Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বুদ্ধ শাসন বীর্যস্তম্ভ শাসনধ্বজ অগ্রমহাপণ্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির

প্রারম্ভেই পূজনীয় ভারতীয় সংঘরাজ প্রয়াত ধর্মাধার মহাস্থবিরের ভাষ্যমতে উল্লেখ করি “পণ্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবিরের মত একাধারে এত বড় অগ্রমহাপণ্ডিত , শীলবান, সুবক্তা, লেখক, সমালোচক, গ্রন্থপ্রণেতা, সমাজ সংগঠক, অক্লান্তকর্মী ও সর্বত্যাগী সাধক যে কোন সমাজেই বিরল। অসংখ্য সদ্গুণের সমাবেশ তাঁহাকে মহনীয় করিয়াছিল। বাংলার বৌদ্ধ ধর্ম ও সমাজকে তিনি একশত বছর আগাইয়া দিয়াছিলেন।” এ নিবন্ধের আলোচ্য মহাপুরুষ শ্রদ্ধেয় ভদন্ত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির একাধারে সাহিত্যিক, কবি, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, অনুবাদক, সংগঠক, সমাজ সংস্কারক, কর্মবীর, বাগ্মী এবং সর্বোপরি সর্বত্যাগী সাধক। এহেন বহুমুখী বিরলপ্রজ প্রতিভাধরের জন্ম ১৮৭৯ইং ৩১ ডিসেম্বর ২৪২৭ বুদ্ধাব্দ ১৪ পৌষ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী থানার বৈদ্যপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত বৌদ্ধ পরিবারে। তাঁর পিতার নাম নাগর চাঁদ বড়ুয়া ও মাতার নাম সুভদ্রাদেবী। ৫ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।


পালি-বাংলা-সংস্কৃত ও ইংরেজী সাহিত্যে সু-পণ্ডিত বুদ্ধ পরিচয়, পালি ব্যাকরণ, নীতিরত্ন, প্রসন্নজিতোপাখ্যান, বৌদ্ধালংকার প্রভৃতি গ্রন্থপ্রণেতা শিক্ষাবিদ সাধু নবরাজ বড়ুয়া ছিলেন তাঁর অগ্রজ ভ্রাতা। পণ্ডিত নবরাজের হাত ধরে তিনি তাঁর শিক্ষা জীবন প্রারম্ভ করেছিলেন। ১৮৮৪ সালে গ্রাম্য পাঠশালায় তিনি তাঁর উচ্চ শিক্ষা জীবন শুরু করেন। তীক্ষ্ম মেধা, অধ্যবসায় ও গভীর নিষ্ঠাগুণে তিনি ডবল প্রমোশন নিয়ে ছাত্রবৃত্তি বা মধ্য বাংলায় উত্তীর্ণ হন। দুর্ভাগ্যক্রমে সাত বছর বয়সে অগ্রজ নবরাজ বড়ুয়ার প্রয়াণ হলে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটে। অতঃপর ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যবসা কর্ম সম্পাদনের পর ১৯০০ খৃষ্টাব্দের কার্তিকী পূর্ণিমায় সংঘরাজ পূর্ণাচারী ধর্মাধারী চন্দ্রমোহন মহাস্থবিরের নিকট ২৬ জন প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ ও শতশত আত্মীয় স্বজনের সমাগমে তাঁকে প্রব্রজ্যিত করা হয়। তাঁর নাম দেওয়া হয় প্রজ্ঞারতœ শ্রামণ। এবং বৈদ্যপাড়া গ্রামের শাক্যমুনি বিহারের পবিত্র পাষাণ সীমায় শ্রদ্ধেয় পূর্ণাচার চন্দ্রমোহন ভন্তের উপাধ্যায়াত্বে উপসম্পদা কার্য সম্পাদিত হয়। গুরুর নিকট ধর্ম বিনয় শিক্ষণের পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে ১৯০৩ সালের অগ্রহায়ণ মাসে তিনি বার্মায় (বর্তমানে মিয়ানমার) গিয়ে তথাকার মৌলমেন নগরের বিখ্যাত বৈজয়ন্ত বিহারের প্রধান অধ্যক্ষ উ. সাগর মহাস্থবিরের নিকট পুনঃ উপসম্পদা নেন। এবং তাঁর নব নামকরণ হয় প্রজ্ঞালোক ভিক্ষু।

