Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

জীবন চরিত : ৮ম সংঘরাজ ভদন্ত শীলালংকার মহাথেরো স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

:

বর্ষাবাসের শুরু ও ধর্ম-বিনয় শিক্ষা:
 *******************************

উপসম্পদা লাভের কিছুদিন পর তিনি তাঁর গুরু প্রজ্ঞালোক মহাস্থবিরের সহিত চট্রগ্রামে আসেন। তাঁরা চট্রগ্রামে এসে মায়ানী বিহারে অবস্থান করেন। শ্রীমৎ শীলালঙ্কার ভিক্ষু মায়ানী বিহারে প্রথম বর্ষাবাস যাপন করেন। প্রথম বর্ষাবাসের পরে তিনি বিভিন্ন ধর্মসভায় শ্রীমৎ প্রজ্ঞাতিষ্য মহাস্থবির, জ্ঞানলঙ্কার মহাস্থবির, বঙ্গচন্দ্র মহাস্থবির, গিরীশচন্দ্র মহাস্থবির, বরজ্ঞান মহাস্থবির, বংশদ্বীপ মহাস্থবির, আর্য্যবংশ মহাস্থবির প্রভৃতি মহাপুরুষদের বৌদ্ধধর্ম বিনয় সম্বদ্ধে ভাষণ শুনে তিনি সদ্ধর্ম আয়ত্ত করবার জন্য বিশেষভাবে উদগ্রীব হয়ে পড়েন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমৎ শীলালঙ্কার ভিক্ষু, শ্রীমৎ ধর্মতিলক ভিক্ষু এবং শ্রীমৎ জ্যোতিঃপাল ভিক্ষুসহ শ্রীলংকায় যাত্রা করেন। সেখানে তাঁরা পানাদুর সদ্ধর্মোদয় পরিবেনে বদ্ধ
সীমায় শ্রদ্ধেয় উপসেন মহাস্থবিরের নিকট দ্বিতীয়বার কর্মবাক্য।শ্রবণ করেন এবং তাঁর নিকট ধর্মবিনয় অধ্যয়ন করে সেখানে দু’বৎসর অতিবাহত করেন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে তাঁরা কেন্ডির
উভবর্ত নামক স্থানে সদ্ধার্মাবাস পরিবেনে শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত।ধর্মদর্শী মহাস্থবিরের নিকট আরো দু’বৎসর বৌদ্ধ ধর্ম বিনয় অধ্যয়ন করেন।

রেঙ্গুন যাত্রা ও বৌদ্ধ মিশন প্রেসের কার্যভার গ্রহণ :
******************************************
১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমৎ শীলালঙ্কার ভিক্ষু, রেঙ্গুনে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি কান্দগ্লে ধর্মদুত বিহারে তাঁর গুরুদেব শ্রীমৎ প্রজ্ঞালোক মহাস্থবিরের সহিত মিলিত হন এবং দু’মাস ধর্মদুত বিহারে অবস্থান করেন। তারপর তিনি চট্রগ্রামে এসে নানুপুরে দু’বছর
অতিবাহিত করেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমৎ শীলালঙ্কার মহাস্থবির কলকাতায় ধর্মাংকুর বিহারে, বিহারাধ্যক্ষ হয়ে আসেন। এসময়ে তিনি বৌদ্ধ
বিষয়ক পুস্তক রচনা করতে মনোনিবেশ করেন। ১৯৩৩।খ্রিস্টাব্দে শ্রীমৎ শীলালঙ্কার মহাস্থবির শ্রীমৎ প্রজ্ঞালোক।মহাস্থবিরের আহ্বানে রেঙ্গুন যান। সেখানে তিনি “বৌদ্ধ মিশন”, বৌদ্ধ মিশন প্রেস এবং “সংঘ শক্তি” প্রভৃতির কার্যভার গ্রহণ করেন। দু’বছর এসব
প্রতিষ্ঠানের কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করেন। তারপর
তিনি চট্রগ্রামে নানুপুর আনন্দধাম বিহারে অবস্থান করেন। ১৯৩৭ খ্রি: তিনি তৃতীয়বার রেঙ্গুন যাত্রা করেন। রেঙ্গুনে তিন বছর অবস্থান করে তিনি স্বদেশে আগমন করেন।
দেশ প্রত্যাব

স্বর্তন ও বিভিন্ন বিহারে বর্ষাবাস যাপন :
*******************************************
তারপর তিনি নানুপুরে ৫ বছর এবং হিঙ্গলে ৬ বছর অতিবাহিত করেন। ১৯৫২ খ্রি: তিনি বৈদ্যপাড়া শাক্যমুনি বিহারে আসেন এবং সেখানে ১৫ বছর অতিবাহিত করেন। ১৯৬৭ খ্রি: বৈদ্যপাড়া হতে বিদায় নিয়ে তিনি মির্জাপুর শান্তিধাম বিহারে বিহারাধ্যক্ষ হিসেবে আসেন। ১৯৭৫ খ্রি: সাতবাড়িয়া শান্তিধাম
বিহারে পরম শ্রদ্ধেয় অভয়্তিশ্য মহাস্থবিরের শবদাহ ক্রিয়া সমাপ্ত হলে ২৭শে ফেব্রুয়ারী তিনি সংঘরাজ নিকায়ের সংঘরাজ পদে অভিষিক্ত হন।

গ্রন্থ রচনা ও ত্রিপিটক প্রচার বোর্ড প্রতিষ্ঠা :
**************************************
শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ শীলালঙ্কার মহাস্থবির বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি বৌদ্ধ মিশন প্রেসে জরিত থেকে এবং “সংঘশক্তি পত্রিকায় সম্পাদনা করে অনেক বই প্রকাশ করেছেন”। ১৯৬৪ খ্রি: তিনি শ্রদ্ধেয় জ্ঞানশ্রী স্থবিরের সহিত মিলিত হয়ে “ত্রিপিটক প্রচার বোর্ড” প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলী:
রাহুল চরিত, ধর্মপদার্থকথা (যমক বর্গের অনুবাদ), অজাতশত্রু, বিমানবত্থু, জীবক, বিশাখা, আনন্দ, বুদ্ধযুগে বৌদ্ধ নারী, বৌদ্ধ নীতি মঞ্জরী, জাতকাবলী ও বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের ক্রমবিকাশের ধারা ইত্যাদি।

৮ম সংঘরাজের দু'টি বাণী :
*************************
১) শোকের অনুভূতি যেখানে গভীর ভাব সেখানে স্তব্ধ; অনাবিল আনন্দই জাগে হৃদয়ের উচ্ছ্বাস।

২) শতাব্দীর সমবয়সী আমি একুশ শতকে পা রাখতে চলেছি; কালের স্বাক্ষী হয়ে দেখে চলেছি মানুষের অধঃপতন। তাই মনে সংশয়াকুল জিজ্ঞাসা মানুষ কী কখনো মানুষ হবে না!

মহাজীবনের মহাপ্রয়াণ :
***********************
ঊনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সংঘমনীষা, এশিয়া বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ.ধর্মীয়গুরু, অগ্গমহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধ্বজ, অগ্রমহাপণ্ডিত, সাহিত্যরত্ন উপাধিতে বিভূষিত, মির্জাপুর শান্তিধাম বিহারের আমৃত্যু অধ্যক্ষ, মহামান্য।অষ্টম সংঘরাজ ভদন্ত শীলালংকার মহাথেরো মহোদয় ২০০০ সালের।২৩ শে মার্চ দুপুর ২.০৫ টায় মির্জাপুর শান্তিধাম বিহারে শিষ্য-সেবক, ভক্ত,।অনুরাগী, দায়ক-দায়িকা এবং দেশবাসীকে শোকের সাগরে ডুবিয়ে এ।মহান
 সংঘমনীষা মহাপ্রয়াণ করেন।
“অনিচ্চা বত সংখারা” 

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement