Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

মহাপ্রজাপতি গৌতমী

 

মহাপ্রজাপতি গৌতমী


ভিক্ষুণীসংঘ’ স্থাপনের ইতিহাসে প্রথম ও প্রধান উদ্যোক্তা খ্যাত নারী মহাপ্রজাপতি গৌতমী। তিনি ছিলেন দেবদহ নগরের সুপ্রবুদ্ধের (সুপ্পবুদ্ধ) কনিষ্ঠা কন্যা ও মায়াদেবীর ভগিনী। মায়াদেবী ও মহাপ্রজাপতি গৌতমীর জন্মলগ্নে ব্রাহ্মণেরা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যেতাঁদের সন্তান চক্রবর্তী রাজা হবেন। শাক্য রাজা শুদ্ধোধন দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন। সিদ্ধার্থের জন্মের সপ্তাহকাল পরে মহামায়ার মৃত্যু হলে মহাপ্রজাপতি গৌতমী কুমার সিদ্ধার্থের লালনপালনের ভারবহনের দায়িত্ব নিজ হাতে গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নন্দের মাতা। জীবন ও জগতের যথার্থ স্বরূপ অপরিজ্ঞাত হয়ে তিনি সংসারে বারবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন মাতাপুত্রপিতাভ্রাতা ও মাতামহীরূপে। তিনি ছিলেন একজন মহীয়সী বৌদ্ধ ভিক্ষুণী বা থেরী। মহাব্রত উদ্‌যাপনে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কখনো দারিদ্র্য-জর্জরআর্তসন্তাপে সান্ত্বনা, আবার কখনো প্রেমময়ী, সর্বজনপ্রিয় থেরী মহাপ্রজাপতি গৌতমী। বৌদ্ধধর্মের প্রতি বা বৌদ্ধধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের প্রতি তাঁর অসাধারণ মমত্ববোধ, ভক্তি ও শ্রদ্ধা বৌদ্ধ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় ও ভাস্বর হয়ে রয়েছে। বৌদ্ধ সংঘের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধা-ভক্তি তাঁর জীবনকে করেছে মহিমান্বিত। তাঁর জীবন-ইতিহাস প্রীতিময়হৃদয়গ্রাহী এবং আদর্শ স্থানীয়। চরিত্র ছিল অতি পবিত্রমনোজ্ঞ ও মাধুর্যমণ্ডিত। তিনি ছিলেন বৌদ্ধ নারীকুলের রত্ন। এ ছাড়াও বৌদ্ধ ভিক্ষুণীদের মধ্যে তিনি অভিজ্ঞতায় সর্বশ্রেষ্ঠা ছিলেন। তিনি সারা জীবন বৌদ্ধধর্ম ও সংঘের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। মহাপ্রজাপতি গৌতমীর মাধ্যমে সর্বপ্রথম বৌদ্ধসংঘে নারীর প্রবেশাধিকারের অনুমোদন করেন মহামানব গৌতম বুদ্ধ।

সংঘ প্রতিষ্ঠা’ ও নারীর ক্ষমতায়ন

বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ‘বৌদ্ধ সংঘ’। গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের সুসংগঠিত করার জন্য এই সংঘ গঠন করেন। সংঘের পুরুষ সদস্যরা ‘ভিক্ষু’মহিলা সদস্যরা ‘ভিক্ষুণী’ নামে পরিচিত ছিলেন। উভয়েরই সংঘের প্রতি আস্থা ও নিয়মকানুন মেনে চলা কর্তব্য ছিল। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ধর্মবৌদ্ধধর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল আধুনিক ‘সারনাথে’। প্রাচীনকালে এই স্থানটি ‘ঋষিপতন মৃগদাব’ নামে পরিচিত ছিল। মহাসত্যের সন্ধানে ছয় বছর কঠোর সাধনার পর অবশেষে শুভ ‘বৈশাখী পূর্ণিমা’ তিথিতে শাক্যকুমার সিদ্ধার্থ সম্বোধি জ্ঞান লাভ করে জগতে বুদ্ধ নামে খ্যাত হন।

বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির পর প্রথমে তিনি প্রখর বুদ্ধি ও পাণ্ডিত্যসম্পন্ন দুই গুরুর স্মরণ করলেন। কিন্তু ধ্যানযোগে জানলেন তাঁরা আর ইহজগতে নেই। তারপর তিনি তার পূর্বতন পঞ্চশিষ্য যারা সুজাতার পায়েস গ্রহণে গৌতমের প্রতি রুষ্ট হয়ে ছেড়ে চলে যানতাঁদের কথা স্মরণ করলেন। তখন তারা বারাণসীর মৃগদাব ঋষিপত্তনে অবস্থান করছিলেন। বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির অষ্টম সপ্তাহে তিনি বারাণসী যাত্রা করেন। দীর্ঘপথ অতিক্রান্ত করে অবশেষে তিনি বারাণসীর ঋষিপত্তনে পঞ্চবর্গীয়দের নিকট উপস্থিত হলেন। পাঁচজন শিষ্য হল: কোণ্ডিণ্যবপ্পভদ্দিয়অশ্বজিত ও মহানাম। তারাও গৃহত্যাগী হয়ে দুঃখমুক্তির অন্বেষায় ঋষিপত্তন মৃগদাবে দীর্ঘদিন কঠোর ধ্যান চর্চায় রত ছিলেন। বুদ্ধবুদ্ধত্ব প্রাপ্তির পর যখন পণ্ডিত ব্যক্তির সন্ধান করেছিলেন তখন জ্ঞানদৃষ্টিতে তিনি তাঁদের কথা অবগত হলেন। বুদ্ধ পাঁচজন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসীকে তার সদ্ধর্ম দেশনা করলেন এবং তাঁরা দীক্ষিত হয়ে ভিক্ষুত্বে প্রতিষ্ঠিত হন। তারপর ধীরে ধীরে বুদ্ধের ধর্মমত ছড়িয়ে পড়ে। ষাটজন ভিক্ষু মিলে একটি সংঘ তৈরি করে। বুদ্ধ এই ষাটজন ভিক্ষুকে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন ধর্ম প্রচারের জন্যে।

বুদ্ধ কর্তৃক প্রচারিত বাণীগুলো ৮৪ হাজার ধর্ম স্কন্ধে বিভক্ত। এই ধর্ম স্কন্ধের মধ্যেই অন্তর্নিহিত আছে প্রথম ও শেষ বুদ্ধবাণী। যা বুদ্ধের জীবন দর্শন তথা মানুষের এক অমূল্য পথপ্রদর্শক হয়ে আছে। বুদ্ধ বোধি বা সম্বোধি জ্ঞান লাভের অব্যবহিত পরেই পরিপূর্ণ আনন্দে বুদ্ধের মুখ থেকে যে দুটি গাথা উচ্চারিত হয়েছিল তা বৌদ্ধদের নিকট অতি উচ্চ স্থান অধিকার করে। বোধি লাভের পর বুদ্ধ বলেন,



জন্ম থেকে জন্মান্তরে ভ্রমণের পথে বুদ্ধ যে দুঃখভোগ করেছেন, সে কথাই এখানে উল্লেখ করেছেন। দ্বাদশ আয়তনের সংযোগের জন্য যে বেদনা বা অনুভূতি জন্মে তা থেকেই তৃষ্ণার উৎপত্তি। তৃষ্ণার ক্ষয় হলে চিত্তের যে অবস্থা হয় তাকে বলা হয় ‘সোপাদিসেস নির্বাণ’। ‘সোপাদিসেস নির্বাণে’র পরবর্তীতে যখন পঞ্চস্কন্ধ অবসান হয়, তখন তাকে ‘অনুপাদিসেস নির্বাণ’ বা ‘নিরুপাদিসেস নির্বাণ’ বলে। যা বৌদ্ধ সাধনার পরম লক্ষ্য। জ্ঞানশক্তি ও কর্মদক্ষতার মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। কেউ কেউ বিরাট শক্তির অধীশ্বর বিপুল অবদানের মাধ্যমে এ পৃথিবীর অশেষ কল্যাণ সাধন করেন। কেউ আবার সীমিত শক্তি নিয়েও জন্মগ্রহণ করেন। যারা মহান ও উদার তাঁরা নিরহংকার। তাঁরা জীব ও জগতের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হন। কেননা মনুষ্যত্বই মানুষের পরিচায়ক। বৌদ্ধধর্মে অতি সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছেস্বক্‌খাতো ভগবতা ধম্মোসন্দিট্‌ঠিকোঅকালিকোএহিপস্‌সিকোওপনেযিকোপচ্চত্তং বেদিতব্বো বিঞ্‌ঞূহীতি (ধর্ম্মরত্ন ১৯৪১: ৪১-৪২)। অর্থাৎ  ধর্ম সুব্যাখ্যাতস্বয়ং দ্রষ্টব্যআত্মদর্শনীয়এ ধর্ম পালনে কোনো কালাকাল নেই শুধু মনের শুচি শুদ্ধতার উপরই প্রতিষ্ঠিতএসোদেখোমনঃপুত হলে গ্রহণ করো (ধর্ম্মরত্ন ১৯৪১: ৪১-৪২)।

বুদ্ধের উদাত্ত আহ্বান মানুষের অন্তর আত্মাকে আকৃষ্ট করেছিল। মানুষ সাগ্রহে বরণ করে নিয়েছিল বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্মকে। মহামানব গৌতম বুদ্ধের অহিংসা পরম ধর্ম এই সত্যের বাণী প্রচার করে মানবসমাজকে দিয়েছেন মনুষ্যত্বের পূর্ণ বিকাশ। এ ছাড়াও তাঁর অহিংসার বাণী মানুষকে মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি গোটা মানবসমাজকে একটি সত্তা বলে উল্লেখ করেছেন। জৈন ধর্মের চব্বিশতম তীর্থংকর মহাবীরও নৈতিক শিক্ষার উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও উনিশ ও বিশ শতকে ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ ও মহাত্মা গান্ধী অহিংসার উপরই গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কেননা হিংসা মানবজীবনকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদের মূল কারণ জাতিগত ও ধর্মীয় পার্থক্য। স্বার্থান্বেষী মানুষ জাতিগত বিভেদ ও শ্রেণিগত বৈষম্য সৃষ্টি করে সংঘাতসংঘর্ষ ও হানাহানির মধ্যে মানুষকে ঠেলে দিতে চায়মানবিক সম্প্রীতির বন্ধনকে ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু মানুষের আসল পরিচয় তার মনুষ্যত্বেতার সবচেয়ে বড়ো ধর্ম মানবধর্ম। আর বিশ্বপ্রকৃতিতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা ঐতিহাসিক বাস্তবতা। শিল্পসাহিত্যবিজ্ঞানদর্শন ও প্রযুক্তির নিত্যনতুন শাখায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করে মানুষ প্রমাণ করেছে তার শ্রেষ্ঠত্ব। দেশে দেশে কালে কালে মহামানবেরা সেই মানবতার জয়গানেই মুখর হয়েছেন। মানবসভ্যতার দুর্দিনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে মানবতারই জয় হয়েছে।

বুদ্ধ আড়াই হাজার বছর পূর্বেই বিশ্বমৈত্রীর কথা বলে গেছেন। শ্রাবস্তীর একজন জটাধারী ব্রাহ্মণ বুদ্ধের কাছে গিয়ে বলেছিলেনআমি প্রকৃত ব্রাহ্মণএই দেখুন আমার জটাজুট। আপনি আমাকে ব্রাহ্মণ বলে স্বীকার ও সম্বোধন করুন। বুদ্ধ বলেনজটাগোত্র বা জাতির পরিচয়ে কেউ ব্রাহ্মণ হয় না। যাঁর অন্তরে সত্য ও ধর্ম বিরাজমান তিনিই পবিত্রতিনিই ব্রাহ্মণ (জিনবংশ ২০১৭: ১৬৯)। পৃথিবীর সকল মানুষ জন্মগ্রহণ করে সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র কিংবা নারী-পুরুষের মধ্যে অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য প্রদর্শন করা হবে না। এ ছাড়া বুদ্ধের সংঘেও জাতিভেদ ছিল না।

যশোধারা সংঘভুক্ত হওয়ার জন্য বুদ্ধের নিকট তিনবার প্রার্থনা করেছিলেন কিন্তু প্রার্থনা পূর্ণ হয়নি। বুদ্ধের বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমীযশোধারা ও অন্যদের সাথে বুদ্ধের নিকট গমনপূর্বক সংঘভুক্ত হওয়ার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা নিবেদন করেন। বুদ্ধ অনুরোধ প্রত্যাখান করে বৈশালীতে গমন করেন। মহাপ্রজাপতি গৌতমী ও সহচারীগণ নিরুদ্যম না হয়ে কেশচ্ছেদন করেন এবং কাষায়বস্ত্র পরিধান করে বৈশালী পর্যন্ত বুদ্ধের অনুগমন করলেন। পরবর্তী সময়ে আনন্দের মধ্যস্থতায় বুদ্ধ তাঁদের প্রার্থনা অনুমোদন করলেন। এভাবে মহাপ্রজাপতি গৌতমীর উদ্যোগে মহিলারা সংঘে প্রবেশের অধিকার অর্জন করেন এবং জগতে বৌদ্ধ ভিক্ষুণী সংঘ সংগঠিত হয়। পরে গ্রামশহর ও জেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। নারীজাতিকে সংঘে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে ভিক্ষুণীদের জন্য আটটি বিশেষ বিধির প্রবর্তন করলেন। যা পালি সাহিত্যে অট্‌ঠগুরুধম্মা (অষ্টগুরুধর্ম) (Kassyap 1956: 375, রবীন্দ্র ১৯৮০: ৮৭Oldenberg 1995: 353-355) নামে খ্যাত। সে আট প্রকার গুরুধর্ম হলো:

১.    স্‌সসতূপসম্পন্নায ভিক্‌খুণীযা তদহূপসম্পন্নস্স ভিক্‌খুনো অভিবাদনং পচ্চূট্‌ঠানং অঞ্জলিকম্মং সমীচিকম্মং কাতব্বং।

      অর্থাৎভিক্ষুণীর উপসম্পদা লাভের বয়স শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও আজ মাত্র উপসম্পদাপ্রাপ্ত ভিক্ষুকে বন্দনাঅঞ্জলিকর্মসমীচিত কর্ম করতে হবে।

২.    ন ভিক্‌খুনিযা অভিক্‌খুকে আবাসে বস্‌সং বসিতব্বং।

      অর্থাৎযে স্থানে কোনো ভিক্ষু বাস করে নাএমন কোনো স্থানে ভিক্ষুণী বর্ষাবাস করতে পারবেন না।

৩.   অনদ্ধমাসং ভিক্‌খুনিযা ভিক্‌খুসঙ্ঘতো দ্বে ধম্মা পচ্চাসিতব্বা উপোসথপুচ্ছকং চ ওবাদূপসংকমনং চ।

      অর্থাৎপ্রতি পনেরো দিন অন্তর (পাক্ষিক) ভিক্ষুণীকে উপোসথ বিষয়ক প্রশ্ন ও উপদেশ দানের সময় ভিক্ষু সংঘ থেকে ভিক্ষুণীকে জেনে নিতে হবে।

৪.    স্‌সং বুত্থায ভিক্‌খুনিযা উভতোসঙ্ঘে তীহি ঠানেহি পবারেতব্বং দিট্‌ঠেন বা সুতেন বা পরিসংকায বা।

      অর্থাৎবর্ষাবাস সমাপ্ত করার পর ভিক্ষুণীকে উভয় সংঘের নিকট দৃষ্টশ্রুতপরিশংকিত বিষয় সম্বন্ধে প্রবারণা করতে হবে।

৫.    গরুধম্মং অজ্ঝাপন্নায ভিক্‌খুনিযা উভতো সঙ্ঘে পক্‌খমানত্তং চরিতব্বং।

      অর্থাৎগুরুধর্ম প্রাপ্ত (গুরুতর অপরাধী) ভিক্ষুণীকে উভয় সংঘের নিকট পক্ষকাল মানত্তব্রত পালন করতে হবে।

৬.   দ্বে বস্‌সানি ছসু ধম্মেসু সিক্‌খি সিক্‌খায সিক্‌খমানায উভতোসঙ্ঘে উপসম্পদা পরিযেসিতব্বা।

      অর্থাৎদুই বছর যাবৎ ছয়টি বিষয়ে শিক্ষাসমাপনান্তে ভিক্ষুণীকে উভয় সংঘের নিকট উপসম্পদা যাচনা করতে হবে।

৭.    ন ভিক্‌খুনিযা কেনচি পরিযাযেন ভিক্‌খু অক্কোসিতব্বো পরিভাসিতব্বো।

      অর্থাৎকোনো ভিক্ষুণী কখনো কোনো ভিক্ষুর নিন্দা করতে পারবেন না।

৮.   অজ্জতগ্গে ওবটো ভিক্‌খুণীনং ভিক্‌খুসু বচনোপথোঅনেবটো ভিক্‌খুনং ভিক্‌খুনীসু বচনোপথো।

      অর্থাৎভিক্ষুরা ভিক্ষুণীদের উপদেশ দিতে পারবেন কিন্তু ভিক্ষুণীরা কখনোই কোনো ভিক্ষুকে উপদেশ দিতে পারবেন না অথবা উপসথ ও প্রবারণার দিন স্থির করতে পারবেন না।

পরের এই ‘আটটি গুরুধর্ম’ থেকে বোঝা যায় যেবুদ্ধ দূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যবধান রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কোনো রকমের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, মূলত সেজন্য সংঘের পবিত্রতা রক্ষার জন্যই এ নিয়মগুলো বেঁধে দিয়েছিলেন। বুদ্ধ আনন্দকে বলেছিলেনহে আনন্দমানুষ যেমন পূর্বেই প্লাবনের আশঙ্ক্ষা করে প্রকার জলাশয়ের চারদিকে জল আবদ্ধ রাখার জন্য বাঁধ বেঁধে দেয়আমিও সেরূপ নারীজাতির প্রব্রজ্যা গ্রহণ যাতে মর্যাদা লঙ্ঘন না করে সেজন্য পূর্বেই আমি ভিক্ষুণীদের জীবন নিয়ন্ত্রিত করার জন্য আটটি গুরুধর্ম নিদের্শ করেছি। এ অনুশাসনগুলো তাদেরকে সারাজীবন পালন করতে হবে বলে বিধান দিয়েছি (Oldenberg 1993: 325-326)। সংঘে প্রবেশের পূর্বে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রকার অপরাধের দণ্ড হতে থেরী এবং ভিক্ষুণীরা মুক্ত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement