বুদ্ধের জীবনী
উত্তর-পূর্ব ভারতের কপিলাবাস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধোধন এর পুত্র ছিলেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনী কাননে (নেপাল) জন্ম নেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। তাঁর জন্মের ৭ দিন পর তাঁর মা, রানি মহামায়া মারা যান। তাঁর জন্মের অব্যাবহিতকাল পর জনৈক কপিল নামক সন্ন্যাসী কপিলাবস্তু নগরীতে আসেন। তিনি সিদ্ধার্থকে দেখে ভবিষ্যৎবানী করেন যে, সিদ্ধার্থ ভবিষ্যতে হয় চক্রবর্তী রাজা হবেন, অথবা একজন মহান শিক্ষক হবেন।
মা মারা যাবার পর সৎ মা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে লালন পালন করেন, তাই তার অপর নাম গৌতম। ছোটবেলা থেকেই সিদ্ধার্থ সব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু সিদ্ধার্থ সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন বলে তাঁকে সংসারী করানোর লক্ষ্যে ১৬ বছর বয়সে রাজা শুদ্ধোধন যশোধরা মতান্তরে যশোধা বা গোপা দেবী নামক এক সুন্দরী রাজকন্যার সাথে তার বিয়ে দেন। রাহুল নামে তাদের একটি ছেলে হয়। ছেলের সুখের জন্য রাজা শুদ্ধোধন চার ঋতুর জন্য চারটি প্রাসাদ তৈরি করে দেন।
কিন্তু উচুঁ দেয়ালের বাইরের জীবন কেমন তা জানতে তিনি খুবই ইচ্ছুক ছিলেন। একদিন রথে চড়ে নগরী ঘোরার অনুমতি দেন তার পিতা। নগরীর সকল অংশে আনন্দ করার নির্দেশ দেন তিনি, কিন্তু সিদ্ধার্থের মন ভরল না। প্রথম দিন নগরী ঘুরতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি, দ্বিতীয় দিন একজন অসুস্থ মানুষ, তৃতীয় দিন একজন মৃত ব্যক্তি এবং চতুর্থ দিন একজন সন্ন্যাসী দেখে তিনি সারথি ছন্দককে প্রশ্ন করে জানতে পারেন জগত দুঃখময়। তিনি বুঝতে পারেন সংসারের মায়া, রাজ্য, ধন-সম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়।
তাই দুঃখের কারণ খুঁজতে গিয়ে ২৯ বছর বয়সে গৃহ্ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি বুদ্ধগয়া বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিজ্ঞান লাভ করেন। সবার আগে বুদ্ধ তাঁর ধর্ম প্রচার করেন পঞ্চ বর্গীয় শিষ্যের কাছে; তাঁরা হলেন কৌন্ডিন্য, বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম এবং অশ্বজিত।
এরপর দীর্ঘ ৪৫ বছর বুদ্ধ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার বৌদ্ধ ধর্মের বানী প্রচার করেন। এবং তাঁর প্রচারিত বানী ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশে ও দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৭০৩ অব্দে তিনি কুশীনগর নামক স্থানে ৮০ বছর বয়সে পরিনির্বাণ করেন। গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বানীর মূল অর্থ হল অহিংসা।
সিদ্ধার্থের
__________________________________________
বুদ্ধের জন্মকালীন সময়ের অলৌকিকতা নিয়ে
অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন আবার বিশিষ্ট জনেরা জনসম্মুখে বুদ্ধের জন্মকালীন সময়ের অলৌকিকতা গুলো কে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন ,এমনকি ভূয়া শব্দটি ব্যাবহার করতে ও পিছপা হচ্ছে না ।এইসকল অবিশ্বাসী লোকদের অবিশ্বাস্য প্রশ্নের উত্তর গুলো নিম্নরুপে দেওয়ার চেষ্টা করেছি :-
যে বিষয়গুলোতে অনেকের সন্দেহ -
১* বুদ্ধ সিদ্ধার্থ অবস্থায় অন্য আর ১০ জনের মত ভূমিষ্ট হলো না কেন ?
২* জন্মের পর একটা বাচ্চা হাঁটে কী করে ?
৩* জন্মের পরপর একটি বাচ্চা কথা বলে কী রুপে ?
৪* সিদ্ধার্থ এত বয়সে ও কেনো জরা বৃদ্ধ দেখলো না বা চিনলো না অথবা একজন যুবক কী করে জরা ,মূত্যু বুঝে না ?
