গৌতম বুদ্ধ বোধিজ্ঞান বা দিব্যজ্ঞান লাভ করার পর বারাণসীর সারনাথের মৃগদাবে (হরিণ উদ্যান) তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ প্রদান করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে বলা হয় 'ধর্মচক্র প্রবর্তন'। বুদ্ধের সেই প্রথম ধর্মোপদেশ শুনে যে ৫ জন সাধক তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, বৌদ্ধ ইতিহাসে তাঁরা 'পঞ্চবর্গীয় শিষ্য' নামে পরিচিত।
নিচে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হলো:
১. কৌণ্ডিন্য (Kaundinya)
তিনি ছিলেন পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বা প্রধান। বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশ শুনে তিনি সবার আগে অর্হত (মুক্ত পুরুষ) উপাধি লাভ করেন। আধ্যাত্মিক জ্ঞানে তিনি অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের ছিলেন।
২. বপ্প (Vappa)
কৌণ্ডিন্যের পর বপ্প বুদ্ধের বাণী শুনে সত্যের সন্ধান পান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও ধ্যানমগ্ন স্বভাবের সাধক। বুদ্ধের শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর নিষ্ঠা ছিল।
৩. ভদ্রীয় (Bhaddiya)
ভদ্রীয় ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং কঠোর তপস্যায় বিশ্বাসী। বুদ্ধের সান্নিধ্যে এসে তিনি লোভ, মোহ ও মায়ামুক্ত হয়ে পরম শান্তি ও অর্হতত্ব লাভ করেন।
৪. মহানাম (Mahanama)
মহানাম তাঁর প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। বুদ্ধের ধর্মবাণী সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও সুন্দরভাবে পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
৫. অশ্বজিৎ (Assaji)
পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী। তাঁর শান্ত ও সৌম্য রূপ দেখে এবং তাঁর মুখ থেকে বুদ্ধের বাণী শুনেই পরবর্তীতে বুদ্ধের প্রধান দুই শিষ্য সারিপুত্র ও মগ্গল্লান বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।
শিক্ষা: এই ৫ জন শিষ্যের হাত ধরেই পৃথিবীতে বুদ্ধের সদ্ধর্মের প্রচার ও প্রসার শুরু হয়েছিল। বুদ্ধের বাণীর মূল ভিত্তি ছিল অহিংসা, মৈত্রী এবং মানবকল্যাণ।

0 Comments