মানত পূরণের উদ্দেশ্যে সুজাতা১০০০গাভীর দুধ থেকে ঘন, পুষ্টিকর ও সুগন্ধি পায়েসবুদ্ধগয়ার অদূরে সেনানি গ্রামে এক রুপবতী ও ধনি পরিবারের মেয়ে ছিল সুজাতা। তার মনোকামনা ছিল সে যেন তার মতো একজন সুদর্শন, সমমনা স্বামী এবং পুত্র সন্তান লাভ করে। সুজাতার সেই মনস্কামনা পূর্ণতা পেতে তাকে লোকজন পরামর্শ দেন সে যদি নৈরঞ্জনা নদীর তীরে বটবৃক্ষ নীচে গিয়ে বৃক্ষ দেবতার নিকট প্রার্থনা করে অবশ্যই সফল হবেন। তিনি সেভাবেই প্রার্থনা সম্পন্ন করে আসলেন। কিছুদিনের মধ্যে এক সুদর্শন ও ভালো ছেলের সাথে পরিণয় হয়ে যায়। তাদের পরিবারে একটি ফুটফুটে বাচ্চাও ভূমিষ্ট হয়। মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পুনরায় বটবৃক্ষ তলে গিয়ে বৃক্ষ দেবতাকে পূজা দিয়ে আসবেন।
সুজাতা পায়েস রান্না করার সময় দেখতে পেলেন তাদের চাকরসেই বটগাছের নীচ জায়গা পরিস্কার করে ফিরছিলেন। তখন সুজাতাকে বললেন, আমার ভৃত্য, আপনি যে বৃক্ষ দেবতার উদ্দেশ্য খাদ্য প্রস্তুত করেছেন সে গাছের তলায় ধ্যানমগ্ন। আপনি কি যে ভাগ্যবতী? সে আপনার খাদ্য গ্রহণ করবে। সুজাতা সেই সুসংবাদ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। এবার সোনার পাত্রে সুস্বাদু পায়েস নিয়ে পৌঁছে গেলেন বৃক্ষতলায়। সুজাতা দেখতে পেলেন, একজন সৌম্য ও পবিত্র মানুষকে। তিনি গভীর ধ্যানে মগ্ন। এবার সুজাতা প্রণাম জানিয়ে শ্রদ্ধাভরে বললেন, প্রভু আমার পায়েস আপনি দয়া করে গ্রহণ করুন। সুজাতা আরও বললেন, আমার মতো আপনার ইচ্ছাও পূর্ণ হোক এবং সফল হও।
তপস্বী গৌতম সাময়িকভাবে ধ্যান বন্ধ রেখে সুজাতার ঘন সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পায়েস গ্রহণ করলেন। এবং সেই পায়েস গ্রহণের পর গৌতম নৈরঞ্জনা নদীতে স্নান করে নিলেন। এবং পায়েসের সোনার বাটি নদীর উজানে ভেসে দিয়ে অধিষ্ঠান করলেন- “আমি যদি বুদ্ধ হতে পারি তাহলে এই বাটি নদীর স্রোতের বিপরীতে গমণ করুক। বাটিটি নদীর মাঝখানে ভেসে দিয়ে ঠিকই উজানে ভেসে যায়।”
তপস্বী সিদ্ধার্থ সেই পুষ্টিকর সুস্বাদু পায়েস খেয়ে আবার ধ্যানে বসলেন। এবার তিনি সম্যক সম্বুদ্ধ জ্ঞান লাভ করলেন। পরিচিতি পেলেন “বুদ্ধ”। সউজাতার পায়েস গ্রহণে মধ্যমপন্থা, বোধিজ্ঞান লাভের সহায়ক হয়েছিল। সেজন্য সুজাতা বৌদ্ধ ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নারী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তার সেই ঐতিহাসিক পায়েস দানের প্রতিমূর্তি বৌদ্ধদের তীর্থ স্থানগুলিতে পাওয়া যায়। সংরক্ষিত আছে।
0 Comments