বার্মায় কিছুকাল ধর্ম বিনয় শিক্ষান্তে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে পাহাড়তলীর হরগোবিন্দ মুৎসুদ্দী প্রমুখ উদারপ্রাণ দায়কদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘সদ্ধর্মোদয় পালি বিদ্যালয়’। ১৯০৯ সালে নাইখাইন গ্রামে গুরু স্মৃতি পূজার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘পূর্ণাচার পালি বিদ্যালয়’ এবং তথায় নির্মাণ করেন বিহার, ভিক্ষু সীমা, ধাতুচৈত্য ও বোধিবৃক্ষ। এ সময়ে তিনি সংকলন করেন ‘পালি পঠমসিক্খা’। তদীয় গুরু মহাচার্য ২য় সংঘরাজের মহাপ্রয়াণে ১৯০৯-১০ সালে তিনি গুরুর জীবনী পূর্ণাচার চন্দ্রমোহন, ১৯১০ সালে পালি কর্মবাচা, ভিক্ষু কর্তব্য সহ আরো কিছু গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। ১৯১৩ সালে বিনয়াচার্য বংশদীপ মহাস্থবিরের আহ্বানে জ্ঞানতাপস জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবিরকে সাথে নিয়ে শ্রীলংকার পানাদূরে সদ্ধর্মোদয় পরিবেণে মহাপ-িত আচার্য উপসেন মহাস্থবিরের নিকট অর্থকথা সহ ত্রিপিটক অধ্যয়ন করে ১৯১৪ সালের শেষের দিকে স্বদেশে ফিরে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন কুসংস্কার দূরীকরণে বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মযাত্রায় বের হন। ১৯১৬ সালে পটিয়া থানার করলডেঙ্গা গ্রামে ‘অরণ্য’ নামক বনাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন পবিত্র ভিক্ষুসীমা ও পর্ণশালা। ১৯১৭ সালে আকিয়াব প্রবাসী বৌদ্ধদের অনুরোধে তথাকার জাতীয় বৌদ্ধ বিহারে গমন করেন এবং সেখানে রচনা করেন ধমসংহিতা (১ম-৪র্থ ভাগ) সানুবাদ, ভিক্ষু প্রাতিমোক্খং, দানমঞ্জুরী(পদ্য), শম্ভুমিত্র, নারকীয় দুঃখ বর্ণনা, দেবদূত সূত্র, সদ্ধর্ম রঞ্জিকা, বিশুদ্ধি মার্গ (শীল নির্দেশ), রত্নমালা বিশোধনী ও তেলকটাহ কথা (সানুবাদ)।

১৯২১ সালে বার্মার চেরিপোক্ত অরণ্যাশ্রমে ১ বছর নির্জনে ধ্যানে অভিরমিত থাকেন। অতঃপর ১৯২১ সালে বছর কয়েক আগে অগ্নিদগ্ধ রেঙ্গুন ধর্মদূত বিহারে গিয়ে সেখানকার দায়কদের বিহার পুনঃ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে জন্মভূমি চট্টগ্রামে চলে আসেন। ১৯২২ সালে কানাইমাদারী ও মিরসরাইয়ের মায়ানী সুদর্শন বিহার প্রতিষ্ঠা ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৩ সালে পটিয়া থানার তেকোটা গ্রামে সশিষ্যে অবস্থান করে তথায় ধর্মসেনাপতি সারিপুত্র ও ঋদ্ধিশ্রেষ্ঠ মহামোদ্গল্যায়নের প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৪ সালে রেঙ্গুনে গিয়ে ধর্মদূত বিহার পুনঃ নির্মাণ করেন। ১৯২৫ সালে ২য় বার শ্রীলংকায় যান গুরুবর্গকে দর্শন করতে। ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে শাস্ত্রজ্ঞ মহানায়ক উপসেন মহাস্থবিরের নিকট ধর্ম বিনয় শিক্ষান্তে ঐ বছরের শেষে বার্মায় গিয়ে ধর্মদূত বিহারের অবশিষ্ট কাজ সম্পাদন করতঃ ১৯২৭ সালে ভারতে তীর্থ ভ্রমণে যান।

