Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বৃষল কাকে বলে ?নং-২৩৩ - (লেখাটিতে বুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ সমূহ বর্ণিত হয়েছে)

ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর অনাথ পিণ্ডিক শ্রেষ্ঠী কর্তৃক নির্মিত জেতবন বিহারে অবস্থানকালে , একদিন ভগবান বুদ্ধ অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে ধ্যান-সমাধি সমাপনান্তে পাত্র-চীবর পরিধান করে , ভিক্ষান্ন সংগ্রহের জন্য শ্রাবস্তী নগরর প্রবেশ করলেন | তখন মিথ্যাদৃষ্টি পরায়ণ, অগ্নি পূজক ভরদ্বাজ ব্রাহ্মণ দূরহতে বুদ্ধকে দেখে বলতে লাগলেন , "হে মুণ্ডক ! ওখানেই দাঁড়াও, হে জাতিচ্যুত শ্রমণ, সেখানেই দাঁড়াও, হে বৃষল ওখানেই দাঁড়াও" |

এ শব্দগুলো উচ্চারণ করার পর ভগবান বুদ্ধ বললেন , - হে ব্রাহ্মণ ! তুমি বৃষলজনক ধর্ম কাকে বলে জানো কি ?
মিথ্যাদৃষ্টি পরায়ণ, অগ্নি পূজক ব্রাহরমণ বললেন ,- হে গৌতম , আমি বৃষলজনক ধর্ম কি জানিনা ! আপনি আমাকে সে সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করুন | কোন্ কর্ম দ্বারা বৃষল হয় যেনো তা আমি জানতে পারি !
ব্রাহ্মণ বুদ্ধের নিকট ধর্মোপদেশ প্রার্থনা করলে ভগবান বুদ্ধ বলেন, - ব্রাহ্মণ তাহলে মনযোগ সহকারে শবণ করো, সুন্দররূপে মনোনিবেশ করো , আমি ব্যাখ্যা করছি |
ব্রাহ্মণ "হ্যা ভদন্ত" বলে বুদ্ধকে সম্মতি জানালেন !
ভগবান বুদ্ধ ধর্মোপেশ আরম্ভ করলেন |
#যে ব্যক্তি ক্রোধপরায়ণ , হিংসক, পাপকর্ম লিপ্ত, অকৃতজ্ঞ, মিথ্যাদৃষ্টি সম্পন্ন, পরলোক ও দানকর্মে যার বিশ্বাস নেই এবং মায়াবী তাকে বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি পশু-পক্ষীসহ অন্যান্য প্রাণীসমূহকে হিংসা করে, যে নর্মম ও নির্দয়, তাকে বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি গ্রাম ও নগরসমূহ ধ্বংস করে, অবরোধ করে, যে অপদস্তকারী এবং ভেদ সৃষ্টিকারী, তাকে বৃষল বলে জানবে #যে ব্যক্তি অপরের অধিকারভূক্ত ধন চুরি করে, তাকে বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ করেনা, চাইতে গেলে বলে আমি তোমার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি, এরকম মিথ্যা বলে, তাকে বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি অর্থের লোভে বিচারালয়ে মিথ্যা স্বাক্ষি প্রদান করে, তাকেও বৃষল বলে !
#যে ব্যক্তি বিভিন্ন ছলচাতুরীর মাধ্যমে আত্মীয় এবং বন্ধু-বান্ধবদের স্ত্রীর প্রিয়ভাজন হয়ে অন্যায় আচরণ করে, তাকে বৃষল বলে জানবে !
#নিজের প্রচুর ধন-সম্পত্তি থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি বৃদ্ধ মাতা-পিতাকে ভরণপোষণ নির্বাহ করেনা, তাকেও বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি গোপনে পাপকর্ম করে অথচ মুখে পবিত্রতা দেখায়, তাকেও বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি পরের ঘরে ভোজন গ্রহণ করে, কিন্তু নিজের বাড়িতে অতিথি আসলে তার প্রতিদান দেয়না, তাকেও বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি ভিক্ষু, শ্রমণ, ব্রাহ্মণ বিংবা অন্যান্য যাচকদের মিথ্যা বাক্য দ্বারা প্রবঞ্চনা করে, তাকেও বৃষল বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি ভোজনের সময় শ্রমণ, ভিক্ষু, ব্রাহ্মণতের কটুক্তি বর্ষণ করে অথচ কিছুই দান করেনা, তাকেও বৃষল জানবে !
#যে ব্যক্তি নিজের প্রশংসা নিজে করে, অন্যকে অবজ্ঞা করে এবং অহংকারে অস্ফালন করে, তাকে বৃষল বলে জানবে !
#যে ভিক্ষু অর্হৎ না হয়েও নিজেকে অর্হৎ বলে প্রকাশ করে, ব্রহ্ম, দেব, মনুষ্যলোকে সে চোর বলে পরিগণিত হয়, বৃষলাধম বলে জানবে !
#যে ব্যক্তি বুদ্ধ, তাঁর শ্রাবক সংঘ, পরিব্রাজক অথবা গৃহস্থকে লক্ষ্য কেরে গালি বর্ষণ করে, তাকেও বৃষল বলে জানবে !
হে ব্রাহ্মণ ! আমি ইহাও বলতেছিযে, জন্মের দ্বারা কেউ বৃষল, চণ্ডাল কিংবা ব্রাহ্মণ হয়না, কর্মের দ্বারাই বৃষল, চণ্ডাল ও ব্রাহ্মণ হয় !
হে ব্রাহ্মণ, তুমি বৃষলত্বের কারণ এই উদাহরণ দ্বারা অবগত হও ! চণ্ডাল পুত্র সোপাক মাতঙ্গ তার উত্তম কর্ম দ্বারা জগতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ! সেই মাতঙ্গ পরম জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিলেন ! তাঁর রিচর্যা ও সেবা করার জন্য বহু ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় উপস্থিত হয়েছিলেন !
মাতঙ্গ চণ্ডাল পুত্র হওয়া সত্বেও দানময়, শীলময়, ভাবনাময় কুশল কর্ম অনুশীলন দ্বারা কামাসক্তি ধ্বংস করে দেব রথে করে ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন !
অথচ অনেক দেবমন্ত্র পাঠক ব্রাহ্মণকে অকুষল বা পাপকর্মে রত থাকতে দেখা গেছে ! তাই তারা ইহলোকে নিন্দিত হয়েছে, পরলোকেও দুর্গতিতে পতিত হয়ে মহাদু:খ-যন্ত্রণা ভোগ করছে ! কিন্তু ব্রাহ্মণের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেও নিন্দ, অপবাদ ও দুর্গতি কেউ ঠেকাতে পারেনি !
সুতরাং জন্মের দ্বারা কেউ বৃষল, চণ্ডাল ও ব্রহ্মণ হয়না! কর্মের দ্বারাই বৃষল, চণ্ডল এবং ব্রহ্মণ হয় !
ভগবান বুদ্ধের উপদেশ শ্রবণ করে মিথ্যাদৃষ্টি পরায়ণ, অগ্নিপূজক ভরদ্বাজ ব্রাহ্মণ বললেন, হে গৌমত, বড়ই সুন্দররূপে আপনার ধর্ম প্রকাশিত হয়েছে ! যেমন অন্ধকে চক্ষুদান করা হয়েছে ! আজ হতে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আমি বুদ্ধের শরণ, ধর্মের শরণ, সংঘের শরণ গরহণ করছি !
হে ভগবান গৌতম , আজ থেকে আমাকে আপনার উপাসক হিসাব অবধারণ করুন !
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক , দু:খ হতে মুক্তি লাভ করুক !

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement