Hot Posts

6/recent/ticker-posts

ADD

মূল নিবাসী বৌদ্ধরাই শুদ্র আখ‍্যায়িত হয়েছে

মূল নিবাসী অর্থাৎ শুদ্র বর্গের লোকদের এখনও সময় আছে, বাস্তবিক ইতিহাস পর্যন্ত পৌঁছার। ভারতের রাজস্থানের এক অনেক বিশাল মীনা সম্প্রদায় এবং গুর্জর সম্প্রদায় রয়েছে, যাঁরা বাস্তবে নিজেদের ইতিহাস পর্যন্ত পৌঁছতে চেষ্টা করছেন, তাঁদেরকে বৌদ্ধদের মধ‍্যেই নিজেদের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে হবে। কেননা, প্রকৃত সত‍্য ইহাই যে, এরা পূর্বকালে সকলেই ছিলেন বৌদ্ধ।

এখানে প্রচলিত হিন্দু ধর্ম মূল নিবাসীদের ধর্ম নয়। যদি তা নিজেদের ধর্ম হতো, তাহলে তারা আপনাদের সাথে যথাসম্ভব সমতাভাব রাখত। আপনাদেরকে গোলাম, নীচ এবং শুদ্র রূপে গণ‍্য করতো না। কিন্তু তারা আপনাদের সাথে উঁচু-নীচু ভেদভাব করে থাকে।
এরকম বৈষম‍্য করার কারণ হল তারা মূলত: ভারতের নয়, বিদেশী মূলের অর্থাৎ যমনীয়া ব্রাহ্মণ, যারা বাস্তবে বিদেশী এবং ইহুদী ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত।
পুরাতাত্বিক সাক্ষ‍্য সমূহের আধারেই দেখা উচিত হবে। বিরাট নগরের (বৈরাঠ) সবচেয়ে অকাট‍্য, বৈজ্ঞানিক এবং প্রমাণিত ইতিহাস মৌর্যকাল এবং বৌদ্ধ ধম্মের সাথে যুক্ত রয়েছে, যার ভৌতিক এবং লিখিত সাক্ষ‍্য এখনও উপলব্দ হয়। কেননা পূর্বে উত্তরের লোকমান‍্যতা (Mythology) এবং পুরাতাত্বিক (Archeology) তথ‍্য সমূহকে এক সাথে মিলিয়ে দেখা হতো, তাতে ইতিহাসের মুখ‍্য ছবি ধুঁয়াসাচ্ছন্ন হয়ে যেতো। আসুন, ইহার বাস্তবিক ইতিহাস এবং উপলব্দ সাক্ষ‍্য সমূহকে স্পষ্টরূপে বুঝার চেষ্টা করি।
১) মৌর্যকাল এবং সম্রাট অসোকের একাডেমিক এবং পুরাতাত্বিক সাক্ষ‍্য
——————————————
বৈরাঠ হল ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থল সমূহের মধ‍্যে অন‍্যতম। সেখানে হতে প্রাপ্ত মৌর্যকালীন সাক্ষ‍্য সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত।
ভাব্রু (বৈরাঠ) শিলালেখ: এখানকার 'বীজকের পাহাড়' হতে সম্রাট অসোকের প্রসিদ্ধ ভাব্রু শিলালেখ পাওয়া গিয়েছে। যা বর্তমানে কোলকাতা যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ শিলালেখনীতে সম্রাট অসোক স্পষ্টরূপে বৌদ্ধ ধম্মোর 'ত্রিরত্ন' অর্থাৎ বুদ্ধ, ধম্ম, সঙ্ঘের প্রতি নিজের আস্থা ব‍্যক্ত করেছেন। ইতিহাসে ইহা হল সম্রাট আসোকের বৌদ্ধ ধম্মানুসারী হওয়ার সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমাণ।
গোলকার বৌদ্ধ স্তূপ এবং মন্দির: এখানে খননকার্যে ইটের নির্মিত গোলাকার একটি বৌদ্ধ চৈত‍্যগৃহ পাওয়া গিয়েছে, যাকে ভারতে এ শ্রেণীর সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত‍্য বলে মান‍্য করা হয়।
সম্রাট অসোকের মাতুলালয় এবং সম্বন্ধ: কিছু ঐতিহাসিক গবেষণা এবং বৌদ্ধ গ্রন্থ অনুসারে, সম্রাট অসোকের মাতা সুভদ্রাঙ্গী বা ধম্মার সম্বন্ধ অত্র এলাকার আশেপাশের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। যে কারণে সম্রাট অসোকের সাথে এ অঞ্চলের গভীর ব‍্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং তিনি এখানে স্তূপ এবং বিহার নির্মাণ করিয়েছিলেন।
২) পাণ্ডব এবং ভীমকুণ্ডের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে কি?
———————————-
না, সেরকম পুরাতাত্বিক বা ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে এখানে পাণ্ডব এবং ভীমকুণ্ড থাকার কোনো ভৌতিক প্রমাণ (Empirical Evidence) নাই।
লোক-মান‍্যতা বনাম ইতিহাস: ভীমকুণ্ড, ভীমের লট বা কীচকের মহলের মতো কাহিনীগুলি হল সম্পূর্ণরূপে মৌখিক পরম্পরা (Folklore) এবং পৌরাণিক কাহিনী আধারিত। পুরাতত্ব বিভাগের (ASI) নিকট এরকম কোনো গবেষণা পত্র বা সাক্ষ‍্য নাই, যা সিদ্ধ করে থাকে যে, মহাভারত কালের পাত্র এখানে ভৌতিকরূপে উপলব্দ ছিল।
সচরাচরভাবে ভারতে যেখানেই বিশাল পাথর বা প্রাকৃতিক জলকুণ্ড দেখা যায়, স্থানীয় লোকেরা ইহাকে ভীম বা পাণ্ডবের সাথে যুক্ত করে দেয়। একাডেমিক ইতিহাসে ইহাকে সাক্ষ‍্য মানা হয়না।
ভ্রম দূর করা জরুরী কেনো?
———————————-
আপনাদের এরূপ ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রাসঙ্গিক যে, যখন আমাদের নিকট সম্রাট অসোক বা মৌর্য বংশের এতই শক্ত এবং গৌরবশালী ঐতিহাসিক প্রমাণ উপলব্দ রয়েছে, তখন কাল্পনিক কাহিনী সমূহকে গুরুত্ব দিতে যাওয়া উচিত নয়। বাস্তবিক ইতিহাসকে চেপে পৌরাণিক কাহিনী সমূহকে বাড়িয়ে রং মাখিয়ে পেশ করলে সমাজে বৈজ্ঞানিক চেতনা (Scientific Temperament) দুর্বল হয়ে থাকে। বৈরাঠ হল বাস্তবে বৌদ্ধ সংস্কৃতি, মৌর্য স্থাপত‍্য এবং সম্রাট অসোকের ধম্ম বার্তার এক মহান কেন্দ্র এবং সেজন‍্য ইহার সেভাবে পরিচয় হওয়া উচিত। যদি আপনি বৈরাঠ হতে যুক্ত মৌর্যকালীন খনন (Archeological Excavation) বা অধিক বিস্তারভাবে জানতে চান, তাহলে এ সম্বন্ধে আরও অধ‍্যয়ন করে জেনে নিতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement