
কঠিন চীবর দানের পটভূমি: আড়াই হাজার বছর পূর্বে ভগবান বুদ্ধ জেতবনে অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠী নির্মিত বিহারে বাস করতেন। সেসময় পাবেয়্যকবাসী আরণ্যিক, পিণ্ডপাতিক, পাংশুকুলিক ও ত্রি-চীবরধারী ত্রিশজন ভিক্ষু পাবা নগর থেকে ভগবান বুদ্ধকে দর্শন লাভের উদ্দেশ্যে গমন করেন (কোশলরাজের পার্শ্ববতী একটি স্থান)। কিন্তু ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান আরম্ভ হওয়াতে ত্রিশজন ভিক্ষু শ্রাবস্তীতে বুদ্ধের কাছে পদব্রজে পৌঁছাতে পারেন নি। তাঁরা সাকেত নগরে তিনমাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান সম্পন্ন করেন। ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান নির্বিঘ্নে, মনানন্দে শেষ করে প্রবারণার মধ্যেদিয়ে ঐ ত্রিশজন ভিক্ষু ভগবান বুদ্ধের দর্শনে শ্রীবস্তী অভিমূখে গমণ করেন। তাঁরা বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে গায়ের চীবর একেবারে জীর্ণ ও ক্লান্ত শরীরে জেতবন বিহারে বুদ্ধের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন। বুদ্ধকে যথা অভিবাদন জানিয়ে একপাশে বসে পড়েন। অত:পর তথাগত বুদ্ধ তাঁদের সাথে কুশল জিজ্ঞাসা করেন। ভিক্ষুদের দেহে পরনের চীবর ছাড়া অন্যকোন বাড়তি চীবর ছিলো না। যেই চীবর দিয়ে স্নান আবার সেই চীবর শুকিয়ে গায়ে দেয়া ! সেই ত্রিশজন ভিক্ষুর দু:সহনীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং করুনা উদ্রেক হয়ে বুদ্ধ তথাগত ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্নকারী ভিক্ষুদের ‘কঠিন চীবর’ দান গ্রহণের অনুমতি প্রজ্ঞাপ্ত করেন। মহাবর্গ মতে বুদ্ধের সম্বোধিজ্ঞান লাভের পর দীর্ঘ বিশ বছর পর্যন্ত সাধারণ গৃহীদের কাছ থেকে তিনি কখনো কাষায়বস্ত্র বা চীবর গ্রহণ করেন নি। জীর্ণ, পরিত্যক্ত শশ্মানে পড়ে থাকা, মালিকানা নেই এমন বস্ত্র সংগ্রহ করে পাংশুকুলিক চীরর পরিধান করতে হতো ভিক্ষুদের।
কোন অর্থে ‘কঠিন চীবর’ বলা হয়? চীবর Monastic Sangha বা ভিক্ষু-শ্রামণদের পরিধেয় ঘেরুয়াবসনকে (ত্রি-চীবর- সংঘাটি, উত্তরাসঙ্গ ও অর্ন্তবাস) চীবর বলা হয়। থেরবাদা বৌদ্ধদের ‘কঠিন চীবর’ দানোৎসবকে একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পুণ্যময় উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কঠিন বা ইংরেজি Kathina শব্দটি ’পালি’ থেকে আগত। আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধকালীন সময়ে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ও শিল্প বিপ্লব নাই বলে চলে। আজকের একবিংশ শতাব্দীর মতো সেসময় ভিক্ষুদের Ready-made চীবর, সেলাই চীবর, মানসম্মত রং করার পদ্ধতির ব্যবস্থান ছিলনা। তথাগত বুদ্ধ তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত শিষ্যমন্ডলীদের পারস্পরিক ভাব-বিনিময়, সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন এবং সহযোগিতার মাধ্যমে চীবর তৈরী করে ব্যবহারের জন্য প্রজ্ঞাপ্ত করেন। Some made a frame while some went out in search of needle and thread. Some sew pieces of clothe to make it a robe while others prepared for another process of making fire and getting a suitable colour ready. সেসময় চীবর বুনন, তৈরীকরণ, সেলাইকরণ, গাছের বাকল সংগ্রহ করে আগুনে সিদ্ধ করা, রং করা, শুকানো, দুঃসাধ্য ও কঠিন কাজ ছিল। রাস্তা, শশ্মান থেকে পরিত্যক্ত, জীর্ণ- কাপড় সংগ্রহ করে চীবর বানানো ভিক্ষুদের জন্য ছিল খুবই কষ্টকর। The monks were busy to get a robe done. It was a hard life collecting pieces of cloth from different places such as rubbish-heap, cemetery, and streets to get it sufficient for a robe. Ordinary life was at that time reasonably hard especially regarding clothes; the monks were no exception; they had to struggle for a robe. “In those days, making a robe required spreading the cloth on a frame called a “Kathina,” The word literally means “hard,” and it also connotes stability and durability. So, Kathina is not just about cloth; it is also about firm commitment to monastic life (-Barbara O’Brien)”- এই অর্থে, কঠিন চীবর বলা হয়েছে। এছাড়াও বিনয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বিধায় কঠিন চীবর। এটি মাসবাপী (প্রবারণা পূর্ণিমা পরদিন হতে-কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত) দানোৎসব চলাকালীন অর্থাৎ কঠিন চীবরের উদ্দেশ্য দান করাকে ‘কঠিন চীবর’ বলা হয়েছে। বছরের অন্যসময়ে এই দানকে কেবল ‘চীবর দান’ বলা হলেও কিন্তু ‘কঠিন চীবর’ বলা যায় না।
সময়, প্রণালী ও ফলদান: আশ্বিনী পূর্ণিমা বা প্রবারণা পূর্ণিমার পরবর্তী দিন থেকে শুরু করে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই ৩০ (ত্রিশ) দিন কঠিন চীবর দানের উপযুক্ত সময় বা কাল। এটি বিনয় অনুসারে বছরে একটি বিহারে একবার করা যায়। থেরবাদা নিয়মে, উক্ত বিহারে অবশ্যই ভিক্ষু অথবা সংঘকে তিনমাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে হয়। তবেই উক্ত বিহারে কঠিন চীবরদানের মাধ্যমে ভিক্ষুটি গ্রহণ করতে পারবে। অন্যথায়, সেটি কঠিন চীবর হিসেবে গণ্য হবে না। প্রথমত, দিবসের সূর্যোদয় হতে পরের দিন সূর্যোদয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে গাছের বাকল সংগ্রহ, সিদ্ধ করা, কাপড়ে রং ও শুকিয়ে তৈরীকরণ, অথবা রেডিমেট চীবর (আধুনিক যুগে যা চীবের স্টোরে পাওয়া যায় এমন)। পুণ্যক্ষেত্র সংঘ চীবরদান গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘ্যাং বা সীমাঘরে উপস্থিত হয়ে ভিক্ষুকে নির্বাচন ও অনুমোদন দিয়ে বিনয়কর্ম সম্পাদন পূর্বক কঠিন চীবরে পরিণত করতে হয়। সেজন্য এই দানকে তিনটি কারণে প্রশংসা করা হয়েছে –
খ) বিশেষ সংঘদান (কঠিন চীবর লাভী ভিক্ষুকে দেয়া হয় বলে) হয় ও
গ) ভিক্ষুদের পাঁচটি আপত্তি দূর হয় :-
১. না বলে বাইরে গমন,
২. বিনা ত্রি-চীবরে বাইরে গমণ,
৩. বিনা নিমন্ত্রণে বা ইচ্ছায় গণভোজনে অংশগ্রহণ,
৪. অধিষ্ঠান ব্যতিরেকে বাড়তি চীবর রাখা, ও
৫. কঠিন চীবরলাভী ভিক্ষু দাতা দ্বারা দানকৃত সকল বস্তু একক মালিকানায় পরিভোগ করতে পারবে।
দাতার পক্ষে পাঁচটি ফলদায়ক-
ক) দাতাগণ নিরুপদ্রবে বিচরণ করতে পারেন,
খ) দাতাগণের সম্পত্তি কখনো শত্রু আগুন, পানিতে, চোর-ডাকাত, অকৃতজ্ঞ ও অসৎ রাজার কর্তৃক অনিষ্ট করতে পারে না,
গ) দাতাগণ বহু-সম্পত্তির অধিকারী হয়ে উন্নত প্রসাধন লাভ করেন তাদের কখনো বস্ত্রের অভাব হয়না ও
ঘ) দাতাগণের কখনো অন্ন-জলের অভাব হয়না,



0 Comments