এবার আসা যাক উত্তর দেওয়ার পালায় --
শুরুতেই বলতে হয় যদিও বুদ্ধ মানুষ হয়েই জন্ম নিয়েছেন তথাপি বুদ্ধকে মানুষ অথবা দেবতা কারো সাথেই তুলনা করা যায় না বা উচিত ও নয়। প্রকৃতার্থে বুদ্ধ , বুদ্ধ ই । ত্রিপিটকের বুদ্ধবংস
গ্রন্থ পাঠে আমরা জানতে পারি যেখানে বুদ্ধ বলেছেন ,যাদের কোটি বা শেষ প্রান্ত জানা যায় না ,সেই চারিটি বিষয় ।
এই চারটি বিষয় কী কী ?
১*জীবলোক
২*আকাশ
৩*অনন্ত চক্রবাল এবং
৪* অপ্রমেয় বুদ্ধজ্ঞান ।
এই চারটি বিষয় গণনাতীত ও প্রমাণাতীত । ইহাদের অন্ত বা শেষ জানা যায় না এবং এই বিষয়গুলি বুঝতে পারা যায় না অর্থাত্ এগুলো অচিন্তনীয়। অন্যদিকে একই গ্রন্থে বুদ্ধ আরো বলছেন ,জগতে আমার এই ঋদ্ধি প্রদর্শিত হয়েছে ,ইহা কী আশ্চর্য ! ইহা অপেক্ষা আরো অনেক আশ্চর্য ,অদ্ভুদ ও লোমহর্ষণজনক ঋদ্ধি আছে । ধর্ম সঙ্গনী অর্থকথায় , সংসার সাগর ,জল সাগর ,ন্যায় সাগর ও জ্ঞান সাগর ভেদে চার প্রকার সাগরের কথা উল্লেখিত আছে । যার মধ্যে বুদ্ধের সর্ব্বজ্ঞতা জ্ঞানকে , জ্ঞান সাগর বলে উক্ত আছে ।
আবার অঙ্গুত্তর নিকায় গ্রন্থের চতুর্থ নিপাতে উল্লেখ আছে চারি প্রকার বিষয় অচিন্তনীয়। যথা বুদ্ধগণের বুদ্ধ বিষয় অচিন্তনীয় ,ধ্যানীর ধ্যান বিষয় অচিন্তনীয় ,কর্ম বিপাক অচিন্তনীয় এবং লোক চিন্তা অচিন্তনীয় ।এই চারটি বিষয় সাধারণের বোধ বা চিন্তার অতীত । যেহেতু এগুলো চিন্তা করলে উন্মাদ দুঃখের ভাগী হতে হয় ।
বুদ্ধগনের মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ ,ভূমিষ্ট কাল ,অভিনিষ্ক্রমণ ,বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বানের সময়ে বত্রিশ প্রকারের পূর্ব্ব নিমিত্ত দেখা যায় । সর্বজ্ঞ বুদ্ধের প্রতিসন্ধি গ্রহণ দিবসে যেই আলোক উৎপলন্ন হয় তা জগত্ আলোকিত করে।এমনকি লোকান্তরিক নিরয়েও সেই আলোক যেয়ে পড়ে । বলতে গেলে বলতে হয় জগতে বুদ্ধোৎপত্বি চরম ভাবে দুর্লভ অন্যদিকে বুদ্ধের নাম শুনতে পারাটা কোন এক জন সত্বের জন্য কল্প কল্পান্তরেও দুর্লভ।প্রকৃত অর্থে বুদ্ধের গুণ বর্ণনা করতে পারবে এমন সত্ত্ব পাওয়া যাবে গুটিকয়েক , মূর্খ অজ্ঞানীর পক্ষে অপ্রমেয় বুদ্ধকে চিনতে পারার হেতু তেমন নেই বললেই চলে । বর্তমানে বুদ্ধের অলৌকিকতা নিয়ে যেইসব প্রশ্ন উঠছে এর মূল কারণ হলো বুদ্ধের অনন্ত গুণ প্রকৃতভাবে চিনতে না পারা। পূর্বজন্মে এবং নির্বাণে অবিশ্বাস এবং সর্বোপরি মিথ্যাদৃষ্টিক মনোভাব। প্রশ্ন হলো বুদ্ধকে আপনি এমন বা তেমন হতে পারে এটা বলার অধিকার বা যোগ্যতা কোন টাই রাখেন না।এই প্রসঙ্গে বলতে হয় একসময় সারিপূত্র ভান্তে বুদ্ধকে বললেন বুদ্ধ আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি ,আপনি কী । বুদ্ধ ,সারিপুত্রকে বললেন সারিপুত্র তুমি তোমার শ্রাবকত্ব জ্ঞান দিয়ে বুদ্ধকে যতটুকু চিনার চিনেছ ,কিন্তু একজন সম্যাক সম্বুদ্ধকে প্রকৃতরুপে চিনতে পারেন আরেকজন সম্যাকসম্বুদ্ধ। যেই অগ্রমহাশ্রাবক সারিপুত্র কল্পকাল ব্যাপী বৃষ্টি হলে কত ফোঁটা জলে আর কত ফোঁটা স্থলে পড়ে তা পূঙ্কানুপূঙ্করুপে বলতে পারেন ,যাকে ধর্মসেনাপতি বলা হয় ,যার দেশনা শুনেও অগনিত সত্ত্ব মুক্ত হয়েছেন ,সেই সারিপুত্র ভান্তে যদি বুদ্ধের গুণ বর্ণনা করতে অসমর্থ হন ,তবে আমাদের মত অন্ধপৃথকজনের বুদ্ধ এরকম বুদ্ধ ঐরকম বলাটা সত্যিই মূর্খতা ও অজ্ঞতার সামিল। মিলিন্দ প্রশ্ন গ্রন্থে, আমরা দেখতে পাই , বুদ্ধের গুণ এত ই অচিন্তনীয় যে ,এই দশ সহস্র সংখ্যাক বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে নাকী এক সময়ে কেবলমাত্র এক বুদ্ধকে ধারণ করতে পারে। অর্থাত্ একজন মাত্র বুদ্ধের গুণ ধারণ করতে পারে। যদি দুইজন বুদ্ধ একসাথে উৎপন্ন হন ,তবে এই বিশ্ব তা ধারণ করতে পারে না। তখন বিশ্ব চঞ্চল হয় ,কম্পিত হয় ,নমিত হয় ,অবনত হয় ,বিনত হয় ,বিক্ষিপ্ত ও বিধ্বংস হয় ,যথাস্থানে স্থির থাকতে পারে না । বুদ্ধগুণ এতটাই কল্পনার অতীত ।
দশপারমী ও চরিয়া পিটক গ্রন্থে, গৌতম বুদ্ধের দানপারমী সম্বন্ধে বলতে গিয়ে উল্লেখ আছে যে বুদ্ধাঙ্কুর চারি অসংখ্যা কল্পের অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন ,প্রতিটি পারমীতে পরমার্থ পারমী পূর্ণ করতে জীবন দান অর্থাত্ প্রাণ বিসর্জন করতে হয়েছে ।এইরকম অসীম গুণ সম্পন্ন দান পারমীর পরিপূর্ণ বর্ণণা করা বুদ্ধগুণ বর্ণনার ন্যায় অবর্ণনীয় ।বুদ্ধাঙ্কুর বোধিসত্ত সুদীর্ঘ লক্ষাধিক চারি অসংখ্য কালাবধি ,প্রার্থী যাচকগণের প্রয়োজনে যত রক্ত দান করেছেন তা সংরক্ষণ করে রাখলে মহাসমুদ্রের জল হতে অধিক হতো ।আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক যেসমস্ত বস্ত্তুদান করেছেন তা পূথিবীর মূত্তিকার অধিক, মুকুটসহ যত মস্তক দান করেছেন তা সুমেরু পর্বত প্রমাণ উচ্চ এবং যত চক্ষুদান করেছেন সমস্ত জমা করলে তা আকাশের নক্ষত্রের চাইতে ও অধিক হতো ।
আমরা ভাবী কী বুদ্ধ মনে হয় শেষ জন্মে এসেই বোধিদ্রুম মূলে বসেই একটু ধ্য্যান করেই বুদ্ধ হয়েছেন ,আর কিছু নৈতিকতা প্রচার করেছেন মাত্র কিন্তু এই ধারণা ভূল ।গৌতম বুদ্ধ ৪ অসংখ্যেয় লক্ষকল্পকালাবধি পারমী পূরণ করেছেন দীপঙ্কর বুদ্ধের নিকট হতে বরপ্রাপ্তীর পর কায়িকভাবে ,এর আগে মানসিকভাবে আমি বুদ্ধ হতে চাই মনে মনে সংকল্প অধিষ্টান করে কাটিয়েছেন ৭ অসংখ্যেয় কল্প ,এরপর বাচনিকভাবে মুখে মুখে বলে কাটিয়েছেন ৯ অসংখ্যেয় এক লক্ষাধিক কল্প ।এইভাবে ৭+৯+৪=২০ অসংখ্যেয় এক লক্ষাধিক কল্প । এছাড়া একজন বুদ্ধের নিকট বরপ্রার্থনা করার সময়েই ঐ সত্তের অর্থাত্ যিনি বুদ্ধাঙ্কুর হবেন ,যেমন আমাদের গৌতম বুদ্ধ সুমেধ তাপস জন্মেই দীপঙ্কর বুদ্ধের নিকট বুদ্ধত্ত প্রার্থনা না করলে সেই জন্মেই অরহত্ত মার্গফলে প্রতিষ্টিত হতো ।