॥ নমো তস্স ভগৰতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স॥
প্রার্থনার প্রয়োজনীয়তায় বলা হয়েছে- শ্রদ্ধা, শীল, শ্রুত, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা এই পঞ্চ ধর্ম বিদ্যমান থাকা সত্তেও যদি প্রার্থণা না থাকে তবে তার গতি অনির্দিষ্ট। আর যার প্রার্থণা আছে কিন্তু পঞ্চ ধর্ম নেই তাহলে তার গতিও অনির্দিষ্ট। যার প্রার্থণা ও পঞ্চ ধর্ম দুটিই আছে তার গতি নিদিষ্টি।আমরা যদি বন্দনা ও প্রার্থণা করতে না জানি তবে দানাদি কুশল কর্মের প্র্রভাবে আমরা হয়তো পরবর্তী জন্মে ধনী হবো তবে আমরা বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করতে পারবো না। দেখা যাবে আমাদের জন্ম হয়ে গেছে কোন এক দেশে যেখানে সারা বছর যুদ্ধ হয়। হয়তো বা আমাদের জন্ম হবে মিথ্যা দৃষ্টি সম্পন্ন মাতা পিতার ঘরে, বা জন্ম মাত্রই আমরা সারাক্ষণ ভয়ে থাকবো, বা কারণে অকারণে আমরা দন্ড ভোগ করব। প্রভৃতি নানা সমস্যা থেকে বাচাঁর জন্য নিচের প্রার্থনা পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:
ওকাস, ওকাস, ওকাস, বন্দামি ভন্তে ‘দ্বারত্তায়েন কতং’ কায়-মন-বাক্য এই ত্রিদ্বারেকৃত, ‘সব্বং অপরাধং খমতং মে ভন্তে’- সর্বপ্রকারের অপরাধ অকুশলাদি হতে মুক্ত হবার কামনায় বুদ্ধরত্ন, ধর্মরত্ন ও সংঘরত্ন এই ত্রিরত্নকে অতঃপর মহান গুরু আচরিয়কে সশ্রদ্ধচিত্তে অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে নতশিরে বন্দনা করছি। ‘দুতিয়ম্পি, ততিয়ম্পি’- দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার তদ্রুপভাবে নতশিরে বন্দনা করছি।
এইরূপ শ্রদ্ধা ও বন্দনা (সহ এই জন্ম সহ অতীত অতীত জন্মজন্মান্তরের সমস্ত কুশল কর্ম) করার পুণ্যফলে আমি/ আমরা যেন- চারটি অপায়, তিনটি কল্প, অষ্ট অক্ষন, অষ্ট ভয়, অপর আটটি ভয় সহ পঞ্চবিংশতি ভয়, দশবিধ দণ্ড, ছিয়ানব্বই প্রকারের রোগব্যাধি, পঞ্চবৈরী, চতুর্বিপত্তি, পঞ্চ ব্যসনধর্ম, বাষট্টিপ্রকারের মিথ্যাদৃষ্টি, দশমিথ্যা বা ভ্রান্ত ধারণা, দশবিধ সংযোজন, দশ অকুশলকর্মপথ, ৩২প্রকার কায়িক শাস্তি, অষ্টদোষ, পঞ্চমার ও মারের দশ সৈন্য, পঞ্চ কান্তার, চারি আসব, উপচ্ছেদক মৃত্যু (অস্বাভাবিক মৃত্যু), ছয় নিবীরণ, সপ্ত অনুশয়, আট প্রকার উন্মাদকতা,পঞ্চ অনন্তরিক কর্ম, চারি উপাদান, খারাপ সপ্ন ও অমঙ্গল পক্ষীরব ইত্যাদি থেকে জন্ম-জন্মান্তর নির্বাণ লাভ না করা অবধি সর্বদা মুক্ত হতে সক্ষম হয়ে সদ্ধা, সীল, সুত, চাগ, পঞ্ঞা, হীরি এবং ওতপ্প নামক সপ্তসাধু মনুষ্যরত্নে ভূষিত হয়ে প্রতি ক্ষণে দশবিধ কুশল কর্মপথে নিজেকে নিয়োজিত রেখে এই দুঃখময় সংসার চক্রে যেন সংক্ষিপ্ততম ভব-বিচরনে ১০৮ প্রকার তৃষ্ণা এবং ১৫০০ ক্লেষকে ধ্বংস করত আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গ তথা ৩৭ প্রকার বোধি পাক্ষীয় ধর্মের অনুশীলনে মার্গধর্ম, ফলধর্ম এবং মহা অসংস্কৃত পরম সুখ নির্বাণ ধর্মকে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারি প্রার্থনা করছি,ভন্তে।। (বাসায় ভিক্ষু না থাকলে ভন্তের স্থলে বুদ্ধ ভগবান বলা যায়।)
লিখেছেন- রক্তিম বড়ুয়া /
NB:

0 Comments