আটানাটিয় সুত্র হচ্ছে ত্রিপিটকের দীর্ঘ নিকায়ের ৩২নং সুত্র। বিভিন্ন অপদেবতার হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এই সুত্রটি বুদ্ধ তার অনুসারীদেরকে দিয়ে গেছেন। আমি এখানে সুত্রটি সহজ ভাষায় অনুবাদ করেছি, এবং অর্থকথা থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর অর্থ ও ব্যাখ্যা ইটালিক করে যোগ করে দিয়েছি। আশা করি সুত্রটি সবার কাছে সহজবোধ্য হবে। লাল রঙের কথাগুলো হচ্ছে অর্থকথার ব্যাখ্যা। – জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু
প্রথম অংশ
চারি মহারাজার ভগবানকে আটানাটিয় সুত্র প্রদান
২৭৫। আমি এমন শুনেছি, এক সময় ভগবান রাজগৃহের গৃধ্রকূট (অর্থাৎ শকুনের চুড়া) পর্বতে অবস্থান করছিলেন। তখন চারি মহারাজা বিশাল যক্ষসেনাবাহিনী, বিশাল গন্ধর্বসেনাবাহিনী, বিশাল কুম্ভণ্ডসেনাবাহিনী ও বিশাল নাগসেনাবাহিনী নিয়ে চারদিকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে, চারদিকে সেনাদল স্থাপন করে, চারদিকে পাহারার ব্যবস্থা করে রাতের শেষের দিকে মনোহর রূপে সেই গৃধ্রকূট পর্বতকে আলোয় উদ্ভাসিত করে ভগবান যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে গেলেন।
এখানে চারদিকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে, চারদিকে সেনাদল স্থাপন করে, চারদিকে পাহারার ব্যবস্থা করে মানে হচ্ছে অসুরসেনাদেরকে ঠেকানোর জন্য চারি মহারাজা প্রথমে দেবতাদের ইন্দ্র সক্কের চারদিক ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলেন, চারদিকে শক্তিশালী সেনাদল বসিয়েছিলেন, চারিদিকে প্রহরী নিযুক্ত করেছিলেন। এভাবে দেবতাদের ইন্দ্র সক্কের সুরক্ষার সুব্যবস্থা করে চারি মহারাজা এরপর আটানাটা নগরে সম্মিলিত হলেন এবং সপ্তবুদ্ধকে উপলক্ষ করে এই পরিত্রাণ রচনা করেছিলেন। আটানাটা নগরে এই পরিত্রাণটি রচিত হয়েছিল বলেই এর নাম হয়েছে আটানাটিয় সুত্র। এই পরিত্রাণ রচনার পরে তারা ঘোষণা করলেন, “যারা শাস্তার ধর্মআদেশ এবং আমাদের রাজআদেশ শুনবে না তাদেরকে এই এই করব।” এই ঘোষণা করে তারা নিজেদের চারদিকেও যক্ষ ইত্যাদির বিশাল সেনাদল নিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে রাতের শেষের দিকে ভগবানের কাছে গিয়েছিলেন।
সেই গৃধ্রকূট পর্বতকে আলোয় উদ্ভাসিত করে মানে হচ্ছে সমস্ত গৃধ্রকূট পবর্তকে তাদের বস্ত্র, মালা, অলঙ্কার ও শরীর থেকে নিঃসৃত আলোয় চন্দ্রসূর্যের মতো আলোকিত করে।
সেখানে পৌঁছে ভগবানকে অভিবাদন জানিয়ে তারা একপাশে বসলেন। সেই যক্ষরাও কেউ কেউ ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসল, কেউ কেউ ভগবানের সাথে প্রীতিসম্ভাষণমূলক আলাপ করল, প্রীতিআলাপ শেষে একপাশে বসল, কেউ কেউ ভগবানের প্রতি দুহাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে একপাশে বসল, কেউ কেউ নিজেদের নামধাম জানিয়ে একপাশে বসল, কেউ কেউ নিরবে একপাশে বসে পড়ল।
দেবতারা ভগবানের সামনে বসে থেকেছেন এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। এই সুত্রে কিন্তু পরিত্রাণটির প্রতি গৌরবতা প্রদর্শন করার জন্য তারা বসেছিলেন।
২৭৬। একপাশে বসে মহারাজ ৰেস্সৰণ ভগবানকে এরূপ বললেন, ‘ভান্তে, উচ্চশ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট। ভান্তে, উচ্চশ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি সন্তুষ্ট। ভান্তে, মধ্যম শ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট। ভান্তে, মধ্যম শ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি সন্তুষ্ট। ভান্তে, নিচু শ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট। ভান্তে, নিচু শ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি সন্তুষ্ট। তবে বেশিরভাগ যক্ষই হচ্ছে ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট। তার কারণ কি? ভান্তে, ভগবান প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন, না দেয়া জিনিস গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন, মিথ্যা কামাচার হতে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন, মিথ্যা বলা হতে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন, মদ ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন। ভান্তে, বেশিরভাগ যক্ষ প্রাণিহত্যা হতে বিরত নয়, না দেয়া জিনিস গ্রহণ হতে বিরত নয়, মিথ্যা কামাচার হতে বিরত নয়, মিথ্যা বলা হতে বিরত নয়, মদ ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরত নয়। তাদের কাছে এধরনের ধর্মদেশনা অপ্রিয় এবং অপছন্দের। ভান্তে, ভগবানের অনেক শিষ্য আছেন যারা অরণ্যে ও গহীন বনে অবস্থান করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন, যেখানে শব্দ কম, কোলাহল কম, নিরালা পরিবেশ, মানুষজনশূন্য, নির্জনতার অনুকুল। সেখানে উঁচু শ্রেণির যক্ষরা থাকে যারা ভগবানের কথায় অসন্তুষ্ট। ভান্তে, ভগবান তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখার মাধ্যমে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি শিখে নিন।’ ভগবান নিরবে সম্মতি দিলেন।
এখানে যদিও ভগবানের কাছে চারজন মহারাজাই এসেছিলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মহারাজ ৰেস্সৰণ ছিলেন ভগবানের কাছে আপন মানুষের মতো (ৰিস্সাসিকো), কথাবার্তায় দক্ষ এবং সুশিক্ষিত, তাই তিনিই ভগবানকে এই কথাগুলো উত্থাপন করেছিলেন।
উচ্চশ্রেণির বলতে বুঝিয়েছে মহাশক্তিশালী ও মহাপ্রভাবশালী শ্রেণির।
প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন মানে হচ্ছে প্রাণিহত্যার কারণে ইহ ও পরকালে বিভিন্ন কুফলের কথা দেখিয়ে দিয়ে তা থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন।
সেখানে উঁচু শ্রেণির যক্ষরা থাকে মানে হচ্ছে সেই গহীন অরণ্যে উচ্চশ্রেণির যক্ষরা সর্বদা বসবাস করে থাকে। তাদের স্থায়ী বাসস্থান হচ্ছে সেখানে।
আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি শিখে নিন বলা হলো কেন? ভগবানের শেখার কিছু বাকি আছে নাকি? না, নেই। তাহলে কেন ৰেস্সৰণ ভগবানকে বললেন, “ভান্তে, ভগবান এই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি শিখে নিন”? ৰেস্সৰণ এরূপ বলেছিলেন ভগবানকে এই পরিত্রাণটি শোনানোর একটা উপলক্ষ তৈরি করার জন্যে। কেউ কেউ বলেন, শাস্তা বললে এই পরিত্রাণটি আরো গুরুত্ববহ, আরো কার্যকর হবে, সেকারণেই ৰেস্সৰণ ভগবানকে এই পরিত্রাণটি শুনিয়েছিলেন।
এরপর মহারাজ ৰেস্সৰণ ভগবানের সম্মতি জেনে সেই সময়ে এই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র উচ্চারণ করলেন,
২৭৭। চক্ষুষ্মান এবং শ্রীসম্পন্ন বিপস্সীকে নমস্কার।
সকল জীবের প্রতি দয়ালু সিখিকে নমস্কার।
স্নানকারী তপস্বী বেস্সভুকে নমস্কার।
মারসেনাকে মর্দনকারী ককুসন্ধকে নমস্কার।
ব্রাহ্মণ এবং ব্রহ্মচর্যজীবন পরিপূর্ণ কোণাগমনকে নমস্কার।
সর্বত্র বিমুক্ত কশ্যপকে নমস্কার।
শাক্যপুত্র শ্রীসম্পন্ন অঙ্গীরসকে নমস্কার,
যিনি এই সকল দুঃখ দূরকারী ধর্ম দেশনা করেছেন।
যথাযথভাবে দেখে জগতে তাদের সমস্ত ক্লেশ নির্বাপিত হয়েছে,
তারা ভেদবাক্যভাষী নন, তারা মহান এবং নির্ভীক।
দেবমানবের হিতের জন্য গৌতমকে নমস্কার করুন,
যিনি হচ্ছেন বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন, মহান এবং নির্ভীক।
এখানে কেবল ৰিপস্সী ভগবানই যে চক্ষুষ্মান তা নয়, সাতজন বুদ্ধের সবাই হচ্ছেন চক্ষুষ্মান। অন্যান্য গুণগুলোও সকল বুদ্ধের মাঝে বিদ্যমান। সকল বুদ্ধই হচ্ছেন চক্ষুষ্মান, সকল বুদ্ধই হচ্ছেন সকল জীবের প্রতি দয়ালু, সকল বুদ্ধই ক্লেশগুলো ধুয়ে ফেলেছেন বলে স্নানকারী। সকল বুদ্ধ হচ্ছেন মারসেনা মর্দনকারী, সকল বুদ্ধেরই ব্রহ্মচর্যজীবন পরিপূর্ণ। তারা সবাই বিমুক্ত, তাদের সবার অঙ্গ থেকে রশ্মি নিঃসৃত হয় বলে তারা হচ্ছেন অঙ্গীরস। কেবল এই সাতটি নামই নয়, অসংখ্য গুণসম্পন্ন বুদ্ধগণের রয়েছে এমন অসংখ্য নাম। তবে এখানে ৰেস্সৰণের নিজের কাছে যেগুলো সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও স্পষ্ট মনে হয়েছে সেই নামগুলোই কেবল বলেছেন।
২৭৮। যেখান থেকে মহা দেদীপ্যমান সূর্য গোলক উদিত হয়,
যার উদয়ে রাতের শেষ হয়,
যার উদয়কে ‘দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
সেখানকার হ্রদ হচ্ছে গভীর, সেখানকার সমুদ্র হচ্ছে বিস্তীর্ণ জলরাশি;
এভাবে সেখানে জানা হয়, ‘সমুদ্র হচ্ছে বিস্তীর্ণ জলরাশি।’
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে পূর্বদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন গন্ধর্বদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ধৃতরাষ্ট্র।
গন্ধর্বদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও মহান এবং নির্ভীক আদিত্যবন্ধুকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন। তারা বলেন,
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে দেখ, তাই অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা আমরা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে পূর্বদিক,’ মানে হচ্ছে সিনেরু পর্বত থেকে পূর্বদিকে অথবা তারা যেস্থানে বসেছিলেন সেস্থান থেকে পূর্বদিকে।
একই নাম ‘ইন্দ্র’ মানে হচ্ছে ইন্দ্রের নামে একই নাম। তাদের সবারই নাকি দেবরাজ সক্কের নামে ‘ইন্দ্র’ নামকরণ করা হয়েছিল।
আদিত্যবন্ধু হচ্ছে বুদ্ধের আরেক নাম। সূর্য অদিতির পুত্র বলে তাকে আদিত্য নামে ডাকা হয়। সূর্য সকল অন্ধকারকে দূরীভূত করে। বুদ্ধও সকল ক্লেশনিদ্রাকে দূরীভূত করে বুদ্ধ হয়েছেন। এদিক দিয়ে তিনি আদিত্যের সমগোত্রের বলে বুদ্ধকে বলা হয় আদিত্যবন্ধু।
দক্ষতার সাথে দেখ এর মানে হচ্ছে তুমি নিখুঁত বা নিপুণভাবে সর্বজ্ঞতাজ্ঞানে মহাজনতাকে অবলোকন কর। অমনুষ্যরাও “তুমি সর্বজ্ঞতাজ্ঞানে মহাজনতাকে অবলোকন কর” বলে তোমাকে বন্দনা করে থাকে। সেটা আমরা সবসময় শুনতে পাই। তাই আমরা এরূপ বলছি।
২৭৯। যেকারণে প্রেত বলা হয়ে থাকে,
ভেদবাক্য, পৃষ্ঠমাংসখাদক,
প্রাণিহত্যাকারী, নিষ্ঠুর, চোর, প্রতারকেরা।
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে দক্ষিণদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন কুম্ভণ্ডদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘বিরুল্হ’।
কুম্ভণ্ডদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও মহান এবং নির্ভীক আদিত্যবন্ধুকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে দেখ, তাই অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা আমরা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
এখানে প্রেত বলতে বুঝিয়েছে কালগত ব্যক্তিদেরকে। মৃত ব্যক্তিদেরকে সাধারণত দক্ষিণ দিক দিয়ে নগর থেকে বের করে আনা হয়।
ভেদবাক্য, পৃষ্ঠমাংসখাদক মানে হচ্ছে ভেদবাক্য ভাষণকারী এবং অপরের অনুপস্থিতিতে নিন্দাকারী।
প্রাণিহত্যাকারী, নিষ্ঠুর, চোর, প্রতারকেরা মানে হচ্ছে এদেরকে যে যে কারণে নগর থেকে বের করে দেয়া হয়, তাদের সবাইকে নগরের দক্ষিণ দরজা দিয়ে বের করে দিয়ে নগরের দক্ষিণ দিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়, কেটে ফেলা হয়, অথবা হত্যা করা হয়।
সেটা হচ্ছে দক্ষিণদিক মানে হচ্ছে যেদিক দিয়ে “সেই প্রেত এবং ভেদবাক্য ভাষণকারী ইত্যাদিরা বেরিয়ে যাক” বলে বলা হয়ে থাকে তা হচ্ছে এখান থেকে দক্ষিণদিক।
কুম্ভণ্ড দেবতারা নাকি বড়সড় পেটবিশিষ্ট। তাদের অণ্ডকোষও নাকি কুম্ভ বা কলসির মতো বড় হয়। তাই তাদেরকে কুম্ভণ্ড বলা হয়ে থাকে।
২৮০। যেখানে মহা দেদীপ্যমান সূর্যগোলক ডুবে যায়,
যার অস্তগমনে দিনের শেষ হয়,
যে সূর্যের অস্তগমনকে ‘রাত’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
সেখানকার হ্রদ হচ্ছে গভীর, সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি;
এভাবে সেখানে জানা হয়, ‘সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি।’
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে পশ্চিমদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন নাগদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘বিরূপক্খ’।
নাগদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও মহান এবং নির্ভীক আদিত্যবন্ধুকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে দেখ, তাই অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা আমরা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
২৮১। যেদিকে আছে উত্তরকুরু, সুদর্শন মহাসিনেরু পর্বত,
সেখানে মানুষেরা স্নেহহীন এবং অধিকারবোধহীন হয়ে জন্মায়।
তারা বীজ বপন করে না, লাঙল দিয়ে চাষ করে না।
সেখানে মানুষেরা অকর্ষিত পরিপক্ক শালি পরিভোগ করে।
তারা লালচে আবরণহীন, তুষহীন, শুদ্ধ, সুগন্ধযুক্ত চাল নিয়ে
তুণ্ডিকীরে রান্না করে সেখান থেকেই ভোজন করে।
সিনেরু পর্বত স্বর্ণময় বলে দেখতে সুন্দর, তাই সুদর্শন। সিনেরুর পূর্বপাশ হচ্ছে রৌপ্যময়, দক্ষিণপাশ হচ্ছে মণিময়, পশ্চিমপাশ হচ্ছে স্ফটিকময়, উত্তরপাশ হচ্ছে স্বর্ণময়। এই উত্তরপাশকে দেখতে খুব মনোরম লাগে। তাই উপরোক্ত সুদর্শন মহাসিনেরু পর্বত মানে হচ্ছে, ‘সিনেরুকে যেদিকে সুন্দর দেখায় সেই দিকে’।
স্নেহহীন মানে হচ্ছে উত্তরকুরুর মানুষেরা পোশাক-পরিচ্ছদ, পানীয় ও খাদ্যভোজ্য ইত্যাদির প্রতি মমতাহীন। তারা সেগুলোর প্রতি নিরাসক্ত।
অধিকারবোধহীন মানে হচ্ছে তাদের নাকি “এই হচ্ছে আমার স্ত্রী” এরূপ মমতাবোধ জাগে না। অথবা মা বা বোনকে দেখেও সেরকম কোনো ভাবাবেগ (ছন্দরাগ) অর্থাৎ এটা আমার, ওটা আমার এরূপ ভাব উৎপন্ন হয় না।
অকর্ষিত পরিপক্ক শালি মানে হচ্ছে অকর্ষিত ভূমিতে ও অরণ্যে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয়ে পাকা শালিধান।
তুণ্ডিকীরে রান্না করে কথাটিতে তুণ্ডিকীর হচ্ছে রান্নাপাত্র। সেটা পরিপূর্ণ করে ধোঁয়া ও অঙ্গারবিহীন আগুনে রান্না করে। সেখানে জ্যোতিপাষাণ নামক একধরনের পাথর আছে। তারা সেরকম তিনটা পাথর সাজিয়ে তার উপর রান্নাপাত্র বসিয়ে দেয়। পাথরগুলো থেকে তেজ বেরিয়ে রান্না হয়ে যায়।
সেখান থেকে ভোজন করে মানে হচ্ছে তারা কেবল সেই পাত্র থেকে ভোজন করে। সেখানে অন্য কোনো স্যুপ বা তরকারি হয় না। ভোজনকারীর মনের রুচি মোতাবেক সেই ভোজনের স্বাদ হয়। সেই স্থানে কোনো আগন্তুক আসলে তাকেও তারা সেটাই দেয়, কারণ তাদের মধ্যে কৃপণতার মন নেই। বুদ্ধ, পচ্চেকবুদ্ধ প্রভৃতিগণ সেখানে গিয়ে পিণ্ড গ্রহণ করেন।
গাভীকে একখুর করে তারা দিকে দিকে গমন করে।
পশুকে একখুর করে দিকে দিকে গমন করে।
অথবা নারীকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
পুরুষকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
কিশোরীকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
কুমারকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
গাভীকে একখুর করে মানে হচ্ছে গাভীকে বাহন বানিয়ে তাতে চড়ে ৰেস্সৰণের পরিচারক যক্ষরা দিকে দিকে বিচরণ করে।
পশুকে একখুর করে মানে হচ্ছে গাভী বাদে অন্যান্য চতুষ্পদী পশুকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে তাতে সেই পরিচারক যক্ষরা চড়ে এদিক ওদিক গমন করে।
নারীকে বাহন করে মানে হচ্ছে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভবর্তী নারীকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে। তারা সেই নারীদের পিঠের উপর উঠে বসে দিকে দিকে বিচরণ করে। সেই নারীদের পিঠ নাকি বেশ নমনীয় এবং পিঠের ভার সহ্য করতে পারত অবলীলায়। অন্যরা নারীদেরকে তাদের যানবাহনে জুড়ে দেয়।
পুরুষকে বাহন করে মানে হচ্ছে ৰেস্সৰণের পরিচারক যক্ষরা পুরুষদেরকে ধরে ধরে তাদের যানবাহনে জুড়ে দেয়। তবে তারা কিন্তু সম্যকদৃষ্টিসম্পন্ন লোকদেরকে ধরতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের ম্লেচ্ছ অনার্য জাতের লোকদেরকে ধরে থাকে। এই জম্বুদ্বীপের এক জনপদের এক লোক নাকি একজন স্থবিরের পাশে বসে খুব ঘুমিয়েছিল। স্থবির তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “উপাসক খুব ঘুমালে দেখছি।” সেই লোকটি বলল, “আজ ভান্তে, সারাটা রাত ৰেস্সৰণের দাসদের হাতে পড়ে খুব ক্লান্ত হয়ে গেছি।”
সেই রাজার পরিচারকেরা যানে চড়ে সকলদিকে বিচরণ করে।
সেই যশস্বী মহারাজার জন্য হস্তীযান, অশ্বযান ও দিব্যযান,
প্রাসাদ ও পালকি সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
তার নগরগুলো ছিল আকাশে নির্মিত।
সেগুলোর নাম হচ্ছে আটানাটা, কুসিনাটা, পরকুসিনাটা,
নাটসুরিয়া, পরকুসিটনাটা।
সেগুলোর উত্তরে আছে কপিৰন্ত, আরো আছে জনোঘ নগর,
নৰনৰুতিয়ো, অম্বরঅম্বরৰতিয়ো, এবং রাজধানী আলকমন্দা।
মহারাজ কুবেরের প্রধান রাজধানী হচ্ছে ৰিসাণ নামক নগর।
তাই মহারাজ কুবেরকে ‘ৰেস্সৰণ’ বলা হয়ে থাকে।
তাই মহারাজ কুবেরকে ‘ৰেস্সৰণ’ বলা হয়ে থাকে কথাটির ব্যাখ্যা হচ্ছে এরকম: ইনি নাকি বুদ্ধের অনুৎপত্তিকালে কুবের নামক ব্রাহ্মণ হয়ে আখ চাষ করিয়ে সাতটি যন্ত্র বসিয়েছিলেন। তিনি একটি যন্ত্রশালা থেকে প্রাপ্ত আয় আগত-অনাগত লোকজনকে দান দিয়ে পুণ্য করতেন। বাকি যন্ত্রশালাগুলো থেকে আরো বহু আয় হত। তিনি সেগুলোর আয় দিয়েও বিশ হাজার বছর ধরে দান দিয়েছিলেন। তিনি মরণের পরে চতুর্মহারাজিক দেবলোকে কুবের নামক দেবপুত্র হয়ে জন্মেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ৰিসাণ নামক রাজধানীতে রাজত্ব করতেন। তখন থেকে তাকে ৰেস্সৰণ নামে ডাকা হতো।
তাকে সংবাদ পৌঁছে দেন ততোলা, তত্তলা, ততোতলা,
ওজসি, তেজসি, ততোজসি, সূর, রাজা, অরিট্ঠ এবং নেমি।
সেখানকার হ্রদের নাম হচ্ছে ধরণী,
যেখান থেকে মেঘ বর্ষণ করে,
যেখান থেকে বৃষ্টি পড়ে।
সেখানকার সম্মেলনকক্ষের নাম হচ্ছে শালবতী,
সেখানে যক্ষরা সমবেত হয়।
তাকে সংবাদ পৌঁছে দেন মানে হচ্ছে বারজন যক্ষ কর্মকর্তা আছেন যারা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান করে সেই সংবাদ রাজার বারজন যক্ষদ্বাররক্ষীর কাছে পৌঁছে দেন। যক্ষদ্বাররক্ষীরা রাজাকে সেই সংবাদ জ্ঞাপন করেন। সেই বারজন যক্ষকর্মকর্তার নাম হচ্ছে ততোলা, তত্তলা, ততোতলা, ওজসি, তেজসি, ততোজসি, সূর, রাজা, সূরোরাজা, অরিট্ঠ, নেমি, অরিট্ঠনেমি।
ধরণী নামক হ্রদটি হচ্ছে পঞ্চাশ যোজন বিস্তৃত।
যেখান থেকে মেঘ বর্ষণ করে মানে হচ্ছে যে হ্রদ থেকে পানি গ্রহণ করে মেঘ তার বারি বর্ষণ করে।
সেখানকার সম্মেলনকক্ষের মানে হচ্ছে সেই হ্রদের তীরে শালবতী নামক লতা দিয়ে ঘেরা বার যোজন বিস্তৃত একটি রত্নমণ্ডপ আছে। সেখানেই যক্ষরা সম্মিলিত হয়।
সেখানে গাছে গাছে সবসময় ফল ধরে,
নানান পাখির মেলা বসে,
ময়ূর ও সারসের কলতানে মুখরিত থাকে।
আরো আসে কোকিল এবং বাদুড়।
এখানে জীবঞ্জীবক ও ওট্ঠৰচিত্তকার শব্দ শোনা যায়,
আসে মোরগ ও কুলীরকা, বনে থাকে পোক্খরসাতকা।
এখানে টিয়া (সুক) ও শালিকের ডাক শোনা যায়,
দণ্ডমাণবকগুলোরও।
সেই কুবেরনলিনী সবসময় শোভিত থাকে।
[[[[[[——————-সেখানে গাছে গাছে সবসময় ফল ধরে কথাটির মানে হচ্ছে সেই স্থানে সেই মণ্ডপকে ঘিরে আছে সর্বদা ফল দিয়ে ভরা আম, জাম ইত্যাদি গাছ এবং নিত্য ফুলে ফুলে ভরা চাঁপা, মালতি ইত্যাদি ফুলের গাছ।
জীবঞ্জীবক ও ওট্ঠৰচিত্তকার শব্দ মানে হচ্ছে “জীব জীব” অর্থাৎ “দীর্ঘায়ু হও, দীর্ঘায়ু হও” এমন শব্দ করে ডাকতে থাকা জীবঞ্জীবক নামক পাখির ডাক। এবং “ওঠো চিত্ত, ওঠো চিত্ত” এমন শব্দ করে মিষ্টি সুরে ডাকতে থাকা উট্ঠবচিত্ত নামক পাখির ডাক।
মোরগ মানে হচ্ছে বনমোরগ।
কুলীরকা মানে হচ্ছে সোনালী কাঁকড়া।
বনে থাকে পোক্খরসাতকা কথাটিতে বনে মানে হচ্ছে পদ্মবনে। পোক্খরসাতকা হচ্ছে একজাতীয় পাখি।
দণ্ডমাণবক হচ্ছে মানুষের মুখবিশিষ্ট একধরনের পাখি। এই পাখিগুলো নাকি দুই হাতে সোনালি দণ্ড ধরে একটি পদ্মপাতায় দাঁড়িয়ে আরেক পদ্মপাতায় সোনালি দণ্ডটি ঠেকিয়ে ক্রমান্বয়ে চরে বেড়ায়।
কুবেরনলিনী মানে হচ্ছে কুবেরের নলিনী পদ্মসরোবর থেকে উৎপন্ন ধরণী নামক হ্রদ। —————–]]
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে উত্তরদিক’,
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন যক্ষদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘কুৰের’।
যক্ষদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও মহান এবং নির্ভীক আদিত্যবন্ধুকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে দেখ, তাই অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা আমরা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
মাননীয়, এই সেই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র, যা হচ্ছে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য।
২৮২। মাননীয়, যেকোনো ভিক্ষু বা ভিক্ষুণী বা উপাসক বা উপাসিকার এই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র সুন্দরভাবে শেখা হলে, সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ব হলে তাকে যদি কোনো হিংসামনা অমনুষ্য যক্ষ বা যক্ষিণী, যক্ষপুত্র বা যক্ষকন্যা, যক্ষমহামন্ত্রী বা যক্ষপরিষদের সদস্য, যক্ষপরিচারক অথবা কোনো গন্ধর্ব বা গন্ধর্বী, গন্ধর্বপুত্র বা গন্ধর্বকন্যা, গন্ধর্বমহামন্ত্রী বা গন্ধর্বপরিষদের সদস্য, গন্ধর্ব পরিচারক, কুম্ভণ্ড বা কুম্ভণ্ডী, কুম্ভণ্ডপুত্র বা কুম্ভণ্ডকন্যা, কুম্ভণ্ডমহামন্ত্রী বা কুম্ভণ্ড পরিষদের সদস্য, কুম্ভণ্ড পরিচারক, নাগ বা নাগিনী, নাগপুত্র বা নাগকন্যা, নাগমহামন্ত্রী বা নাগপরিষদের সদস্য, নাগ পরিচারক কোনো ভিক্ষুর বা ভিক্ষুণীর, উপাসকের বা উপাসিকার যাওয়ার সময় পিছু পিছু যায়, দাঁড়ানোর সময় কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, বসলে কাছে গিয়ে বসে, শুয়ে পড়লে কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ে, তখন সেই অমনুষ্য কিন্তু কোনো গ্রামে বা গঞ্জে আদর-আপ্যায়ন লাভ করবে না। সেই অমনুষ্য তখন আলকমন্দা নামক রাজধানীর কোনো জিনিসই পাবে না, সেখানে বসবাসেরও সুযোগ পাবে না। সেই অমনুষ্য যক্ষদের সম্মেলনে যেতে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, অমনুষ্যরা তাকে বিয়ে করার অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা করবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তাকে সম্পূর্ণ নিন্দা করে কথা বলবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তার মাথায় শূন্যপাত্র উল্টো করে দেবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তার মাথাকে সাতটুকরো করে ছাড়বে।
[[[[[———- সুন্দরভাবে শেখা হলে মানে হচ্ছে এর অর্থ ও ব্যঞ্জনা পরিষ্কারভাবে বুঝে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে শেখা হলে। সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ব হলে মানে হচ্ছে এর শব্দ ও অক্ষরগুলো বাদ না পড়ে মতো করে পরিপূর্ণভাবে শেখা হলে। পালি ও তার অর্থ না বুঝে অথবা সম্পূর্ণভাবে না শিখে পরিত্রাণ আবৃত্তি করলে সেটা তেজীয়ান হয় না। সম্পূর্ণ মুখস্থ করে আবৃত্তি করলে তবেই তা তেজীয়ান হয়। লাভের উদ্দেশ্যে পরিত্রাণ শিখে আবৃত্তি করলেও কাজ হয় না। মুক্ত করার উদ্দেশ্যে মৈত্রীকে সামনে রেখে আবৃত্তি করলে তবেই কাজ হয়।
বিয়ে করার অনুপযুক্ত মানে হচ্ছে তার সাথে কন্যা আদান-প্রদান করবে না।
শূন্যপাত্র উল্টো করে দেবে মানে হচ্ছে ভিক্ষুদের লোহার ভিক্ষাপাত্রের মতো পাত্রকে উল্টো করে তার মাথায় পরিয়ে দেবে একদম গলা পর্যন্ত। এরপর তার মাঝে লোহার সুঁচালো দণ্ড ঢুকিয়ে দেবে। —————–]]]]
হে মাননীয়, এমন অমনুষ্য আছে যারা প্রচণ্ড রাগী, রুদ্র ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তারা মহারাজাদেরকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনদের লোকজনকে মানে না। সেই অমনুষ্যদেরকে মহারাজাদের বিরুদ্ধবাদী বা শত্রু হিসেবে বলা হয়ে থাকে। হে মাননীয়, যেমন মগধের রাজার বিরুদ্ধবাদী মহাচোরেরা। তারা মগধের রাজাকে মানে না, মগধের রাজার লোকজনকেও মানে না, মগধের রাজার লোকজনের লোকজনকেও মানে না। সেই মহাচোরেরা মগধ রাজার বিরুদ্ধবাদী হিসেবে বলা হয়ে থাকে। হে মাননীয়, তেমনি এমন অমনুষ্য আছে যারা প্রচণ্ড রাগী, রুদ্র ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তারা মহারাজাদেরকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনদের লোকজনকে মানে না। সেই অমনুষ্যরা মহারাজাদের বিরুদ্ধবাদী হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
[[[[[[————মহারাজাদেরকে মানে না মানে হচ্ছে তারা মহারাজাদের কথা শোনে না, তাদের আদেশ মানে না। মহারাজাদের লোকজন মানে হচ্ছে আটাশজন যক্ষ সেনাপতি। সেই সেনাপতিদের আদেশও তারা মানে না।
পরিত্রাণের আগে করণীয়
গৃহীদেরকে অমনুষ্য ভর করলে করণীয়
প্রথমেই আটানাটিয় সুত্র আবৃত্তি করা উচিত নয়। মৈত্রীসুত্র, ধজগ্গ সুত্র, রতনসুত্র এই তিনটি সুত্র এক সপ্তাহ ধরে আবৃত্তি করা উচিত। তখন যদি যক্ষ তাকে ছেড়ে দেয় ভালো। না ছাড়লে তখন আটানাটিয় সুত্র আবৃত্তি করা উচিত।
সেই সুত্র আবৃত্তিকারী ভিক্ষুর পক্ষে পিঠা বা মাংস খাওয়া উচিত নয়। কেন? অমনুষ্যরা তখন আরো সুযোগ পায়। পরিত্রাণ করার জায়গাটি সবুজে সুশোভিত করিয়ে, পরিশুদ্ধ আসন পাতিয়ে তাতে বসা উচিত।
পরিত্রাণকারী ভিক্ষুকে বিহার থেকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাল-তলোয়ার দিয়ে ঘিরে রেখে নিয়ে যাওয়া উচিত। খোলা আকাশের নিচে বসে আবৃত্তি করা উচিত নয়। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে, অস্ত্র হাতে নিয়ে বসে থাকা লোকজনের মাঝে বসে মৈত্রীচিত্ত নিয়ে আবৃত্তি করা উচিত। প্রথমে শীল দিয়ে এরপর পরিত্রাণ আবৃত্তি করা উচিত।
তবুও যক্ষ সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে না দিলে তাকে বিহারে আনিয়ে চৈত্য বা মন্দিরের প্রাঙ্গণে শুইয়ে রাখা উচিত এবং আসনপূজা করিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে, চৈত্য বা মন্দিরের আঙিনা পরিষ্কার করে মঙ্গলকথা বলা উচিত। সবাইকে একত্রিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া উচিত। বিহারের কাছাকাছি বনে সবচেয়ে প্রাচীন যে গাছ আছে সেখানে ভিক্ষুসঙ্ঘ তোমাদের আসার অপেক্ষায় আছে বলে সংবাদ প্রেরণ করা উচিত। এমন বড় সম্মেলনে যেখানে সবাই মিলিত হয় সেখানে না গিয়ে পারা যায় না। সেখানে তখন সেই অমনুষ্য ভর করা লোকটিকে জিজ্ঞেস করা উচিত, “তোমার নাম কি?” নাম বললে তখন তার সাথে সেই নামেই আলাপ করা উচিত। তাকে বলা উচিত, “হে অমুক, মালা ও সুগন্ধি ইত্যাদিতে তোমার পুণ্যাংশ আছে, আসনপূজায় তোমার পুণ্যাংশ আছে, পিণ্ডপাতে তোমার পুণ্যাংশ আছে, ভিক্ষুসঙ্ঘ কর্তৃক তোমার প্রতি শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মঙ্গলকথা বলা হয়েছে। কাজেই ভিক্ষুসঙ্ঘের প্রতি গৌরবতা দেখিয়ে একে ছেড়ে দাও।”
তবুও ছেড়ে না দিলে দেবতাদেরকে জানানো উচিত, “আপনারা জানেন, এই অমনুষ্য আমাদের কথা শুনছে না। আমরা তাই বুদ্ধের আদেশ প্রকাশ করব।” এই বলে তখন এই পরিত্রাণ আবৃত্তি করা উচিত। এটা হচ্ছে গৃহীদের ক্ষেত্রে করণীয়।
ভিক্ষুকে অমনুষ্য ভর করলে করণীয়
কোনো ভিক্ষুকে যদি কোনো অমনুষ্য ভর করে, তাহলে আসনগুলো ধুয়ে মুছে, সবাইকে একত্রিত হওয়ার ঘোষনা দিয়ে সুগন্ধি, মালা ইত্যাদির পুণ্যাংশ দিয়ে পরিত্রাণ আবৃত্তি করা উচিত। এটা হচ্ছে ভিক্ষুদের ক্ষেত্রে করণীয়। ———–]]]]
হে মাননীয়, কোনো হিংসামনা অমনুষ্য যক্ষ বা যক্ষিণী … অথবা কোনো গন্ধর্ব বা গন্ধর্বী … অথবা কোনো কুম্ভণ্ড বা কুম্ভণ্ডী … অথবা কোনো নাগ বা নাগিনী, অথবা নাগপুত্র বা নাগকন্যা, অথবা নাগমহামন্ত্রী বা নাগপরিষদের সদস্য, অথবা নাগপচার কোনো ভিক্ষুর বা ভিক্ষুণীর, উপাসকের বা উপাসিকার যাওয়ার সময় পিছু পিছু যায়, দাঁড়ানোর সময় কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, বসলে কাছে গিয়ে বসে, শুয়ে পড়লে কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ে, তখন এই যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি এবং মহাসেনাপতিদের কাছে আর্তি জানাতে হবে, উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে, বড় বড় করে বলতে হবে, ‘এই যক্ষ আমাকে ধরেছে, এই যক্ষ আমাকে আবিষ্ট করেছে, এই যক্ষ আমাকে উত্যক্ত করছে, এই যক্ষ আমাকে অত্যাচার করছে, এই যক্ষ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এই যক্ষ আমাকে আঘাত করছে, এই যক্ষ আমাকে ছাড়ছে না।’
[[[————— উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে মানে হচ্ছে সবাইকে, অর্থাৎ সেই বিহার বা গ্রামের সকল ভিক্ষুকে একত্রে সম্মিলিত হওয়ার ঘোষনা দিয়ে সেখানে আটাশজন যক্ষসেনাপতির কাছে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে।
বড় বড় করে বলতে হবে মানে হচ্ছে “এই যক্ষ আমাকে ধরেছে” ইত্যাদি আবৃত্তির সময় তাদের সাথে সাথে বলতে হবে।
আমাকে ধরেছে মানে হচ্ছে আমার উপর ভর করেছে। আমাকে কষ্ট দিচ্ছে মানে হচ্ছে মাংস ও রক্ত অল্প করে দিয়ে খুব দুঃখ দিচ্ছে। —————–]]]]]
২৮৩। যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি ও মহাসেনাপতি কারা কারা?
ইন্দ্র, সোম, বরুণ, ভারদ্বাজ, প্রজাপতি;
চন্দন, কামশ্রেষ্ঠ, কিন্নুঘণ্ডু এবং নিঘণ্ডু।
পনাদ, ওপমঞ্ঞ, দেৰসূত, মাতলি,
চিত্রসেন গন্ধর্ব, নল, রাজা, জনেসভ।
সাতগির, হেমৰত, পুণ্ণক, করতি, গুল,
সিৰক, মুচলিন্দ, ৰেস্সামিত্র, যুগন্ধর।
গোপাল, সুপ্পরোধ, হিরি, নেত্তি, মন্দিয়,
পঞ্চালচণ্ড, আলৰক, পজ্জুন্ন, সুমন, সুমুখ;
দধিমুখ, মণি, মাণি, ৰর, দীর্ঘ, এবং সেরীসক।
[[[[[————–ইন্দ্র, সোম ইত্যাদি হচ্ছে যক্ষসেনাপতিদের নাম। এদের মধ্যে ৰেস্সামিত্র হচ্ছে ৰেস্সামিত্র পর্বতবাসী এক যক্ষ। যুগন্ধর হচ্ছে যুগন্ধর পর্বতবাসী এক যক্ষ।——-]]]]
এই যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি এবং মহাসেনাপতিদের কাছে আর্তি জানাতে হবে, উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে, বড় বড় করে বলতে হবে, ‘এই যক্ষ আমাকে ধরেছে, এই যক্ষ আমাকে আবিষ্ট করেছে, এই যক্ষ আমাকে উত্যক্ত করছে, এই যক্ষ আমাকে অত্যাচার করছে, এই যক্ষ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এই যক্ষ আমাকে আঘাত করছে, এই যক্ষ আমাকে ছাড়ছে না।’
হে মাননীয়, এই সেই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র, যা হচ্ছে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য। হে মাননীয়, আমরা এখন যাই, আমাদের বহু কাজ পড়ে রয়েছে, বহু করণীয় পড়ে রয়েছে।’
এভাবে আর্তি জানালে তখন সেই যক্ষসেনাপতিরা “ভিক্ষুসঙ্ঘ নিজেদের ধর্মআদেশ জারি করেছেন, আমরাও আমাদের যক্ষরাজের আদেশ জারি করব” এই বলে তোড়জোড় করে কাজে নামবে। এভাবে অমনুষ্যরা আর সুযোগ পাবে না, বুদ্ধশিষ্যগণ স্বচ্ছন্দে অবস্থান করতে পারবেন। এটা দেখানোর জন্যই “হে মাননীয়, এই সেই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র … …” ইত্যাদি বলা হয়েছে।
(ভগবান বললেন,) ‘মহারাজাগণ, আপনাদের এখন যদি (যাওয়ার) সময় হয়েছে বলে মনে করেন (তাহলে যেতে পারেন)।’
২৮৪। এরপর চারি মহারাজা আসন থেকে উঠে ভগবানকে অভিবাদন জানিয়ে, চারপাশে প্রদক্ষিণ করে সেখানেই অন্তর্হিত হলেন। সেই যক্ষরাও আসন থেকে উঠে কেউ কেউ ভগবানকে চারপাশে প্রদক্ষিণ করে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ ভগবানের সাথে প্রীতি আলাপ করল, প্রীতিআলাপ শেষে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ ভগবানের প্রতি হাতজোড় করে প্রণাম জানিয়ে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ নিজেদের নামধাম জানিয়ে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ নিরবে সেখানেই অন্তর্হিত হলো।
প্রথম অংশ সমাপ্ত
দ্বিতীয় অংশ
ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুদেরকে আটানাটিয় সুত্র বর্ণনা
২৮৫। এরপর ভগবান সেই রাতের শেষে ভিক্ষুদেরকে ডাকলেন, ‘ভিক্ষুগণ, আজ রাতে চার চারি মহারাজা বিশাল যক্ষসেনাবাহিনী, বিশাল গন্ধর্বসেনাবাহিনী, বিশাল কুম্ভণ্ডসেনাবাহিনী ও বিশাল নাগসেনাবাহিনী নিয়ে চারদিকে প্রহরা স্থাপন করে, চারদিকে সেনাদল স্থাপন করে, চারদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাতের শেষের দিকে সেই শকুনের চূড়া পর্বতকে আলোয় উদ্ভাসিত করে আমি যেখানে অবস্থান করছিলাম সেখানে এসেছিলেন। সেখানে পৌঁছে আমাকে অভিবাদন জানিয়ে একপাশে বসলেন। হে ভিক্ষুগণ, সেই যক্ষরাও কেউ কেউ আমাকে অভিবাদন করে একপাশে বসল, কেউ কেউ আমার সাথে প্রীতিসম্ভাষণমূলক আলাপ করল, প্রীতিআলাপ শেষে একপাশে বসল, কেউ কেউ আমার প্রতি দুহাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে একপাশে বসল, কেউ কেউ নিজেদের নামধাম জানিয়ে একপাশে বসল, কেউ কেউ নিরবে একপাশে বসে পড়ল।
২৮৬। হে ভিক্ষুগণ, একপাশে বসা মহারাজ ৰেস্সৰণ আমাকে এরূপ বললেন, ‘ভান্তে, উচ্চশ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট … ভান্তে, নিচু শ্রেণির যক্ষ আছে যারা ভগবানের প্রতি সন্তুষ্ট। তবে বেশিরভাগ যক্ষই হচ্ছে ভগবানের প্রতি অসন্তুষ্ট। তার কারণ কি? ভান্তে, ভগবান প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন … মদ ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য ধর্মদেশনা করেন। ভান্তে, বেশিরভাগ যক্ষ প্রাণিহত্যা হতে বিরত নয় … মদ ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরত নয়। তাদের কাছে এধরনের ধর্মদেশনা অপ্রিয় এবং অপছন্দের। ভান্তে, ভগবানের অনেক শিষ্য আছেন যারা অরণ্যে ও গহীন বনে অবস্থান করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন, যেখানে শব্দ কম, কোলাহল কম, নিরালা পরিবেশ, মানুষজনশূন্য, নির্জনতার অনুকুল। সেখানে উঁচু শ্রেণির যক্ষরা থাকে যারা ভগবানের কথায় অসন্তুষ্ট। ভান্তে, ভগবান তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখার মাধ্যমে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি শিখে নিন।’
হে ভিক্ষুগণ, আমি নিরবে সম্মতি দিলাম।
এরপর মহারাজ ৰেস্সৰণ আমার সম্মতি জেনে সেই সময়ে এই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র উচ্চারণ করলেন,
২৮৭। “চক্ষুষ্মান এবং শ্রীসম্পন্ন বিপস্সীকে নমস্কার।
সকল জীবের অনুগ্রহকারী সিখিকে নমস্কার।
স্নানকৃত তপস্বী বেস্সভুকে নমস্কার।
মারসেনাকে মর্দনকারী ককুসন্ধকে নমস্কার।
ব্রাহ্মণ এবং বশকারী কোণাগমনকে নমস্কার।
সর্বত্র বিমুক্ত কশ্যপকে নমস্কার।
শাক্যপুত্র শ্রীসম্পন্ন অঙ্গীরসকে নমস্কার,
যিনি এই সকল দুঃখ দূরকারী ধর্ম দেশনা করেছেন।
যথাযথভাবে দেখে জগতে যারা নির্বাপিত হয়েছেন,
সেই মহাত্মাগণ পুনর্জন্মহীন হয়েছেন।
তারা দেবমানবের কল্যাণে গৌতমকে নমস্কার করেন,
যিনি হচ্ছেন বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন, পুনর্জন্মহীন মহাত্মা।
২৮৮। যেখান থেকে মহা দেদীপ্যমান সূর্যগোলক উদিত হয়,
যার উদয়ে রাতের শেষ হয়,
যে সূর্যের উদয়কে ‘দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
সেখানকার হ্রদ হচ্ছে গভীর, সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি;
এভাবে সেখানে জানা হয়, ‘সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি।’
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে পূর্বদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন গন্ধর্বদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘ধতরট্ঠ’।
গন্ধর্বদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও আদিত্যবন্ধু পুনর্জন্মহীন মহাত্মা বুদ্ধকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে বিবেচনা কর, অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
২৮৯। যেকারণে প্রেত বলা হয়ে থাকে, পরনিন্দাকারী, পৃষ্ঠমাংসখাদক,
প্রাণিহত্যাকারী, নিষ্ঠুর, চোর, প্রবঞ্চক জন।
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে দক্ষিণদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন কুম্ভণ্ডদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘বিরুল্হ’।
কুম্ভণ্ডদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও আদিত্যবন্ধু পুনর্জন্মহীন মহাত্মা বুদ্ধকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে বিবেচনা কর, অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
২৯০। যেখানে মহা দেদীপ্যমান সূর্যগোলক ডুবে যায়,
যার অস্তগমনে দিনের শেষ হয়,
যে সূর্যের অস্তগমনকে ‘রাত’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
সেখানকার হ্রদ হচ্ছে গভীর, সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি;
এভাবে সেখানে জানা হয়, ‘সমুদ্র হচ্ছে নদীর পানি।’
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে পশ্চিমদিক,’
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন নাগদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘বিরূপক্খ’।
নাগদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও আদিত্যবন্ধু পুনর্জন্মহীন মহাত্মা বুদ্ধকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে বিবেচনা কর, অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
২৯১। যেদিকে আছে উত্তরকুরু, সুদর্শন মহাসিনেরু পর্বত,
সেখানে মানুষেরা মমতাহীন ও কোনোকিছুর অধিকারহীন হয়ে জন্মায়।
তারা বীজ বপন করে না, লাঙল দিয়ে চাষ করে না।
মানুষেরা চাষ না করেই পরিপক্ক শালি ভোজন করে।
তারা লালচে আবরণহীন, তুষহীন, শুদ্ধ, সুগন্ধযুক্ত চাল নিয়ে
তুণ্ডিকের উপরে রান্না করে সেখান থেকে ভোজন করে।
গাভীকে একখুর করে দিকে দিকে গমন করে।
পশুকে একখুর করে দিকে দিকে গমন করে।
অথবা নারীকে একখুর করে দিকে দিকে গমন করে।
পুরুষকে একখুর করে দিকে দিকে গমন করে।
কিশোরকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
কিশোরীকে বাহন করে দিকে দিকে গমন করে।
তারা যানে উঠে সকলদিকে বিচরণ করে।
সেখানকার গমন সর্বত্র।
হস্তীযান, অশ্বযান, দিব্যযান, প্রাসাদ ও পালকি দিয়ে
যশস্বী মহারাজা ব্যবহার করে থাকেন।
তার নগর ছিল আকাশে সুনির্মিত,
সেগুলোর নাম হচ্ছে আটানাটা, কুসিনাটা, পরকুসিনাটা,
নাটসুরিযা, পরকুসিনাটা।
উত্তরে আছে কপিৰন্ত, আরো আছে জনোঘ নামক শহর,
নৰনৰুতি, অম্বরঅম্বরৰতি, এবং রাজধানী আলকমন্দা।
মহারাজ কুবেরের রাজধানী হচ্ছে ৰিসাণ নামক নগর।
তাই মহারাজ কুবেরকে ‘ৰেস্সৰণ’ বলা হয়ে থাকে।
তার খবরকে প্রকাশ করেন ততোলা, তত্তলা, ততোতলা,
ওজসি, তেজসি, ততোজসি, সূর, রাজা, অরিট্ঠ এবং নেমি।
যেখানে যক্ষরা সমবেত হয় সেখানে গাছে গাছে সবসময় ফল ধরে;
নানান পাখির মেলা বসে, মনোরম ময়ূর ও সারস আসে।
আরো আসে কোকিল এবং বাদুড়।
এখানে জীবঞ্জীবকের শব্দ শোনা যায়, ওট্ঠৰচিত্তকা;
মোরগ ও কুলীরকা, পোক্খরসাতকা।
এখানে টিয়া (সুক) ও শালিকের ডাক শোনা যায়,
দণ্ডমাণবকগুলোরও।
সেই কুবেরনলিনী সবসময় শোভিত থাকে।
লোকজন বলে, এখান থেকে ‘সেটা হচ্ছে উত্তরদিক’,
যে দিক শাসন করেন সেই যশস্বী মহারাজা।
তিনি হচ্ছেন যক্ষদের অধিপতি, তার নাম হচ্ছে ‘কুৰের’।
যক্ষদের নাচগানের দ্বারা তিনি রমিত হয়ে থাকেন।
তার অনেক পুত্র, সংখ্যায় তারা একানব্বই জন,
তাদের সবারই একই নাম ‘ইন্দ্র’, তারা মহাবলশালী।
তারাও আদিত্যবন্ধু পুনর্জন্মহীন মহাত্মা বুদ্ধকে দেখে
দূর থেকে নমস্কার করেন।
‘মহাপুরুষ, তোমাকে নমস্কার। পুরুষোত্তম, তোমাকে নমস্কার।
তুমি দক্ষতার সাথে বিবেচনা কর, অমনুষ্যরাও তোমাকে বন্দনা করে।
সেটা সর্বদা শুনি, তাই এভাবে বলছি।
তোমরা জিন গৌতমকে বন্দনা কর, আমরাও গৌতমকে বন্দনা করছি।
আমরা বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন গৌতম বুদ্ধকে বন্দনা করছি।’
২৯২। হে মাননীয়, এই সেই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র, যা হচ্ছে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য। হে মাননীয়, যেকোনো ভিক্ষু বা ভিক্ষুণী বা উপাসক বা উপাসিকার এই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র সুন্দরভাবে শেখা হলে, সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ব হলে তাকে যদি কোনো হিংসামনা অমনুষ্য যক্ষ বা যক্ষিণী … অথবা কোনো গন্ধর্ব বা গন্ধর্বী … অথবা কোনো কুম্ভণ্ড বা কুম্ভণ্ডী … অথবা কোনো নাগ বা নাগিনী, নাগপুত্র বা নাগকন্যা, নাগমহামন্ত্রী বা নাগপরিষদের সদস্য, নাগপচার কোনো ভিক্ষুর বা ভিক্ষুণীর, উপাসকের বা উপাসিকার যাওয়ার সময় পিছু পিছু যায়, দাঁড়ানোর সময় কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, বসলে কাছে গিয়ে বসে, শুয়ে পড়লে কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ে, তখন সেই অমনুষ্য কিন্তু কোনো গ্রামে বা গঞ্জে আদর-আপ্যায়ন লাভ করবে না। সেই অমনুষ্য তখন আলকমন্দা নামক রাজধানীর কোনো জিনিসই পাবে না, সেখানে বসবাসেরও সুযোগ পাবে না। সেই অমনুষ্য যক্ষদের সম্মেলনে যেতে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, অমনুষ্যরা তাকে বিয়ে করার অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা করবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তাকে সম্পূর্ণ নিন্দা করে কথা বলবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তার মাথায় শূন্যপাত্র উল্টো করে দেবে। বেশিরভাগ অমনুষ্য তার মাথাকে সাতটুকরো করে ছাড়বে।
হে মাননীয়, এমন অমনুষ্য আছে যারা প্রচণ্ড রাগী, রুদ্র ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তারা মহারাজাদেরকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনদের লোকজনকে মানে না। সেই অমনুষ্যরা মহারাজাদের কাছে অবরুদ্ধ বা আটককৃত হিসেবে বলা হয়ে থাকে। হে মাননীয়, যেমন মগধের রাজার কাছে আটককৃত মহাচোরেরা। তারা মগধের রাজাকে মানে না, মগধের রাজার লোকজনকেও মানে না, মগধের রাজার লোকজনের লোকজনকেও মানে না। সেই মহাচোগুলো মগধ রাজার জন্য অবরুদ্ধ হিসেবে বলা হয়ে থাকে। হে মাননীয়, তেমনি এমন অমনুষ্য আছে যারা প্রচণ্ড রাগী, রুদ্র ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তারা মহারাজাদেরকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনকে মানে না, মহারাজাদের লোকজনদের লোকজনকে মানে না। সেই অমনুষ্যরা মহারাজাদের কাছে অবরুদ্ধ বা আটককৃত হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
হে মাননীয়, সেই হিংসামনা অমনুষ্য যক্ষ বা যক্ষিণী … অথবা কোনো গন্ধর্ব বা গন্ধর্বী … অথবা কোনো কুম্ভণ্ড বা কুম্ভণ্ডী … অথবা কোনো নাগ বা নাগিনী, অথবা নাগপুত্র বা নাগকন্যা, অথবা নাগমহামন্ত্রী বা নাগপরিষদের সদস্য, অথবা নাগ পরিচারক কোনো ভিক্ষুর বা ভিক্ষুণীর, উপাসকের বা উপাসিকার যাওয়ার সময় পিছু পিছু যায়, দাঁড়ানোর সময় কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, বসলে কাছে গিয়ে বসে, শুয়ে পড়লে কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ে, তখন এই যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি এবং মহাসেনাপতিদের কাছে আর্তি জানাতে হবে, উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে, বড় বড় করে বলতে হবে, ‘এই যক্ষ আমাকে ধরেছে, এই যক্ষ আমাকে আবিষ্ট করেছে, এই যক্ষ আমাকে উত্যক্ত করছে, এই যক্ষ আমাকে অত্যাচার করছে, এই যক্ষ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এই যক্ষ আমাকে আঘাত করছে, এই যক্ষ আমাকে ছাড়ছে না।’
২৯৩। যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি ও মহাসেনাপতি কারা কারা?
ইন্দ্র, সোম, বরুণ, ভারদ্বাজ, প্রজাপতি;
চন্দন, কামশ্রেষ্ঠ, কিন্নুঘণ্ডু এবং নিঘণ্ডু।
পনাদ, ওপমঞ্ঞ, দেৰসূত, মাতলি,
চিত্রসেন গন্ধর্ব, নল, রাজা, জনেসভ।
সাতগির, হেমৰত, পুণ্ণক, করতি, গুল,
সিৰক, মুচলিন্দ, ৰেস্সামিত্র, যুগন্ধর।
গোপাল, সুপ্পরোধ, হিরি, নেত্তি, মন্দি,
পঞ্চালচণ্ড, আলৰক, পজ্জুন্ন, সুমন, সুমুখ;
দধিমুখ, মণি, মাণিৰর, দীর্ঘ, এবং সেরীসক।
এই যক্ষ ও মহাযক্ষদের সেনাপতি এবং মহাসেনাপতিদের কাছে আর্তি জানাতে হবে, উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে, বড় বড় করে বলতে হবে, ‘এই যক্ষ আমাকে ধরেছে, এই যক্ষ আমাকে আবিষ্ট করেছে, এই যক্ষ আমাকে উত্যক্ত করছে, এই যক্ষ আমাকে অত্যাচার করছে, এই যক্ষ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এই যক্ষ আমাকে আঘাত করছে, এই যক্ষ আমাকে ছাড়ছে না।’
হে মাননীয়, এই সেই আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র, যা হচ্ছে ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের জন্য। হে মাননীয়, আমরা এখন যাই, আমাদের বহু কাজ পড়ে রয়েছে, বহু করণীয় পড়ে রয়েছে।’
(আমি বললাম,) ‘মহারাজাগণ, আপনাদের এখন যদি (যাওয়ার) সময় হয়েছে বলে মনে করেন (তাহলে যেতে পারেন)।’
২৯৪। এরপর হে ভিক্ষুগণ, চারি মহারাজা আসন থেকে উঠে আমাকে অভিবাদন জানিয়ে, চারপাশে প্রদক্ষিণ করে সেখানেই অন্তর্হিত হলেন। সেই যক্ষরাও আসন থেকে উঠে কেউ কেউ আমাকে চারপাশে প্রদক্ষিণ করে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ আমার সাথে প্রীতি আলাপ করল, প্রীতিআলাপ শেষে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ আমার প্রতি হাতজোড় করে প্রণাম জানিয়ে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ নিজেদের নামধাম জানিয়ে সেখানেই অন্তর্হিত হলো। কেউ কেউ নিরবে সেখানেই অন্তর্হিত হলো।
২৯৫। হে ভিক্ষুগণ, আটানাটিয় রক্ষামন্ত্র শিখে নাও। হে ভিক্ষুগণ, আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি মনে গেঁথে রাখ। ভিক্ষুগণ, আটানাটিয় রক্ষামন্ত্রটি ধারণ কর। হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, উপাসক ও উপাসিকাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে অবস্থানের ক্ষেত্রে এটি কাজে দেবে।”
সেই ভিক্ষুগণ খুশি হয়ে ভগবানের কথাকে অভিনন্দন জানালেন।
——আটানাটিয় সুত্র সমাপ্ত———-
0 Comments