এমনকী বুদ্ধবংশ বইয়ে আমরা দেখতে পাই , যেই জন্মে দীপঙ্কর বুদ্ধ বর দিয়েছিলেন আমাদের গৌতম বুদ্ধকে ,সেই মূহুর্তেই সদ্য বুদ্ধাঙ্কুরের গুণের প্রভাবেই নানাবিধ অলৌকিকতা দূশ্যমান হয়েছিলো । যেমন শীত এবং উষ্ণতা দূর হলো ,দশ সহস্র চক্রবাল নিঃশব্দ ও নিরাকুল হলো ,মহাবায়ু প্রবাহিত হলো না ,নদীর স্রোত ও স্পন্দিত হলো না ,লতা অথবা বৃক্ষ ফল ভরে অবনত হলো ,মানুষ ও দেবতাদের বাদ্য যন্ত্র স্বয়ং ধ্বনিত হলো ,আকাশ হতে নানান রঙের সুগন্ধ পুষ্প বর্ষিত হলো ,মহাসমুদ্র গর্জন করলো এবং দশসহস্র চক্রবাল কম্পিত হলো ,নরকের আগুন নিবে গেলো ,সূর্য নিশ্চল হলো ,সমস্ত রোগ উপশম হলো ,ক্ষুধা বিনষ্ট হলো ,দুর্গন্ধ বিদূরীত হয়ে সুগন্ধ প্রবাহিত হলো ,অরুপ ব্রহ্মলোকবাসী দেবতা ব্যতীত সকল দেবতা দেখা গেলো ,নরক পর্যন্ত দূষ্টিগোচর হওয়া সহ আরো বিবিধ লক্ষণ বা পূর্বনিমিত্ত দেখা গিয়েছিলো. যেই বুদ্ধের চারি অসংখ্যা লক্ষাধিক কল্প পূর্বে সদ্য বুদ্ধাঙ্কুরের বীজ রোপন করার মূহূর্তেই ,জগত এত বিচিত্র ধরনের অলৌকিকতা প্রদর্শন করে,সেই ভাবীবুদ্ধ পরবর্তীতে যখন চারি অসংখ্যা লক্ষাধিক কল্পাবধি চক্ষু দান ,রক্ত দান ,মস্তক দান সর্বোপরি জীবন দানের মাধ্যামে যখন ৩০ প্রকার পারমী পরিপূর্ণ করেন তবে সেই বুদ্ধের অন্তিম জন্মের সময় নানাবিধ অলৌকিকতা প্রদর্শিত হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনাই বলতে হয় ।
বুদ্ধ বোধিসত্বাবস্থায় দান দিবার সময় পরলোকে উত্তম জন্ম লাভের জন্য দান দিতেন না ,ধনলাভের জন্য দান দিতেন না ,প্রতিদানের আশায় দান দিতেন না ,প্রতারণার জন্য দান দিতেন না ।দীর্ঘ আয়ু ,সুখ ,শক্তি ও যশের লালসায় দান করতেন না । তিনি পুত্র ও কণ্যার কামনায় দান করতেন না । কিন্তু তিনি সর্বজ্ঞতা জ্ঞানরত্নের নিমিত্তে এইরুপ অতুল ,বিপুল ,অনুত্তর ও অদ্বীতীয় দানসমূহ প্রদান করতেন । এইরুপ পারমী যিনি পূরণ করেন তার অন্তিম জন্মে নানাবিধ অলৌকিকতার দৃষ্ট হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ।
এবার আসা যাক বোধিসত্ত্বদের ধর্মতা বা নিয়মে ।
এগুলো কী কী -
১*অন্তিম জন্মে বোধিসত্ত্বগণ স্মৃতিমান হয়ে মাতৃগর্ভে প্রবেশ করেন
২*মাতৃগর্ভে পদ্মাসনে উপবেশন করে বহির্মূখী হয়ে অবলোকন করে থাকেন স্মৃতিযুক্তাবস্থায় ।
৩*বোধিসত্ত্বগণ দন্ডায়মান ও স্মৃতিমান অবস্থায় স্থিত হন।
৪*বোধিসত্ত্বের জন্ম অরন্যে হয়ে থাকে
৫*সদ্যেজাত বোধিসত্ত্ব সমপাদোপারি স্থিত হন এবং উত্তরাভিমুখী হয়ে সপ্ত পদ গমন করেন ।
এরপর সর্বদিকে দৃষ্টিপাত পূর্বক এই মহত্ত্ব ব্যঞ্জন বাক্য উচ্চারণ করেন ,এই পৃথিবীতে আমি অগ্র ,আমি জৈষ্ঠ ,আমি শ্রেষ্ঠ ,এই আমার শেষ জন্ম আমার আর পূর্ণজন্ম নেই ।
এইরুপ ৩০ টি ধর্মতা দেখা যায় । বোধিসত্ত্বগণের এতো অদ্ভুদ অচিন্তনীয় গুণ থাকা সত্ত্বেও কেনো তারা দেবলোকে জন্ম না নিয়ে অন্তিম জন্মে মনুষ্যলোকে জন্ম নেন ?
এর অন্যতম কারণ স্বরুপ বলতে হয় ,লোকেরা যাতে ঈশ্বরবাদের মত মিথ্যাদৃষ্টিতে আচ্ছন্ন না হয় সেই কারণে .এরুপ হলে অনেকে শাশ্বতবাদ হতে মুক্ত হতে পারবে না ,জগতবাসীর এরুপ মিথ্যাদৃষ্টি বিদূরিত করার জন্যই বোধিসত্ত্ব দেব-সুগতিতে জন্ম না নিয়ে মনুষ্যলোকে জন্ম নেন। অন্যদিকে মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্রে ও মাতৃগর্ভে জন্ম না নিয়ে উপপাতিক সত্ত্ব অর্থাত্ দেবতাদের মত জন্ম নিতে পারতেন কিন্তু সেরকমটি হলে বুদ্ধের পরিনির্বানের পর বুদ্ধের ধাতু থাকবে না বিধায় ,বুদ্ধগণ মানুষের মত জন্ম নেন । প্রকৃত অর্থে বুদ্ধগুণ অনন্ত। বুদ্ধের শারীরিকভাবেই ৩২ প্রাকারের বাহ্যিক মহাপুরুষ লক্ষণ এবং ৮০ প্রকারের অনুব্যাঞ্জন আছে যা কেবলমাত্র বুদ্ধের জন্মজন্মান্তরে অদ্ভুদ ও অত্যাশ্চর্য পারমী পূরণের কারণেই হয়েছে । বুদ্ধের জন্মকালীন যে অলৌকিকতা দন্ডায়মান অবস্থায় জন্ম , এরপর হাঁটা ,কথা বলা এগুলো সব অতীতের পারমীর কারণেই । বুদ্ধগুণ কত অধিক তা বুঝাতে গিয়ে বুদ্ধ বলছেন,বুদ্ধগুণ আমার কথিত পরিমাণ হতে আরো বেশী ।যেমন জল পরিপূর্ণ মহা গঙ্গার স্রোত মুখী সুই ধরলে সেই সুঁইয়ের মুখ স্পর্শ করে প্রবাহিত জল হতে গঙ্গার অবশিষ্ট জল যেমন অধিক , সেইরুপ দেশিত বুদ্ধগুণ হতে অদেশিত বুদ্ধগুণ অত্যাধিক ।
সেই ভগবানের দেহের পরিমাণ কেউ করতে পারে না ।জনৈক ব্রাহ্মণ এই কথা শুনে বুদ্ধ পিন্ডপাতে যাওয়ার সময় ষাট হাত লম্বা একটি বাঁশ নিয়ে বুদ্ধের সামনে দাঁড়ালো ,দেখা গেল সেই বাঁশ বুদ্ধের হাঁটু পর্যন্ত উচ্চ হয়েছিল মাত্র ।পরেরদিন পূর্বের বাঁশের সাথে আরো একটি ষাট হাত বিশিষ্ট বাঁশ সংযোগ করে দিয়ে দাঁড়ালো। ভগবান তারপরেও ঐ দুই বাঁশের চাইতে উঁচা মনে হলো। এরপর বুদ্ধ ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞেস করলেন কী করো ,প্রতিউত্তরে ব্রাহ্মণ বললো আমি আপনার উচ্চতা মাপার চেষ্টা করছি ।
বুদ্ধ বললেন, ব্রাহ্মণ তুমি যদি সমস্ত চক্রবাল পূর্ণ করে বাঁশ সংযুক্ত করে আসো ,তথাপি আমার উচ্চতা পরিমাণ করতে পারবে না ,আমি যে লক্ষাধিক চারি অসংখ্যা কল্পকাল ব্যাপী পারমী পূর্ণ করেছি ,তা অপর ব্যাক্তির অপ্রমেয় হওয়ার জন্য নয় ।
প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধের ৩২ মহাপুরুষ লক্ষণ এবং ৮০ প্রাকার বাহ্যিক অনুব্যাঞ্জনসমূহ এবং অচিন্তনীয় বুদ্ধগুণ আমাদের সাধারণ মানুষের পক্ষে অবিশ্বাস্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। অন্ধ পৃথকজন বুদ্ধের গুণ কতটুকু ই বা বুঝবো ! যেই বুদ্ধ উপরিউক্ত প্রকারে নানাভাবে অচিন্তনীয় ,সেই বুদ্ধের জন্মকালীন সময়ে দন্ডায়মান অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করা ,হাঁটি ,কথা বলা অত্যন্ত স্বাভাবিক । বুদ্ধের এই অলৌকিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মূল কারণ হচ্ছে অনেকের বুদ্ধগুণ সম্বন্ধে ধারণা না থাকা এবং পূর্বজন্মে অবিশ্বাস । হয়তো অনেকে কালাম সূত্রের উদ্ধতি দিয়ে বলতে পারেন বুদ্ধ অন্ধভাবে কিছু নিতে বারণ করেছেন । এই কালাম সূত্রটা বুদ্ধ দিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য ,এখন কথা হলো যে বুদ্ধের এতো এতো অচিন্তনীয় গুণ যে বুদ্ধকে সারিপুত্র ভান্তেও চিনতে পারেন না সেই বুদ্ধকে আমি ,আপনি আমাদের পৃথকজন জ্ঞান দিয়ে চিনেছি দাবী করাটা বা বুদ্ধকে মাপতে যাওয়াটা বোকার স্বর্গে বসবাসের মতো ,অনেকটা যেন ক্লাস ওয়ান পড়ুয়ার মাস্টার্সের বই পড়ে বুঝার মত ব্যাপার ।
অন্যদিকে বলা হচ্ছে সিদ্ধার্থ এতো বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও কেন রোগ কী ,মৃত্যু কী এগুলো বুঝতে পারবেন না? এর স্বপক্ষে বলতে হয় সকল সম্যাকসম্বুদ্ধের ধর্মতা বা বিশ্বনিয়ম যে ,বোধিসত্বাবস্থায় চার নিমিত্ত দেখলেই অর্থাত্ বৃদ্ধ ,জরা , মৃত্যু ও সন্ন্যাসী দেখলেই কেবলমাত্র মহানিভিস্ক্রমনে যান অর্থাত্ সংসার ত্যাগ করেন ।এই কারণেই বুদ্ধগণ এমন সময়ে জন্ম নেন না যেই সময়ে মানুষের আয়ু অত্যাধিক বেশী ,কারণ ঐ সময়ে মানুষের মূত্যু যেন নেই মনে হয় ।অন্যদিকে গৌতমতো রাজার ছেলে ছিলেন এবং রাজা তার প্রাসাদে এই সকল ব্যাক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন ।আর বোধিসত্ত্বগণ যেহেতু নিজেরাই নিরোগ থাকেন সেহেতু সিদ্ধার্থের জরা -ব্যাধি বুঝতে পারার সুযোগই বা কোথায়?যেই বোধিসত্বের শরীরের কোমলতা হেতু ধূলাবালি পর্যন্ত লাগতে পারে না। সেই সিদ্ধার্থের জরা ,ব্যাধি বুঝতে পারার সুযোগই বা কোথায়? যতক্ষণ না পর্যন্ত চার নিমিত্ত দর্শন করে । বলতে গেলে, প্রতিটি জিনিসের উপযুক্ত সময় আছে ,সময় না হলে যেমন গাছে ফল ধরে না ,ঠিক তদ্রুপভাবে উপযুক্ত সময় না হলে ও বোধিসত্বগণের নিমিত্ত তথা জন্ম- জরা ,ব্যাধি মৃত্যুর নিমিত্ত দর্শন হয় না । সকলের প্রতি মৈত্রীময় আহবান জানাবো যে, বুদ্ধকে চিনতে না পারলে চুপ করে থাকুন অযথা নিজের এবং অপরের অমঙ্গলের কারণ হয়ে দাঁড়াবেন না । মিথ্যাদৃষ্টি পরিহার করুণ ,জগতে মিথ্যাদৃষ্টির ন্যায় দোষণীয় কিছু নেই ।বুদ্ধ মিথ্যাদৃষ্টিকদের কথা শুনতে ও বারণ করেছেন।
----নালাগিরি হস্তী বুদ্ধকে কি করেছিল?
নিজের সুকৃত-দুষ্কৃত বা সুচরিত-দুশ্চরিত কর্ম সমূহের ফল ও বিপাক আছে। কর্ম বিপাক হল, নিজের এসব কৃত কর্মের অনুরূপ ফল ভোগ করা। বুদ্ধের বিপরীতে ভিক্ষুসংঘের অদ্বিতীয় ক্ষমতার অধিকারী হবার মানসে দেবদত্ত অজাতশত্রুর সাথে চক্রান্ত করে ভগবান বুদ্ধের জীবন বিনষ্ট করার জন্য মগধরাজের হাতিশালার সবচেয়ে প্রচন্ড রাগি ও বদ স্বভাবের হাতি নালগিরিকে মদ্য পানে মত্ত করে বুদ্ধের পিণ্ডপাত সংগ্রহের গমণ পথে ছেড়ে দিলেন বুদ্ধের প্রাণ নাশের জন্য। বুদ্ধ সেদিন মৈত্রী (পারমিতা) বারি সিঞ্চন পূর্বক সেই নালাগিরি হাতিকেও জয় করেছিলেন। তদুপরিও, বুদ্ধের প্রতি আক্রোশ পূর্বক দেবদত্ত নালাগিরি হস্তীকে মদমত্ত করে বুদ্ধের চলার পথে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাটি নিছক কোন ঘটনা ছিল না। এতে জড়িয়ে ছিল মহাকারুণিক বুদ্ধের অতীত জন্মের কর্ম বিপাক। এবং দ্বাদশ কর্ম বিপাকের মধ্যে ইহা ছিল গৌতম বুদ্ধের সপ্তম কর্ম বিপাক।
এর কারণ বা পূর্বযোগ হল, অতীত এক জন্মে গৌতম বুদ্ধ হাতির মাহুত হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি হাতির পিঠে অবতরণ পূর্বক রাস্তা দিয়ে যাবার সময় এক পচ্চেক বুদ্ধকে দেখতে পান। এমন সময় হঠাৎ তার মনে দুষ্টুমির উদয় হওয়ায় ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সেই পচ্চেক বুদ্ধের পিছন দিকে অগ্রসর হন। পরবর্তীতে এ দুষ্কর্মের জন্য তিনি পচ্চেক বুদ্ধের নিকট ক্ষমাও চান। তা সত্ত্বেও এ পাপের ফলে জন্ম-জন্মান্তর ব্যাপী গৌতম বুদ্ধকে বহুবার নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় এবং সর্বশেষ অন্তিম জন্মে বুদ্ধও হয়ে সেই কর্মের বিপাক ভোগ করতে হল।
-----বুদ্ধ শব্দের অর্থ কী? বুদ্ধ কত প্রকার ও কি কি?
বুদ্ধ শব্দের অর্থ পরম জ্ঞান বোধ শব্দ থেকেই বোধি শব্দের উদ্ভব। যিনি বোধি বা জ্ঞানে পরিপূর্ণ হন তিনিই হন বুদ্ধ। তাই 'বুদ্ধ ' শব্দের সরল অর্থ জ্ঞানী। তবে এই জ্ঞান সাধারণ বা শুধু জাগতিক জ্ঞান নয়। বহুবিধ বিষয়ের সমন্বিত জ্ঞান ' বিশেষত চার আর্যসত্য অধিগত জ্ঞান। এই জ্ঞানকে পরমার্থ জ্ঞানও বলা হয়। জাতিস্মর জ্ঞান ও পরচিত্ত অবগতি জ্ঞানের অধীন।
বুদ্ধ তিন প্রকার:-
১) সম্যক সম্বুদ্ধ।
২) প্রত্যেক বুদ্ধ।
৩) শ্রাবক বুদ্ধ।
(১)সম্যক সম্বুদ্ধ- বুদ্ধগণের মধ্যে সবোর্ত্তম হলো সম্যক সন্বুদ্ধ। সম্যক সন্বুর্দ্ধ বলতে বুঝোয় যিনি কোন গুরুর সাহায্য ব্যতীত স্বীয় আদর্শ ও কর্মের দ্বারা নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন এবং তিনি সবোর্ত্তম জ্ঞানের অধিকারী। সম্যক সন্বুদ্ধগণ জন্ম জন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমী পূর্ণ করে শেষ জন্মে মানবকূলে উপযুক্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পূর্বের অনন্ত জন্মের সুকর্মের প্রভাবে এই জন্মে তিনি অর্হত্ব ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন।
(২) প্রত্যেক বুদ্ধ- প্রত্যেক বুদ্ধ হলো আত্মমুক্তির সাধনায় পূর্ণতা অর্জনকারী বিমুক্ত মহাপূরুষ। তারা সম্যক সন্বুদ্ধের দেশিত সাধনপ্রণালী অনুসরণ করে সর্ব তৃষ্ণা ক্ষয় করেন। এ ভাবে স্বীয় সাধনাবলে অর্হত্ব ফল লাভ করে তারা বুদ্ধ হন। প্রত্যেক বুদ্ধ জীবনাবসানে নিবার্ণ লাভ করে পুণঃজর্ন্ম রোধ করেন। বুদ্ধগণের সাধনালব্দ জ্ঞান
কেবল নিজেদের মধ্য সীমাবদ্ধ থাকে, তাঁরা অন্যদের নিকট মুক্তিপথ উন্মোচন করেন না।
(৩) শ্রাবক বুদ্ধ- শ্রাবক বুদ্ধ হলো সম্যকসন্বুদ্ধের অনুশাসন অনুশীলনে পারঙ্গম পুণ্যপুরুষ। একজন সম্যকসন্বুদ্ধের অনেক শিষ্য থাকেন আবার এই শিষ্যদেরও অনেক শিষ্য থাকেন। এসব শিষ্য ও প্রশিষ্যগণ সম্যক সন্বুদ্ধের নিদের্শিত পথ অনুসরণ করে মুক্তি সাধনায় রত থাকেন। এদের মধ্য অনেকে অহর্ত্ব ফল লাভ করেন, ফলে তারা জন্মগ্রহন করে দূঃখ ভোগ করবেন না। তারা নিবার্ণগামী। এরূপ বিমুক্তপুরুষকেই শ্রাবক বুদ্ধ বলে।
বুদ্ধের গুণ অসীম। এই বিশাল গুণরাশি একসাথে প্রকাশ করা দূঃসাধ্য। বুদ্ধের এই গুণসমূহ অর্জন সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়, এমনকি এই গুণরাজি গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধ গুণাবলীর যেকোন একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এই গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন। এই জন্যই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিন্তনীয়।
মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধের বত্রিশ প্রকার মহাপুরুষ লক্ষণ---
বুদ্ধের বত্রিশ প্রকার মহাপুরুষলক্ষণগুলো হলো-যথা : ১. মহাপুরুষ সুপ্রতিষ্ঠিত-পাদ, ২. পায়ের তলার নিচে চক্র দেখা যায়, সেটা সহস্র অর, নেমি, ও নাভিযুক্ত, সব আকার-পরিপূর্ণ এবং সুবিভক্ত, ৩. মহাপুরুষ আয়ত পাষ্ণি-সম্পন্ন, ৪. দীর্ঘ আঙুলসম্পন্ন, ৫. মৃদু-তরুণ হাত-পা সম্পন্ন, ৬. জালহাত-পা সম্পন্ন, ৭. পায়ের নিচের মধ্যস্থলে স্থিত গুল্ফ-সন্ধিবিশিষ্ট, ৮. এণী-জঙ্ঘাবিশিষ্ট, ৯. দাঁড়ানো অবস্থায় অবনত না হয়ে উভয় হাতের পাতার দ্বারা জানুদেশ স্পর্শ ও মর্দনে সক্ষম, ১০. কোষরক্ষিত গুপ্তেন্দ্রিয়সম্পন্ন, ১১. সুবর্ণবর্ণ ও কাঞ্চনসন্নিভ ত্বক-বিশিষ্ট, ১২. চামড়া এতই সূক্ষ্ম যে ধুলোময়লা এতে লিপ্ত হয় না, ১৩. তাঁর প্রত্যেক লোমকূপে মাত্র একটি লোম উৎপন্ন হয়, ১৪. তাঁর লোমগুলো ঊর্ধ্বাগ্র, নীলাঞ্জনবর্ণ, ডান দিকে পাকবিশিষ্ট, ১৫. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিব্য ঋজুতাসম্পন্ন, ১৬. সপ্ত উৎসেধসম্পন্ন, ১৭. দেহের পূর্বার্ধ সিংহের ন্যায়, ১৮. উন্নতবক্ষ, ১৯. ন্যাগ্রোধ বৃক্ষের মতো অঙ্গসৌষ্ঠবসম্পন্ন, কায়ানুযায়ী ব্যাম এবং ব্যামানুযায়ী কায়, ২০. সমবর্ত-স্কন্ধ, ২১. শ্রেষ্ঠরুচিসম্পন্ন, ২২. সিংহহনু, ২৩. বত্রিশটি দাঁতবিশিষ্ট, ২৪. সমান দাঁতবিশিষ্ট, ২৫. ফাঁকহীন দাঁত, ২৬. সাদা উজ্জ্বল দাঁত, ২৭. দীর্ঘজিহ্বা, ২৮. দিব্যস্বরসম্পন্ন, করবীক পাখির স্বরের মতো মধুর স্বর, ২৯. চোখ গাঢ় নীলবর্ণ, ৩০. গোরুর মতো চোখের-পক্ষ্ম, ৩১. ভ্রূযুগমধ্যস্থ উর্ণ সাদা নরম তুলসন্নিভ, মহাপুরুষের ভ্রূযুগমধ্যস্থ উর্ণ সাদা নরম তুলসন্নিভ হয়, ৩২. উষ্ণীষ-শীর্ষ ) হন।
(ইন্টারনেটের সৌজন্যে তথ্য সংগৃহীত)

0 Comments