নারীদের ভিক্ষুণীব্রত গ্রহণ
মহাপ্রজাপতি গৌতমী নেপাল ও ভারতের দেবদহ নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সিদ্ধার্থের মাতা মায়াদেবীর ছোট বোন। রাজা শুদ্ধোদনের সাথেই মহাপ্রজাপতি গৌতমীর বিয়ে হয়েছিল।
সিদ্ধার্থের জন্মের সাত দিন পর মায়াদেবীর মৃত্যু হয়। মহাপ্রজাপতি গৌতমী সিদ্ধার্থের লালন পালনের ভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নন্দের মাতা। নিজ পুত্রের দেখাশোনার ভার ধাত্রীর হাতে অর্পণ করে তিনি সিদ্ধার্থের লালন পালন করেছিলেন । সিদ্ধার্থ একসময় গৃহ ত্যাগ করে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। পালিত মাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমীর নাম অনুসারেই তখন সিদ্ধার্থের নাম হয়ে গেল গৌতম বুদ্ধ।
তখন রাজা শুদ্ধোদন দেহ ত্যাগ করেন। রাজা শুদ্ধোদনের মৃত্যুর পর মহাপ্রজাপতি গৌতমী সংসার ত্যাগের সংকল্পে আবদ্ধ হন। তিনি বুদ্ধের অনুমতি লাভের অপেক্ষায় ছিলেন।
এক সময় বুদ্ধ বৈশালীতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় শাক্য ও কোলীয়দের সাথে রোহিনী নদীল জল নিয়ে বিবাদের সুত্রপাত হয়। এ কলহের মীমাংসার জন্য বুদ্ধ কপিলবাস্তু এলেন। তিনি বিবাধমান দুই যুদ্ধংদেহী রাজ্যের সশস্ত্র সৈন্যের মাঝখানে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে তাঁদের বিরোধের মিমাংসা করে দিলেন। এরপর তিনি কপিলাবাস্তুতে বিশ্রাম গ্রহণ করলে সেখানে মহাপ্রজাপতি গৌতমী পাঁচশত শাক্য রমণীসহ বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হন। মহাপ্রজাপতি গৌতমী বুদ্ধের নিকট নারীদের ভিক্ষুণীব্রত পালনের অনুমতি প্রার্থনা করলে বুদ্ধ তাতে সম্মতি না দিয়ে বৈশালী গমন করেন।
মহাপ্রজাপতি গৌতমী কিন্তু হতাশ হলেন না। তিনিও পাঁচশত সহচরীসহ বৈশালী গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি ভিক্ষুণীব্রত গ্রহণের জন্য বুদ্ধকে দ্বিতীয়বার অনুরোধ করেন। এবারও বুদ্ধ সম্মত না হলে পরে বুদ্ধের প্রধান শিষ্য আনন্দ স্থবিরের অনুরোধে তিনি নারীদের ভিক্ষুত্ব গ্রহণে সম্মত হন। মহামানব বুদ্ধের জীবনকালে এভাবে ভিক্ষুণী সংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল । এই ভিক্ষুণী সংঘ প্রতিষ্ঠার ফলে দেখা গেল মা শুধু পুত্রের কাছে ধর্মেই দীক্ষা নেয়নি মা পুত্রের নিকট শিষ্যত্বও গ্রহণ করেছিল।
গৌতমী মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য সর্বদা উপদেশ দিতেন। তিনি নিজে সুতা ও কাপড় তৈরি করে ভিক্ষুসংঘকে দান দিতেন। নারী জাতির উন্নতির জন্য তিনি সারা জীবন চেষ্টা করেছেন। তিনি বুদ্ধের গুণাবলী স্মরণ করে অনেক কবিতা রচনা করেছেন। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে অর্হত্বফল লাভ করেন। বুদ্ধ তাঁকে ভিক্ষুণী সংঘের প্রধান হিসাবে স্বীকৃতি দেন। ত্রিপিটকের মূল গ্রন্থ থেরীগাথায় ৭৩ জন ভিক্ষুণীর জীবনকথা লেখা আছে। তাঁদের মধ্যে মহাপ্রজাপতি গৌতমীর স্থান সবার উপরে। তিনি ১২০ বছর জীবিত ছিলেন।
0 Comments