অশান্তি সইতে না পেরে সে এক প্রজ্ঞাবান গুরুর কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল, "গুরুদেব, এই অনলাইনের দুনিয়ায় মানুষ বড্ড স্বার্থপর হয়ে গেছে! এক সেকেন্ডের একটা মেসেজের উত্তর দিতেও মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয়। সবাই কি আমাকে ইচ্ছা করেই এড়িয়ে চলছে?"
গুরু কিছু না বলে যুবককে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলেন। তারপর নদীর জলে একটি ছোট কাঠের টুকরো ভাসিয়ে দিয়ে বললেন, "এই কাঠটিকে নদীর স্রোতের সাথে সাথে দ্রুত ভেসে যেতে বলো তো।"
যুবক ডাঙ্গায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঠটিকে দ্রুত যেতে বলল, কিন্তু কাঠটি নদীর নিজস্ব ঢেউ আর গতিতেই ধীরে ধীরে বইতে লাগল।
গুরু যুবকের কাঁধে হাত রেখে শান্ত কণ্ঠে বললেন, "তুমি অনলাইনের স্ক্রিনে কেবল একটি 'মেসেজ' দেখছ, কিন্তু সেই পর্দার ওপারে মানুষটির জীবনের বাস্তব ঝড়-ঝাপটা দেখতে পাচ্ছ না। সে হয়তো সেই মুহূর্তে কোনো পারিবারিক সংকটে আছে, কোনো মানসিক চাপ সামলাচ্ছে, কিংবা কেবলই একটু একা থাকার চেষ্টা করছে।"
গুরু আরও বললেন, "তুমি নদীকে নিজের মতো দ্রুত চালাতে পারো না, নদী তার নিজের ছন্দেই বইবে। তেমনই, অন্যের সাড়াশব্দের ওপর নিজের মানসিক শান্তিকে পিন করে রেখো না। মানুষ তার নিজের জীবনের ব্যস্ততা ও সময়ে উত্তর দেবে—তাতে তোমার নিজের আত্মসম্মান বা মূল্য বিন্দুমাত্র কমে যায় না।"
যুবকটি হাত থেকে ফোনটি পকেটে রেখে এক গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সে বুঝতে পারল, অনলাইনের নোটিফিকেশনের গতির ওপর নিজের মনের শান্তিকে সঁপে দেওয়াটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
অন্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নিজের মান-সম্মান বা মানসিক শান্তি ঝুলিয়ে রেখো না। যে যার জীবনের স্রোতে ভাসছে; সবাইকে তার নিজের গতিতে বাঁচতে দাও, আর তুমি বাঁচো নিজের শান্তিতে।
0 Comments