Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

মনুবাদী ভণ্ডদের বিদ্বেষপূর্ণ বয়ান

 


ভারতবর্ষে শঙ্করাচার্য নামে খ্যাত ধর্মগুরুরা বরাবর মহাকারুণিক বুদ্ধের সম্বন্ধে কটূক্তি করে থাকেন। তাঁরা তথাগত বুদ্ধের বিশ্বব্যাপী সমাদরকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেননা। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্যকোনো রাজনৈতিক নেতা, দার্শনিক বা প্রসিদ্ধ ব্যক্তি যখন বিদেশের মাটিতে গিয়ে নিজেদেরকে বুদ্ধের দেশের লোক বলে গর্ব করে পরিচয় দিয়ে থাকেন, তখন শঙ্করাচার্যদের মতো মনুবাদীরা হিংস্রতার আগুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের জ্যোতির্মঠাধীশ্বর স্বয়ম্ভূ শঙ্করাচার্য জগদ্গুরু পরিচয় প্রদানকারী উমাশঙ্কর উপাধ্যায় ওরফে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ তথাগত বুদ্ধ সম্পর্কে অতীব আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে-‘ভারত কখন বুদ্ধের দেশ হয়েছে? গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কার্যালয় সমূহে বুদ্ধের মূর্তি বা ছবি রাখা হয় কেনো?’
আরেক হিন্দুত্ববাদী ধর্মগুরু তিনিও নিজেকে জগদ্গুরু বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধত্বের মাধ্যমে পাপের ফল ভোগ করছেন, চিত্রকূটের সে স্বামী রামভদ্রাচার্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বিদ্বেষ প্রসূত হয়ে বলেছেন-‘নরেন্দ্র মোদী এখনও বুঝতে পারছেননা যে, বুদ্ধ অহিংসার বাণী প্রচার করে ভারতকে নপুংস রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। ভারত বুদ্ধের দেশ নয়, ভারত হল যুদ্ধের দেশ।’
এ সমস্ত বিদ্বেষপূর্ণ উক্তি সরাসরি তাঁদের মনুবাদী এবং মহাকারুণিক বুদ্ধের মানবতাবাদ বিরোধী মানসিকতাকেই দর্শিয়ে থাকে। তাঁরা মহাকারুণিক বুদ্ধ এবং তাঁর ছায়ায় শরণাপন্ন বোধিসত্ব বাবা সাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকর অনুস্মৃত (১৮৯১-১৯৫৬)
সমতা, স্বতন্ত্রতা, বন্ধুত্ব ও ন্যায়িক বিচার সমূহের কুৎসিত ঘৃণার বহিঃ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এ সকল ভণ্ডেরা ভুলে গিয়েছেন যে, বিশ্ব দরবারে ভারতের পরিচয় কোনো ভণ্ড, প্রতারক দ্বারা হয়নি বা রাম, কৃষ্ণ প্রভৃতি কাল্পনিক কোনো অবতার দ্বারাও হয়নি, বরং তথাগত বুদ্ধ এবং তাঁর অহিংস ও বিজ্ঞানময় ধম্মের দ্বারা হয়েছে।
ইতিহাসের সাক্ষ্য হতে তথ্য উদ্ধৃতির মাধ্যমে উক্ত ঘৃণ্য লোকদেরকে ভারতের বাস্তবিক এবং গৌরবশালী ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া খুবই জরুরী বলে মনে করি।
১) ত্রিরঙ্গা জাতীয় পতাকার গৌরব-
——————————
ভারতের জাতীয় পতাকার মাঝখানে ২৪ শলাকা বিশিষ্ট ‘অসোক চক্র বা ধম্মচক্র’ নামে যে চক্র রয়েছে, তা হল বুদ্ধ ধম্মেরই প্রতীক। ইহা বুদ্ধের প্রথম ধম্ম প্রচারের স্থান সারনাথ হতে উপলব্দ হয়েছে, যা পাথরে খোদাই করে খৃষ্টপূর্বে তৃতীয় অব্দে প্রস্তুত করেছিলেন সম্রাট অসোক মহান।
রাষ্ট্রীয় প্রতীক অসোক স্তম্ভ
——————————-
ভারতের মুদ্রা (Currency) এবং দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘সারনাথের চার সিংহ খচিত অসোক স্তম্ভ (Asokan Pillar) হল সম্রাট অসোক ও বুদ্ধ ধম্মেরই অবদান।
আকাশবাণী
———————
ভারতের রেডিও বা বেতার সম্প্রচারণ আকাশবাণীর ধ্যেয় বাক্য ‘বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়’ সরাসরি তথাগত বুদ্ধের উপদেশ হতে নেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের প্রাণ
————————
বোধিসত্ব বাবা সাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকর পরিস্কার বলেছেন যে, তিনি ভারতীয় সংবিধানের তিন মূল মন্ত্র -‘স্বতন্ত্রতা (Liberty), সমানতা (Equality) এবং বন্ধুত্ব (Fraternity) কোনো ফরাসী ক্রান্তি হতে নেননি, বরং স্বীয় গুরু তথাগত বুদ্ধের শিক্ষা হতে নিয়েছেন।
ভারত রত্ন
—————-
ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ যে উপাধি দেওয়া হয়, সে স্মারকটির প্রতীকও রয়েছে বোধিবৃক্ষের পত্র। বোধিবৃক্ষ ও ইহার পত্র হল তথাগত বুদ্ধের জ্ঞান লাভের প্রতীক।
অশোকচক্র
—————
ভারতের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন ‘অশোক চক্র’ নামে যে সামরিক খেতাব দেওয়া হয়, সে অশোক চক্রের অসোক হলেন খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় অব্দের একজন অদ্বিতীয় বৌদ্ধ সম্রাট, যিনি অহিংসার মার্গ অনুসরণ করে বিশ্বজয় করেছিলেন।
বাবা সাহেব ড. আম্বেদকর এবং বুদ্ধের ভারত
————————-
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনেও বুদ্ধ বিরাজমান রয়েছে এবং ভারতের প্রমুখ লোকেরা রাষ্ট্রপতি ভবনে স্থাপিত বুদ্ধ মূর্তির ছায়াতেই শপথ গ্রহণ করে থাকেন। ভারতের সরকার এরকম গৌরবশালী ইতিহাস এবং বাবা সাহেব লিখিত সংবিধান দ্বারা চলমান রয়েছে। মনুবাদীরা এরকম ‘বুদ্ধময় ভারত’কে দেখে যতই ক্রোধান্বিত হয়ে উল্টাপাল্টা বলুন না কেনো, তাতে কিছু আসে যায়না। বুদ্ধের ইতিহাস শতাব্দীর পর শতাব্দী মহান হয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সবসময় দেদীপ্যমান থাকবে।




Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement