সংসারের নির্মাতা কোনো দেব, ঈশ্বর অথবা ব্রহ্মা নয়। এ সংসার কার্য-কারণের শাশ্বত এবং নৈসর্গিক নিয়মের অধীনে হয়ে থাকে।
‘ইমস্মিং সতি ইদং হোতি, ইমস্মিং অসতি ইদং ন হোতি।’
অর্থাৎ ইহা হলে উহা হয়ে থাকে এবং ইহা না হলে উহা হয়না। ইহাই হল প্রকৃতির অচল এবং অটল নিয়ম।
‘ন হেত্থ দেবো ব্রহ্মা বা, সংসারস্সত্থিকারকো’
সুদ্ধধম্মা পবত্তন্তি, হেতু সম্ভারপচ্চযা’
অর্থাৎ এ সংসারের নির্মাণ কোনো দেব এবং ব্রহ্মা দ্বারা করা হয়নি। কারণ এবং পরিস্থিতির নিশ্চিত নৈসর্গিক নিয়মের ভিত্তিতেই ধম্মের স্বভাব প্রবাহিত হয়ে থাকে।
এ সংসারের পরিচালনা কোনো অদৃশ্য শক্তি দ্বারা হচ্ছেনা। সমস্ত জগৎ কার্য এবং কারণের অবিচ্ছিন্ন শৃঙ্খলার নিয়ম অনুসারে নিরন্তর গতিমান রয়েছে। তথাগত বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার রাত্রিতে ৩৫ বছর বয়সে এ মহান সত্যের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। সে সময় তথাগত বুদ্ধ উদান গাথার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছিলেন-
‘অনেক জাতি সংসারং, সন্ধাবিস্সং অনিব্বিসং,
গহকারকং গবেস্সন্তি দুক্খা জাতি পুনপ্পুনং।
গহকারকং! দিট্ঠোসি পুন গেহং ন কাহসি,
সব্বা তে ফাসুকা ভগ্গা, গহকূটং বিসংখতং।
বিসংখারাগতং চিত্তং তণ্হানং খযমজ্ঝগা।’
অর্থাৎ অসংখ্য জন্ম পর্যন্ত আমি এ সংসারে পরিভ্রমণ করেছি এ সংসার-রূপী গৃহের নির্মাতাকে খুঁজতে খুঁজতে। বার বার জন্ম নেওয়া হল অত্যন্ত দুঃখদায়ক।
হে গৃহ-নির্মাতা! এখন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি। তুমি এখন আর পুণরায় গৃহ নির্মাণ করতে পারবেনা। তোমার সমস্ত স্তম্ভ ভগ্ন হয়ে গিয়েছে। আমার চিত্ত সংস্কার মুক্ত হয়ে গিয়েছে এবং তৃষ্ণা সমূহের পূর্ণরূপে ক্ষয় হয়ে গিয়েছে।
‘গহকারকং গবেস্সন্তো দুক্খা জাতি পুনপ্পুনং’-
তথাগত বুদ্ধ জেনে গিয়েছেন যে, সংসার চক্রের নিরন্তর চলমান থাকার মূল কারণ হল তৃষ্ণা। তৃষ্ণার কারণেই সংসারের নির্মাণ হয়ে থাকে এবং তৃষ্ণাই সংসারকে গতিমান করে থাকে। তৃষ্ণার কারণ হল স্বয়ং প্রাণী; ইহার জন্য কোনো দেব বা ব্রহ্মা দায়ী নয়। এ বিষয় নির্দেশিত হয়েছে পালি সাহিত্যের বিসুদ্ধি-কঙ্খাবিতরণবিসুদ্ধি নিদ্দেস’ গ্রন্থে।

0 Comments