Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

জীবনকে গতিমান রাখা প্রয়োজন

আজ কিংবা কাল সবকিছুর কোনো না কোনো গতি হয়েই থাকে। কেবল, চলতে থাকলে কোনো না কোনোভাবে মার্গ পেয়েই যায়।

‘অনিচ্চা বত সঙ্খারা’- সমস্ত সংস্কার হল অনিত্য। কোনো কিছুই সংসারে নিত্য নয়, শাশ্বত নয়, অপরিবর্তনীয় নয়।
জীবন আছে, তাই সংঘর্ষ আছে, দুঃখ আছে, কষ্ট আছে, খুশী আছে, ভয় আছে। কিন্তু বাস্তবিক কথা হল ইহাই যে, সবকিছু হল অনিত্য। সময়রূপী নদীর প্রবাহে সবকিছু হল প্রবাহমান। আনন্দও অনিত্য, নিরানন্দও অনিত্য; সুখও অনিত্য, তেমনি দুঃখও অনিত্য। যা কিছু উৎপন্ন হয় সবই বিলয়ধর্মী। কোনো কিছুরই স্থায়িত্বতা নাই। ক্ষণে ক্ষণে সবকিছু কালের প্রবাহে বিলীন হয়ে যায়, হারিয়ে যায়।
এজন্য আনন্দ হোক বা নিরানন্দ, সুখ হোক বা দুঃখ কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। ইহাই চিরন্তন বা সনাতন রীতি। এ নিয়মের অধীনেই সবকিছু সময়ের অবিরল প্রবাহে বিলীন হয়ে যায়।
অধিকতর সময় এরকম হয়ে থাকে যে, জীবন-যাত্রার মার্গে আমরা নিজেরা অনেক বার দুঃখ, কষ্ট, দুঃশ্চিন্তা, ডর, হতাশা, অবসাদ, রোগ, ইত্যাদির মায়াজালে ফেঁসে যাওয়ার অবস্থায় পড়ে থাকি এবং আমরা অনেক সময় সেরকম পরিস্থিতি সমূহে এতই ভেঙ্গে পড়ে বশীভূত হয়ে যাই যে, তখন অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে থাকলেও সে অবস্থা হতে উত্তরণের সুরাহা বা সুগমতার আলোও দেখতে পাইনা। দূর হতে ক্ষুদ্র অনুভব হওয়া দুঃখ-কষ্টও তখন আমাদের সামনে আসতে আসতে হাতীর মতো দৈত্যাকার রূপ ধারণ করে থাকে। এমতাবস্থায় আমরা তার বিশালতা এবং ভয়াবহতার সামনে আত্ম সমর্পণ করে পরিস্থিতি সমূহের উপর নতজানু হয়ে থাকি। সে পরিস্থিতি সমূহই আমাদের সমগ্র শক্তিকে নাড়া দিয়ে থাকে, আমরা হতাশা-নিরাশার গহ্বরে হাতড়াতে থাকি। তখন প্রতিটি ক্ষণ আমাদের কাছে পাহাড়ের মতো প্রতীত হয় এবং আমরা অধিকতর লোক আশার কোনো আলো না দেখে হতাশা জনক পরিস্থিতির সামনে নিজের উপর শস্ত্র প্রয়োগ করে থাকি।
পথিক যখন কোনো অজ্ঞাত, নির্জন বালুকাময় মরুভূমিতে ফেঁসে যায়, তখন সেখান হতে বের হওয়ার জন্য একমাত্র উপায় ইহাই থাকে, তখন কেবল নিরন্তর চলতে থাকা। কেননা, যদি নদীর মাঝখানে গিয়ে সেখানে হাত-পা নাড়িয়ে সাঁতার না কাটা হয়, তখন নিশ্চিত ডুবে মরতেই হবে।
এজন্য আমাদের জীবনে কখনও এরকম ক্ষণও এসে থাকে, যখন মনে হয় যে, কিছুই এখন অবশিষ্ট নাই, সবই নি:শেষ হয়ে গিয়েছে, তখন এরকম পরিস্থিতি সমূহে ভেঙ্গে না পড়ে স্বীয় দৃঢ় আত্ম বিশ্বাস ও সাহসের সাথে অটল থাকা উচিত। কেননা, প্রত্যেক কিছুর আজ নয় বা কাল কোনো না কোনো গতি হয়েই থাকে।
তথাগত সর্বদর্শী বুদ্ধ চিরন্তন সত্য বাণী প্রকাশ করেই বলেছেন-‘উপ্পাদবয ধম্মিনো, উপ্পজ্জিত্বা নিরুজ্ঝন্তি…।’
সমস্ত সংস্কার, সকল পদার্থ, বস্তু, যা কিছু সংসারে রয়েছে বা উৎপন্ন হচ্ছে, সেগুলির সবই পরিবর্তনশীল, বিনাশ শীল। দেরীতে হোক বা শীঘ্র, সব কিছুর ধম্মই হল পরিবর্তনশীলতা। সুতরাং, কোনো কিছুতে নিরাশ বা হতাশাগ্রস্থ হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন কেবল গতিমান থাকা। চলতে থাকলে মার্গ অবশ্যই পেয়ে পেয়ে যাবেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement