বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর চেতনার মানস সরোবরে বিশ্ব প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ ঐর্শ্বয্য ও নান্দনিক সাহিত্য, ছবি,ভাস্কর্য, সংগীত,প্রবন্ধসম্ভার হিরন্ময় জ্জ্যোতিতে প্রবাদপ্রতিম ভাস্কর্য, রামকিংকরের এই মহামতি বুদ্ধের প্রতি চির উজ্জ্বল হয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন - স্থির,শান্ত,সমাহিত ও মানবীয় প্রেম।
*******---****
তরুতলে শান্তিনিকেতন
শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৪,ভোরের কাগজ।
(পূর্ব প্রকাশের পর)
রবীন্দ্রনাথ কি কোনো ফুলকেই তাঁর কাব্যলক্ষীর অগোচরে রাখেননি? তাঁর অনুভূতির জয়মাল্যে সবাইকে ধন্য করেছেন? বেড়া ঘেঁষা রজনীগন্ধা। পাতা পুনরায় উচ্ছ¡সিত হয়ে গাইতে শুরু করে-
চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙ্গেছে
উছলে পরে আলো
ও রজনীগন্ধা, তোমার গন্ধসুধা ঢালো।
পাগল হাওয়া বুঝতে নারে ডাক পড়েছে কোথায় তারে
ফুলের বসে যার পাশে যায় তারেই লাগে ভালো।
চাঁদের হাসির সাথে রজনীগন্ধাও তার বুক উজাড় করে দিয়েছে গন্ধ ঢেলে। চাঁদও হাসছে, রজনীগন্ধাও। উভয়ের গন্ধে হাওয়া পাগল হয়ে বুঝতে পারছে না কে, কোথায় তাকে ডাকে- এমতাবস্থায় যেখানে যেদিকে যায়, যে ফুলের কাছে ঘেঁষে তাকেই তার ভালোলাগে। এ ফুলের বনে শম্পাকেও মানাতো ভালো। কিন্তু কোথায় সে? রজনীগন্ধার মতো সেও হয়ত চাঁদ ফোটার পুলকে রোমাঞ্চিত হতো।
আর এখানে নয়। অতনু আমার হাত ধরে টেনে তুলে বলছে, না এদের এখানে আর নয়। চল চল অন্য কোথাও যাই। ওরা পড়ে থাকল পেছনে। আশা ভঙ্গের কোনো বেদনা হয়ত ওদের মনে। কিন্তু অতনু যে কোথাও বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারে না। সে কথা জেনে ও বুঝে সবাই ওর পাগলামো মেনে নেয়। হয়ত মানতে পারেনি পাতা। পাতা হয়ত ভেবেছিল ওকে নিয়ে মাঠ ঘুরবে রাতের জ্যোৎস্নাবিদ্ধ আকাশ দেখবে। তা আর হলো কই? অতনু আমি বাতাস ঠেলে সম্মুখে সঙ্গীতভবনমুখী।
অনেকগুলো কদম এখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। তার একটার নিচে বিশাল আকারের ধ্যানস্থ গৌতম বুদ্ধের কংক্রিটের মহতি অবস্থান। হিন্দু ধর্মের বর্ণ বিদ্বেষের শিকার সাঁওতাল ও অপরাপর অন্ত্যজ শ্রেণী। এরাই ভারতবর্ষের আর্য-পূর্ব অধিবাসীদের পরাজিত জনগোষ্ঠীর কোনো অংশ হবে হয়ত। অবহেলা ও বিদ্বেষের কারণে এরা সভ্য শ্রেণীর কাতার হতে দূরে। কিন্তু মাঝে মাঝে এদের মধ্যেও এমন সব ক্ষণজন্মা মানুষের জন্ম হয় যা দেখে রবীন্দ্রনাথও অবাক হয়েছিলেন। শিল্পী রামকিংকর বেইজ তেমনি একজন যিনি রবীন্দ্রনাথ ও নন্দলালের আশ্রয়ে শান্তিনিকেতনে কলাভবনে সৃষ্টি করেন শিল্পের নতুন ধারা।
মহামতী গৌতম বুদ্ধের এই ভাস্কর্যটি তাঁরই করা। একটু দূরেই মহাত্মা গান্ধীর আরেকটি বিশাল ভাস্কর্য। সেই লাঠি হাতে হেঁটে চলার দৃঢ় ভঙ্গিমার এক অমর রূপ।
গৌতম বুদ্ধকে ঘিরে আমার আবাল্য সশ্রদ্ধ বিস্ময়। ছোটবেলায় বাবার কাছে শোনা তাঁর জীবন কাহিনী আমাকে অভিভূত করত। জীব সেবা ও জরা ব্যাধির হাত থেকে মুক্তির উপায় অন্বেষণে তাঁর সন্ন্যাস জীবন সম্পর্কে আমাকে ভাবাতো। রাজ্যসুখ, স্ত্রী-পুত্র ছেড়ে যাওয়ার কাহিনী খুব অবাক করত আমাকে। আমি তাঁর সম্মুখে- দূরে মস্তকে ধারণকৃত পায়েসান্নের পাত্র নিয়ে এক নারী- সুজাতা। শীর্ণকায়, ধ্যানরত, অভুক্ত, কান্তিমান এই অরণ্যবাসী এই মানুষটিকে খাবার এনে যে নারী তাঁকে খাওয়াত, খাদ্যের স্বাদ দিয়েছিল তিনি সুজাতা। দূরে অতীতের এক রোমান্টিক বিস্ময় বলে মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁদের সবাইকে কদম অরণ্যে প্রতিস্থাপন করে রামকিংকর একটি নতুন মাত্রা সংযোজন করেছেন কদম, রবীন্দ্র কাব্যের ও সঙ্গীতের এক বড় উপাদান। কদমকে নিয়ে তাঁর আবেগের স্ফুরণ ঘটেছে কতভাবে-
বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান
আমি দিতে এসেছি প্রাণের গান।
মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে
এই যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।
আজ এনে দিলে, হয় তো হবেনা কাল-
রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল।
এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব বিস্মৃতি স্রোতের পাবনে
ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বহি তব সম্মান।
কদম বৃক্ষের তলে কত দিন এসে বসেছি- অন্ধকারে ছুঁইয়ে বসেছি এই ধ্যান মৌন মহা তপস্বির শরীর। কেমন কেঁপে কেঁপে উঠতাম। বিস্ময় থেকেই যদি জ্ঞান ও শ্রদ্ধার জন্ম তবে আমারও হয়েছিল তাই। জানি না এ কদম তলায় এই এঁকে দেখে মন কেবলি দূরে, বহুদূরে অতীতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হতো কিন্তু তা কী করে সম্ভব?
মৃত্যু কী? জরা-ব্যাধি কেন? এ থেকে নিষ্ক্রমণের কী উপায়? জন্ম-জন্মান্তরের পথ চলে কোনো এক পুণ্য মুহূর্তে জীবের এক ক্রান্তিলগ্নে তার মুক্তি ঘটেবে। অদৃশ্য এ পথের ধারা কোন উধাও দিগন্ত পানে ছুটে চলবে জীব হয়ত তা জানে না। বুদ্ধদেব তা জেনেছিলেন।
কিন্তু আমি জানতে চাই সেই ব্যক্তি মানুষটিকে। গৌতম বুদ্ধকে। যার মনে এ প্রশ্ন এসেছিল, যিনি এর উত্তর পেয়েছিলেন। যিনি এ সবের প্রশ্নের অভিঘাতে ছেড়েছিলেন সিংহাসন, ভোগ-বিলাস, নারী- যশোদা কিংবা আরো শত নারীকে যা চাইলেই তিনি, রাজপুত্র পেতেন সব। ছেড়েছিলেন একমাত্র পুত্র, ঘুমন্ত রাহুল ও যশোদাকে। তিনি ঘর ছাড়লেন কিসের টানে কী অদ্ভুত আঁধার তাঁকে ডেকেছিল? কোথায় কে জানে! অন্বেষণে। হ্যাঁ, অন্বেষণে। প্রশ্নের তাড়না। তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে এ ঘাট থেকে অন্য ঘাটে। তারপর বোধিত্ব প্রাপ্ত হলেন। এক অশ্বত্থ বৃক্ষের তলে ধ্যান ভেঙে তাকালেন- দেখলেন সম্মুখে দাঁড়ানো পায়েসান্ন মস্তকে এক নারী- কে তিনি? সুজাতা? কিন্তু এই নারী কি শুধুই সুজাতা? এ রহস্যের উন্মোচন কে ঘটাবে?
দুজন রামকিংকরের প্রস্তরের মধ্যে ধরা পড়েছেন। স্থির, শান্ত। এক জনের মধ্যে মানবীয় আবেদন- প্রেম। কোনো সুদৃশ্য পুরুষের প্রতি নিবেদিত লতাগুল্ম। পুরুষটিকে খাইয়ে-পরিয়ে তাঁর নারীসুলভ আনন্দ।
ভাবছি, সব ছেড়ে এসে এ কি কোনো নারীর প্রতি মোহ তাঁর? না, জানেন না কে নারী কে পুরুষ? না কি দেহের অবশিষ্ট দহন? কী ছিল এর পরিণতি? যদি জানতাম কোনো এক চিরন্তন বেদনা মিশ্রিত আবেগ তাঁকে সুজাতার প্রতি আগ্রহী করেছিল? তবে তা জেনে কি রবীন্দ্রনাথ বিস্মিত হেসে বরণ করে নিতেন না? কবির কাছে শ্রেষ্ঠ মানব বলে পরিচিত বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধার এতটুকু কমতি হতো কি? না।
ভাবছি আমি। সব জেনে, বুঝেই কবি গৌতম বুদ্ধকে শ্রেষ্ঠ মানব বলে শ্রদ্ধানত ছিলেন। কারণ, তিনিতো কবি। বুদ্ধ ও সুজাতার দিকে
তাকিয়ে গাইতেন-
মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে চলে সেদিন ভরা সাঁঝ
যেতে যেতে দুয়ার হতে কী ভেবে ফিরালে মুখখানি-
কী কথা ছিল যে মনে \
তুমি সে কি হেসে গেলে আঁখি কোনে-
আমি বসে বসে ভাবি নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি,
তুমি আজ দূর ভুবনে \
রবীন্দ্রনাথ যা করেছেন তা মস্তিষ্ক ও হৃদয় উভয় দিয়ে সফল করার কথা ভেবেছেন। যেমন বোধিবৃক্ষটি, অশত্থ বৃক্ষ তা এই মূর্তির এখানে নেই কিন্তু কদম্বকে দিয়ে এক আরণ্যক আবহতো তৈরি হয়েছে। রামকিংকর সে চিন্তায় রশদ জুগিয়েছেন। কদম্ব বৃক্ষের তলে থরো থরো দ্বিধায় কাঁপছে পা সুজাতার। উপরে কদম্ব চির বিরহের প্রতীকী বৃক্ষ মনে করিয়ে দেয় রাধা ও কৃষ্ণকে। মানব-মানবীর প্রতীকে জীবাত্মা ও পরমাত্মার চির বিরহের আকুতি গান। কবির মনেও কি তাই ছিল? তাই তাঁর একই গানে দেখি আছে কদম্ব, আছে অশ্বত্থ
আঁধার অম্বরে প্রচন্ড ডমরু বাজিল গম্ভির গরজনে।
অশ্বত্থ পলবে অশান্ত হিলোল সমীর চঞ্চল দিগঙ্গনে \
নদীর কলোল, বনের মর্মর বাদল- উচ্ছ¡ল নির্ঝর-ঝর্ঝর,
ধ্বনি তরঙ্গিল নিবিড় সঙ্গীতে শ্রাবণ সন্ন্যাসী, রচিল রাগিনী
কদম্ব কুঞ্জের সুগন্ধ মদিরা অজস্র লুটিছে দুরন্ত ঝটিকা।
তখন রাত। সন্ধ্যার আবহটি কেটেছে অনেক আগেই। গ্রামীণ বৃক্ষজ আবহে যে শান্তিনিকেতন, রাত হলে সেখানে ঝোপ-ঝাড়ে জোনাক জ্বলে, ঝিঁঝিঁ ডাকে। নগর ও পল্লী প্রকৃতির নিবিড় সমন্বয়ে এখানে মানব চিত্তের সামগ্রিক উদ্বোধন হয়। পাতা ফিরে গেছে সেই কখন। অতনু এর পরে একটু নীরব। কী জানি কী চেয়েছিল অথবা কী পায়নি তার দ্ব›েদ্ব কাঁপছে কি না। দেবযানী ও ফারাক্কা নিবাসিনী নৃত্য পটিয়সী রুমকি ফিরে গেছে সেই কখন। কিন্তু রেখে গেছে কিছু জ্যান্ত অনুভব। যে স্মৃতি সত্তার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে দূরাগত কেতকী, করবীর গন্ধ সৌরভ-
‘কেতকী কেশরে কেশপাশ করো সুরভী
ক্ষীণ কটিতটে গাঁথি লয়ে পরো করবী।
কদম্ব রেণু বিছাইয়া দাও শয়নে,
অঞ্জন আঁকো নয়নে
কার উদ্দেশে, কোন নারীকে ঘিরে কবির এ স্বপ্ন অনুভব যার কেশে থাকবে কেতকীর সৌরভ, কটিতে শোভা পাবে করবী ফুল, আর শয়ন শয্যায় কদম্ব রেণু বিছানো। এ কি সম্ভব? মনে পড়ে চর্যাপদের অরণ্যচারী ডম্বরুকে। লিখতে বসে একজন কবির কল্পলোকে সম্ভব জগৎ এসে ধরা দেয়- ঘুরে বেড়ায় কাল কালান্তর। এ কোন কবি? যদি বলি তিনি পৃথিবীতে জন্ম নেয়া সকল রোমান্টিক কবির রাজা, তবে কি ভুল হবে? সেই রোমান্টিকতাকে প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছেন ফুল ও বৃক্ষকে। তাই তাঁর প্রয়োজন কদম্ব, অশোক, শিরীষ, আম্র, শাল, পিয়াল, আমলকী, শিউলী, নাগকেশর, করবী, কুরচি, নীলমনি, মালতী, কেতকী, জুঁই, চামেলি, মলিকা আরো কত জনকে যারা গন্ধে, পাপড়িতে রবীন্দ্র চিত্তকে ভরিয়ে তুলেছিল, জুগিয়েছিলেন সাড়া আর এরা সবাই তাঁর শান্তিনিকেতনের অধিবাসী। যাদের আবাস ভূমি তৈরি করেছিলেন কোন দূর অতীতে আরেক কবি, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ পিতা, রবীন্দ্রের।
পনের.
সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়েছে সেই কখন। এখন রাত। আমরা দুজন আমি ও অতনু। অতনু এক ভাবে রাতের শান্তিনিকেতকে দেখছে। অনুভব করছি উপলব্ধির স্পর্শ বুলিয়ে আমিও দেখছি। ভাবছি, শুকছি, শুনছি রাতের শান্তিনিকেতনকে। যেখানে আদি প্রাণের স্বরূপ যে বৃক্ষ তার মেলা বসিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। ভারতীয় সভ্যতা ও আজকের উপমহাদেশীয় উত্তরায়ণের মূল ধারাটি অরণ্যের হাত ধরে। আর্য-পূর্ব ও আর্য সভ্যতা বনের পথ ধরেই বিকশিত হয়েছে। বেদ কিংবা বেদ-পূর্ব অনার্য জীবনে ‘বনস্পতি’ বা ‘অরণ্যানী’র উপাসনা হতো। ঋষি বলেছিলেন; “বৃক্ষ ইব স্তব্ধো দিবি তিষ্ঠত্যেকঃ” পৃথিবী নামক এ গ্রহটি এ প্রথম প্রাণের উদ্ভব বৃক্ষেই স্পন্দমান। তাই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতায় বলেছেন
“তুমি বৃক্ষ আদিপ্রাণ
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে
আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন;
পাষাণের বক্ষ পরে.. ..”
প্রকৃতি মানেুষের বড় বন্ধু। রবীন্দ্রনাথ সে কথাটি যতটা অন্তরের সাথে গ্রহণ করেছেন তা কি আর কেউ করেছেন? তাই তাঁর বৃক্ষপ্রিয় পিতার স্বপ্নের তপোবন সৃজনের মহাপরিকল্পনাকে তাঁর প্রিয় পুত্র রবীন্দ্রনাথ সে ধারারই স্থপতি হিসেবে ১৯০১ সালের প্রথম ব্রাহ্মবিদ্যালয় স্থাপনের পরে ১৯১৮ সালে একে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেন তখন এখানে বৃক্ষের মেলা। সেই সাথে শিক্ষার নান্দনিক দিকটির বিকাশের ব্যবস্থা করে তিনি সাহিত্য, ছবি, ভস্কর্য, সংগীত, নৃত্যসহ নান্দনিক বিকাশের সব আয়োজনই সম্পন্ন করেন।
সেই সঙ্গীত ভবনের দোড়গোড়ায় আমি ও অতনু। অতনু হঠাৎ করেই একটা বিড়ি ধরাল। কী জানি হয়ত পাতা চলে যাওয়ায় যে মদির বেদনাটি সৃষ্টি হয়েছিল তার নেশা কাটাতে এই অকারণ ধূম উদ্গীরণ কিনা। ওতো অভ্যস্ত নয় হঠাৎ আমারও কেমন ইচ্ছে হল। বলতে
অতনু আমার পিঠে থাপ্পর মেরে বলল, “এইতো চাই। এবার হবে তোমার।”
আমরা দুজনে একটি বনঝাউ এর নিচে। অতনু বিড় বিড় করে বলছে- “রবীন্দ্রনাথ এই বৃক্ষগুলো সম্পর্কে ‘বনবাণী’ কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় কী বলেছেন জানো –
“ওই গাছগুলো বিশ্ব-বাউলের একতারা , ওদের মজ্জায় মজ্জায়
সরল সুরের কাঁপন, ওদের ডালে ডালে পাতায় পাতায়
একতালা ছন্দের নাচন।”
আমি বলি, হ্যাঁ অতনু। সেই মহেন-জো-দাড়ো, হরপ্পা যুগের সংস্কৃতিতেও বৃক্ষের মহিমা উজ্জ্বল। তারপরে আর্য বৈদিক যুগেও সে প্রভাব স¤প্রসারিত হয়ে রবীন্দ্রমানসে এসেছে। কারণ আমরাতো বিবর্তন প্রবাহে পরস্পর সম্পর্কিত, আন্তরিক ভাবে যুক্ত। তাই তিনি আপন কবি স্বভাব সূত্রেই বৃক্ষকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বৃক্ষ লালনে তাঁর আগ্রহ ধর্মাচরণের মতই পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করেছেন। বলেছেন-
“বৃক্ষকে দেবতা মনে না করে যখন দেবতার আশ্রয়
মনে করা হয়, তখন তা জীবনহীন জড় বস্তুতে পরিণত হয়।
‘বৃক্ষ-আত্মা’ বনদেবতায় পরিণত হয়।” (চলবে)


0 Comments