Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বিভেদ করা অধর্ম, যুক্ত করা ধর্ম ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

 


মনুষ্য সন্তান যখন জন্ম নিয়ে থাকে, তখন কেবল এক মনুষ্য সন্তানরূপেই জন্ম হয়ে থাকে। তখন তার কোনো জাতি যেমন থাকেনা, তেমনি ধর্মও থাকেনা। জাতি এবং ধর্মের লেবেল পরে লাগিয়ে দেওয়া হয়। জাতি এবং ধর্ম হল মানব নির্মিত। সেগুলি প্রকৃতি নির্মিত নয়। ধর্ম পরস্পরের সাথে ভেদ-বৈষম্য করে থাকে, কিন্তু প্রকৃতি কারো সাথে কখনও ভেদাভেদ করেনা। সেজন্য ধর্ম হল কৃত্রিম এবং প্রকৃতির মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নাই।

প্রকৃতির আলো-বাতাস, জল-জমিন, চাঁদ-সূর্য, খাদ্য-খনি ইত্যাদি জাতি-ধর্মের ভিত্তিতে কি নির্মাণ করে থাকে? যখন প্রকৃতি মনুষ্যের সাথে ভেদাভেদ করেনা, তখন মানুষ কেনো জাতি এবং ধর্মের নামে এত ভেদ-বৈষম্য করে থাকে? আপনি কি সবসময় নিজেই নিজের জাতি-ধর্মের কৃষকদের ক্ষেতে উৎপাদিত শাক-সব্জি, খাদ্য শষ্যাদিই কেবল সেবন করে থাকেন? আপনি কি কেবল নিজের জাতি-ধর্মের ব্যবসায়ীদের কাছ হতে খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র, ডিজেল, পেট্রোল, গ্যাস সহ নানা সংশাধন সবসময় ক্রয় করে থাকেন? আপনি কি সবসময় আপনাদেরই জাতি-ধর্মের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন? আপনি কি সবসময় আপনারই জাতি-ধর্মের লোকদের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন? আপনি কি সবসময় নিজেরই জাতি-ধর্মের লোকের কাছ হতে প্রয়োজনের সময় আপনার শরীরের জন্য রক্ত নিয়ে থাকেন? আপনি কি আপনারই জাতি-ধর্মের এসপি, জেলা প্রশাসক, জজ, বিচারপতির কাছে সবসময় বিচারে ন্যায় প্রার্থনা করতে গিয়ে থাকেন? আপনি কি সবসময় আপনারই জাতি-ধর্মের লোকদের কল-কারখানা, অফিস বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে থাকেন?
এগুলি যখন সর্ববিদিতভাবে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে, উপরিউক্ত সুযোগ-সুবিধা সমূহ জাতি-ধর্মের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারেনা, তখন ব্যক্তি যতই ধার্মিক কট্টরতায় গ্রসিত হোকনা কেনো, উক্ত সুযোগ-সুবিধার জন্য যেকোনো ব্যক্তি জাতি-ধর্মের গণ্ডির সীমাকে অতিক্রম না করে থাকতে পারেনা। সুতরাং এরূপ বলতে কোনো দ্বিধা নাই যে, ধর্ম-জাতি কেবল মানব-মানবের মধ্যে বিভেদ করার জন্য মানুষের দ্বারাই বানানো হয়েছে এবং অপ্রিয় সত্য ইহাই যে, মনুষ্য একে অপরের সহযোগিতা ব্যতীত কোনো কর্মই সম্পূর্ণ করতে পারবেনা। এজন্য পৃথিবীকে জাত-পাতহীন মানবতাবাদী বিচারধারা সম্পন্ন মানবধর্মেরই সর্বাধিক প্রয়োজন, জাতি-ধর্মের বিভেদ সৃষ্টিকারী অনর্থকর ধর্মের কোনো দরকার নাই। তাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে, যেখানে জাতি-ধর্মের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হয়না, সেখানে ধর্মের আধারে জীবন-যাপন করার পদ্ধতিও ভিন্ন হবে কেনো? আমরা সকলে মানব সন্তানরূপেই জন্মেছিলাম এবং মানবরূপেই আমাদের পরিচিতি থাকা উচিত। সর্ব প্রথমে এবং অন্তিম সময় পর্যন্ত কেবল এবং কেবলই একজন মনুষ্য সন্তানরূপেই যাতে বিদায় নিতে পারি সকলের সে প্রয়াস করাই উচিত। সকল মনুষ্যের মানব ধর্মের সাথে যুক্ত থাকাই হল মুখ্য কাজ, বিভেদ কখনও ধর্মের কাজ নয়।
এজন্য জাতি-ধর্ম গণ্ডী হতে ঊর্ধে উঠে জীবন-যাপন করার আনন্দ উপভোগ করুন এবং এরপর দেখবেন যে, আপনার জীবনে অন্যদের জন্য ঘৃণা, উঁচু-নীচু ভেদ-বৈষম্যের কোনো স্থান আর থাকতেই পারবেনা। সকলকে আপনত্বের আনন্দ-সুখই হল অপার্থিব।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement