানাতে সহায়তা করে থাকে।
৬) সরলতা এবং সন্তোষ (Simplicity and Satisfaction) : বুদ্ধের শিক্ষা সরলতা এবং অল্পেচ্ছুক মানসিকতা বৃদ্ধি করে থাকে। যা ভোগবাদের প্রতি আসক্ত আজকের প্রজন্মকে সামাজিক শান্তির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম।
বৌদ্ধ ধম্মের শিক্ষা কেবল বিহার পর্যন্ত সীমিত নয়, বরং বুদ্ধের শিক্ষা জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমাদের মার্গ দর্শকরূপে কাজ করে থাকে। যদি বর্তমান প্রজন্ম বুদ্ধের শিক্ষা সমূহ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারা নিজেদের জীবনকে কেবল উন্নত করতে পারবে এমন নয়, বরং এক শান্তি, সহিষ্ণু এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজও রচনা করতে সক্ষম হবে সন্দেহ নাই।
বৌদ্ধ ধম্মের শিক্ষা কেবল বিহার পর্যন্ত সীমিত নয়, বরং বুদ্ধের শিক্ষা জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমাদের মার্গ দর্শকরূপে কাজ করে থাকে। যদি বর্তমান প্রজন্ম বুদ্ধের শিক্ষা সমূহ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারা নিজেদের জীবনকে কেবল উন্নত করতে পারবে এমন নয়, বরং এক শান্তি, সহিষ্ণু এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজও রচনা করতে সক্ষম হবে সন্দেহ নাই।


0 Comments