১৯২৮ সালের ১২ আগষ্ট ১৫ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বৌদ্ধ মিশন। মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল (১) প্রেস প্রতিষ্ঠা, (২) পত্রিকা প্রকাশ, (৩) বঙ্গাক্ষরে ত্রিপিটক প্রকাশ, (৪) পালি গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশ ও আদর্শ পালি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। মিশনের একমাত্র মুখপত্রের নামকরণ হয় ‘সংঘশক্তি’, যেটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রদ্ধেয় ভদন্ত নিজে এবং প্রধান সম্পাদক হন ২য় শিষ্য শ্রদ্ধেয় আর্যবংশ ভিক্ষু। এ মিশনের অপরাপর সহযোগিরা হলেন কবি জ্যোতিঃপাল, সুবোধিরত্ন মহাস্থবির, ডাঃ নিরোদ বরণ তালুকদার, রবীন্দ্র বড়–য়া প্রমুখ। ঐ বছরই আকিয়াবে বংগীয় বৌদ্ধ বিহারের শাখা স্থাপন করেন। ১৯৩০ সালে বৃত হন কলিকাতার কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবির প্রতিষ্ঠিত ধর্মাংকুর সভার সভাপতি ও অধ্যক্ষ পদে, সমণ পূণ্ননান্দ স্বামীর মৃত্যুতে।

১৯৩১ সালে কানাইমাদারী বিদর্শনারামে ১৫দিন ব্যাপী ভিক্ষু পরিবাসব্রত উদ্যাপন করেন। সে বছর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বার্মায় এক হাজার ভিক্ষুসংঘকে সংঘদান করেন। এবং তথায় খ্যাতনামা ৭৫ জন সদস্য বিশিষ্ট সাংঘিক সদস্যদের সভায় তাঁকে ‘বুদ্ধশাসন বীর্যস্তম্ভ শাসনধ্বজ’ উপাধি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সাল হতে আমৃত্যু ৩১ ডিসেম্বর তাঁর পবিত্র জন্ম তিথিতে সংঘদান ও জ্ঞাতি ভোজের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন স্ব-উদ্যোগে। ১৯৩২ সালে রেঙ্গুন বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে দর্শন শাখার সভাপতি হিসেবে তত্ত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং চট্টল বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাস্টিপদে আসীন হন। আবার একই বছর সংঘরাজ ভিক্ষু মহাম-লের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

১৯৩৩ সালে বাঁশখালী জলদী ধর্মরতœ বিহারে আকিয়াব আনীত হতে অষ্টধাতু বুদ্ধবিম্ব প্রতিষ্ঠা, বৌদ্ধ সম্মেলন ও সংকীর্তন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং ঐ বছর বুদ্ধগয়ায় বর্ষাব্রত উদ্যাপন করেন। ১৯৩৪ সালে আবার মিশন প্রেসে ফিরে কাজে নিমগ্ন হন। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমার আঘাতে মিশনের ১০ লক্ষ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়, নষ্ট হয় বহু পাণ্ডুলিপি ও যন্ত্রস্থ গ্রন্থ। সবিশেষ উল্লেখ্য যে, শ্রদ্ধেয় ভান্তে কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ মিশন প্রেস ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমূখ বিশ্বখ্যাত মনীষীদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিল। সে বছরই তিনি পদব্রজে আসাম হয়ে স্বদেশে এসে কানাইমাদারী বিদর্শনারামে অবস্থান নেন ধর্ম ও সমাজ সেবায়। ১৯৪৩ সালে মন্বন্তর হলে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ক্রমে সেবা ফান্ড গঠন করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন এবং সে বছর তেকোটা গ্রামে ৬ বিঘা জমির উপর সেবা সদন প্রতিষ্ঠা করে ১১টি বিভাগ সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার বিধান করেন। উল্লেখ্য, সেবা সদনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি নিজে এবং মহাসচিব ছিলেন পূজনীয় ধর্মাধার মহাস্থবির মহোদয়। ১৯৪৪ সালে সর্বপ্রথম জলদী গ্রামে মহাসমারোহে ভিক্ষু পরিবাসব্রত উদ্যাপন করেন। ১৯৪৫ সালে রাজগুরু ভগবানচন্দ্র মহাস্থবির ও শশীমোহন মহাস্থবিরের জয়ন্তীতে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৪৬ সালে কানাইমাদারীতে সাড়ম্বরে এ পুণ্যপুুরুষের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপিত হয়। ১৯৪৭ সালের বন্যায় কানাইমাদারী বিদর্শনারাম ধ্বংস হলে সেটি আবার নির্মাণ করান কাঠের কাঠামোয়।

১৯৪৮ সালে আবার বার্মার ধর্মদূত বিহারে গিয়ে রচনা করেন সতিপট্ঠান, পটিচ্চসমুপ্পাদ, বুদ্ধের যোগনীতি, চারি আর্যসত্য, আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ সাধনা, ষড়ায়তন সূত্র, বিদর্শন ভাবনা, বুদ্ধবাদ, ধর্ম্মপদং (অনোমদর্শী ভিক্ষু সহযোগে), সুত্ত বিভঙ্গ, ভক্তিমালিকা ও হস্তমালিকা। অবশ্য এগুলোর পূর্বে রেঙ্গুন বৌদ্ধ মিশন প্রেস হতে তৎলিখিত থেরগাথা (সানুবাদ), মিলিন্দ প্রশ্ন (বঙ্গানুবাদ), ভিক্ষু কর্তব্য (২য় সংস্করণ), সুত্ত দেশনা, দানমঞ্জুরী (পদ্য ও ২য় সংস্করণ), তেলকটাহ গাথা, প্রবাস সুহৃদ, গঙ্গামাল(নাটক) প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি সিংহল অভিযান, পঞ্চশীল, ছ-ছক্ক সুত্ত, গণক মো¹লায়ন সুত্ত, বহু ধাতুক সুত্ত, ধর্ম সংহিতা, বুদ্ধের ধর্ম পরিচয় সংযুক্ত নিকায়ো, অঙ্গুত্তর নিকায় গাথা, বিশাখোপোসথ সুত্ত, নামরূপ, গৃহী নীতি বুদ্ধ সংকীর্তন, পালি ত্রিপিটক, Buddhism in Brief প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৫৪ সালের ৪ জানুয়ারী তাঁর অসামান্য কর্মপ্রতিভার স্বীকৃতি সরূপ তাঁকে ব্রহ্ম (বর্তমান মিয়ানমার)সরকার প্রদান করেন ‘অগ্রমহাপণ্ডিত’ উপাধি। তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করেন তৎকালীন বার্মার রাষ্ট্রপতি উ. থিন মং এবং উপস্থিত ছিলেন বার্মার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উ.নু। ১৯৫৪-৫৬ সালে বার্মার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উ.নু’র পৃষ্টপোষকতায় অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ মহাসংগীতিতে অংশ নিয়ে ত্রিপিটক বিশোধকের মতো পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারত, বার্মা, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে বই দান করেন। এ তালিকায় ৪৮টি লাইব্রেরীর নাম পাওয়া যায়।

গ্রন্থ সাধনা, সাংগঠনিক কর্ম পরিচালনা, সমাজ, সদ্ধর্ম সেবা, পঠন-পাঠনের পাশাপাশি তিনি শিষ্য সংগঠন করেও সমাজের অতি মহৎ উপকার সাধন করেছেন। তদীয় শিষ্যগণ সকলেই সমাজের এক একজন দিক্পাল। তাঁর শিষ্যগণের মধ্যে জলদীর সমাজ সংস্কারক প্রিয়রতœ প্রথম শিষ্য, সাতকানিয়ার বিনয়াচার্য আর্যবংশ, বিদর্শনাচার্য সুমনাচার, আধুনগরের বিমল কান্তি, মিরসরাইয়ের প্রিয়দর্শী, মায়ানীর সুমঙ্গল, নানুপুরের সংঘরাজ শীলালংকার, ছিলোনিয়ার বিনয়াচার্য জিনবংশ, কানাইমাদারীর সুলেখক ধর্মতিলক, বাগোয়ানের কবি জ্যোতিঃপাল, বৈদ্যপাড়ার প-িত প্রজ্ঞানন্দ (ভ্রাতুষ্পুত্র), জলদীর শাসনবংশ, অতুলানন্দ, দয়ানন্দ, বোধিমিত্র, বাঁশখালী মিজ্রিতলার ড. অনোমদর্শী, রামুর জিনবোধি, চন্দনাইশের ধর্মবিহারী প্রমুখ মহান সংঘ পুরোধাগণ তাঁর অন্তেবাসী-ধর্মান্তেবাসী ছিলেন। তাঁর মত বিরল গুণ সম্পন্ন শিষ্যভাগ্য অতি বিরল।

পরমপুণ্যপুুরুষ প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির মহোদয় স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন। পরিমিত আহার-নিদ্রা ও অপরাপর জীবনাচরণের সুষ্ঠতার জন্য তিনি সুদীর্ঘ ৯১ বৎসর ৫ মাস ১২ দিন এ ধরাধামে পরমায়ু লাভ করেছিলেন। এবং ১৯৭১ সালের ১২ মে এ মহামহিম প্রভুত প্রতিভাশালী মহাজন দেহত্যাগ করেন। এ মহামানবের পবিত্র স্মৃতির প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণতি জানাই এ বলে,

“স্থাপকায় সদ্ধর্মস্য মহাপ্রাজ্ঞ স্বরূপিনে,
ভিক্ষুনাম চ গরিষ্ঠায় প্রজ্ঞালোকতে নমঃ
তথ্য 


Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement