বৌদ্ধ ধর্মের মতে ঋতুস্রাবের সময় বিহারে যাওয়া যাবে কিনা?🙏
হ্যাঁ, যেতে পারবে। বৌদ্ধ ধর্মে ঋতুস্রাবকে "অপবিত্র" বা "পাপ" বলা হয়নি।
তাহলে ত্রিপিটকে কি বলা আছে?
ত্রিপিটকে কোথাও লেখা নেই যে ঋতুস্রাবের সময় নারীরা বিহারে যেতে পারবে না, পূজা দিতে পারবে না, বা বুদ্ধকে বন্দনা করতে পারবে না।
বুদ্ধের সময়েও অনেক ভিক্ষুণী সংঘ ছিল। ঋতুস্রাব একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া। বুদ্ধ একে "অশুচি" বলেননি।
ত্রিপিটকের বিনয় পিটক এ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের জন্য ২২৭/৩১১ টি নিয়ম আছে। এর মধ্যে কোথাও "ঋতুর সময় বিহারে নিষেধ" - এমন কোনো নিয়ম নেই।
বুদ্ধ বরং বলেছেন: "চিত্তই প্রধান। শরীরের রক্তে কেউ অপবিত্র হয় না।"
তাহলে কিছু জায়গায় নিষেধ কেন শোনা যায়?
এটা কুসংস্কৃতি ও লোকাচার থেকে এসেছে, ধর্ম থেকে না।
বিভিন্ন দেশে মানুষ মনে করে: "শরীর অশুচি থাকলে দেবতার কাছে যাওয়া ঠিক না"।
এই ধারণা হিন্দু ও অন্যান্য লোকাচার থেকে এসেছে। অনেকে সেটা বৌদ্ধ বিহারেও নিয়ে এসেছে।
বুদ্ধ কি বলেন?
বুদ্ধ বলেছেন ৩টা জিনিসে মানুষ অপবিত্র হয়: যথা-
১.লোভ
২.হিংসা
৩.অজ্ঞানতা
রক্ত, ময়লা, ঋতুস্রাব - এগুলোতে মানুষ অপবিত্র হয় না।
তিনি বলেছেন: "মন পবিত্র থাকলে সব পবিত্র"।
ঋতুস্রাবে সময় কি কি করণীয়?
বুদ্ধের শিক্ষা মতে ব্যবহারিক পরামর্শ বিহারে যাওয়া সম্পূর্ণ অনুমতি আছে, যেতে পারবে। বন্দনা, পূজা, দান সব করতে পারবে। যেমন: সংঘদান/অষ্টপরিষ্কার দান দিতে পারবে। এর কোনো নিষেধ নেই
ধ্যান/সূত্রপাঠও করতে পারবে। মনই আসল।
বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীর সেবাও করতে পারবে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
শুধু ১টি বিষয়:নিজের শরীর পরিষ্কার রাখা। এটা স্বাস্থ্য ও শালীনতার জন্য। এটা সব সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।
বৌদ্ধ ধর্মে নারী-পুরুষের কোনো ভেদ নেই। ঋতুস্রাব কোনো পাপ না। এটা প্রকৃতির নিয়ম।
তাই মন যদি শুদ্ধ থাকে, শ্রদ্ধা থাকে - তাহলে যে কোনো দিন বিহারে যাওয়া যায়।
কিছু বিহারের বয়স্ক লোকজন যদি মানা করে, সেটা তাদের লোকাচার। ধর্মীয় বাধা না। আপনি শ্রদ্ধার সাথে বুঝিয়ে বলতে পারেন 🙏
বুদ্ধ বলেছেন: "নিজে পরীক্ষা করে দেখো। যুক্তি ও করুণার সাথে মিললে মানো"।
0 Comments