বুদ্ধের বোধিজ্ঞান লাভের পূর্বে অর্থাৎ বুদ্ধত্বলাভের আগে পৌত্তলিক যুগে মানুষ, দেবতা এবং ব্রহ্মাগণ আর্যধর্ম থেকে দূরে ছিলেন। তাই, কোন ব্যক্তি মার্গফল লাভ করতে পারতেন না। ফলে কুশর কর্ম ও অকুশল কর্মের ফলচক্রে জীবনযাপন করতেন আর জরা, ব্যাধি, মরণ ও বার্ধক্যজনিত দুঃখেই তাদের সকলের জীবন কাটাতেন।
পৌত্তলিক যুগ বা বুদ্ধের শাসনহীন কালে জীবদের অবস্থা:
পৃথিবীতে চার আর্যসত্য জ্ঞান প্রাপ্ত কোন সম্যকসম্বুদ্ধ, পচ্চেক বুদ্ধ বা আর্য সাধু বা ধার্মিক ছিলেন না তাই কোনো প্রকৃত পথনির্দেশনাও ছিল না। কেবল কর্ম ও কর্মফল ভোগে সমস্ত মানুষ, দেবতা এবং ব্রহ্মাগণ তাদের পূর্বজন্মের পুণ্যকর্ম অনুসারে স্বর্গলোক, মনুষ্যলোক, নরক, প্রেত, অসুর এবং অন্যান্য জীবজগতে পুনর্জন্ম লাভ করতেন। বুদ্ধত্বলাভ না হওয়া তথা পৌত্তলিক যুগে পচ্চেক বুদ্ধ ও তপস্বীগণ (ঋষি) মাঝে মাঝে এমন তপস্বীগণের (ঋষি) আবির্ভাব ঘটত যাঁরা দিব্য জাগতিক ধ্যান বা লৌকিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং এমন পচ্চেক বুদ্ধগণের আবির্ভাব ঘটত যাঁরা নিজ জ্ঞানে ধর্ম লাভ করলেও তা অন্যদের শিক্ষা বা সদ্ধর্ম দেশনা দিতে পারতেন না।
তথাগত ভগবান বুদ্ধ যখন বুদ্ধত্বলাভ বা বোধিপ্রাপ্ত হলেন, তখন মানুষ, দেব, ব্রহ্মদেব ও সকল জীবের জন্য নিম্নলিখিত বিশেষ উপকারিতাগুলি উদ্ভূত হয়েছিল-
১। ধর্ম শ্রবণের সুযোগ: সংসারচক্র থেকে মুক্তির পথ আর্যধর্ম শ্রবণের সুযোগ হয়ে মার্গফল ও নির্বাণ লাভ বা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
২। দুঃখ থেকে মুক্তি: চতুর্লোকে নিয়ে যেতে পারে এমন অশুভ অবস্থা পরিহার করতে বা অকুশল কর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে শিখেছিলেন এবং সংসারচক্রে দুঃখ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন।
মন্তব্য: বর্তমানে প্রায় সেই পৌত্তলিক যুগের মত আচার ব্যবহার প্রচলিত হতে চলছে। সুতরাং বুদ্ধের শাসন থাকতে বুদ্ধের উপদেশ বা বাণী মেনে চলে শান্তি লাভের অধিকারী হোন।
সবার কল্যাণ হোক।
.jpg)
.jpg)
0 Comments