বুদ্ধ নিজেই বলেছেন—
“মনো পুব্বঙ্গমা ধম্মা, মনোসেট্ঠা মনোময়া”
অর্থাৎ, সব কিছুর আগেই মন, মনই প্রধান, সবই মনের দ্বারা গঠিত।
আমরা সাধারণ মানুষ দেহকে স্থির রাখতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমাদের মন সর্বদা অস্থির—কখনো রাগে, কখনো হিংসায়, কখনো লোভে, আবার কখনো অহংকারে দোল খায়। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাঁর সাধনা ও ধ্যানের মাধ্যমে এই অস্থির মনকে সম্পূর্ণভাবে জয় করেছিলেন।
তাঁর মন ছিল— প্রশান্ত, গভীর সমুদ্রের মতো;
অটল, পাহাড়ের মতো দৃঢ়;
এবং নির্মল, আকাশের মতো বিশুদ্ধ।
কেউ তাঁকে অপমান করলেও তিনি বিচলিত হতেন না, কেউ প্রশংসা করলেও তিনি অহংকারে ভেসে যেতেন না। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, নিন্দা-প্রশংসা—জীবনের এই আটটি পৃথিবীধর্ম (লোকধর্ম) তাঁর মনকে কখনো নাড়া দিতে পারেনি।
বোধিবৃক্ষের নিচে বসে যখন তিনি অটল প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—
“সত্য লাভ না হওয়া পর্যন্ত এই আসন ত্যাগ করবো না”,
তখন তাঁর দেহ যেমন স্থির ছিল, তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি স্থির ছিল তাঁর মন। সেই অটল চিত্তের শক্তিতেই তিনি মারার সব প্রলোভন ও বাধা অতিক্রম করে বুদ্ধত্ব লাভ করেন।
এই শিক্ষাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা—
বাহ্যিক দেহকে নয়, আমাদের উচিত নিজের মনকে স্থির করা। কারণ মন যদি শান্ত হয়, তবে পুরো জীবনই শান্ত হয়ে যায়।
তাই সত্যিই বলতে গেলে,
গৌতম বুদ্ধের সবচেয়ে স্থির অঙ্গ ছিল তাঁর মন—যে মন ছিল চিরশান্ত, অবিচল এবং মুক্তির পথের আলোকবর্তিকা।

0 Comments