ভগবান বুদ্ধের জীবনের কিছু ঘটনা এরকম যে, যেগুলি সার্বজনীনভাবে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেমন-রাজ কুমার সিদ্ধার্থ কর্তৃক আহত হংসকে বাঁচানোর কাহিনী, দুর্ধর্শ নরহত্যাকারী অঙ্গুলিমালের রূপান্তরণ, গণিকা আম্রপালীকে উদ্ধার, মদোন্মত্ত নালগিরি হাতীর সমর্পণ, মার বিজয় প্রভৃতি ঘটনা সমূহ সাধারণত: অলৌকিক শক্তির প্রভাব বলে মনে হলেও বাস্তবে এগুলি সব হল ঐতিহাসিক বাস্তব ঘটনা তথা দান, শীল, ক্ষান্তি, মৈত্রী, করুণা ইত্যাদি সার্বভৌমিক মূল্যের মহান প্রেরণা দিয়ে থাকে। এসমস্ত ঘটনা প্রেরণার পরাকাষ্ঠা স্থাপন করে থাকে যে, যদি গণিকা আম্রপালী এবং দুর্ধর্শ নরহত্যাকারী অঙ্গুলিমালের রূপান্তরণ সম্ভব হতে পারলে তখন প্রত্যেক কিছু রূপান্তরিত হওয়া সম্ভব হতে পারে। যদি অশরীরি যক্ষ সত্বা সমূহ ধম্ম বুঝতে সক্ষম হয়, তাহলে মনুষ্য বুঝতে পারবেনা কেনো?
‘জযমঙ্গল অট্ঠগাথা’র চতুর্থ গাথা হল এরকমই এক ঘটনার পৃষ্ঠভূমির উপর রচিত, যা হল নরহত্যাকারী অঙ্গুলিমালের জীবনে রূপান্তরের কাহিনীর বিবরণ।
অট্ঠকথা সাক্ষ্য দেয় যে, নরহত্যাকারীরূপে কুখ্যাত অঙ্গুলিমালের বাস্তবিক নাম ছিল ‘অহিংসক।’ তাঁর জন্ম হয়েছিল কোশলের রাজধানী শ্রাবস্তী নগরে। ব্রাহ্মণ কুলে তিনি জন্মেছিলেন। তিনি ছিলেন খুব শ্রদ্ধাসম্পন্ন, অনুগত এবং মেধাবী যুবক। তাঁর শিক্ষা জীবন সমাপ্ত হয়েছে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় হতে। সেখানে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী বিদ্যার্থী। তাঁর অসাধারণ প্রতিভার কারণে সহপাঠীরা তাঁর প্রতি ছিল খুবই ঈর্ষা পরায়ন। তারা গুরুকে অহিংসকের বিরুদ্ধে বলে গুরুর কান ভারী করে তুলেছিল। তাঁর সাথে গুরু পত্নীর অবৈধ প্রণয় সম্পর্ক রয়েছে-তারা এমন অভিযোগ উপস্থাপন করেছিল গুরুর নিকট।
পালি টীকা এবং অট্ঠকথা অনুসারে অহিংসকের তক্ষশীলায় আচার্যের নাম ‘দিসাপামোক্খ’ অথবা ‘দিশা প্রমুখ’ রূপে পাওয়া যায়।
বাস্তবে দিশা প্রমুখ কোনো নাম নয়, ইহা হল উপাধি বিশেষ। বিভাগাধ্যক্ষকে দিসাপামোক্খ অর্থাৎ দিশা প্রমুখ বলা হতো।
অহিংসকের ঈর্ষা পরায়ণ সহপাঠীগণ দ্বারা প্রচারিত মিথ্যা অভিযোগের সত্যতার যাচাই না করেই তাঁর গুরু তাঁকে গুরু দক্ষিণায় তাঁর কাছ হতে ১০০০ মানুষের আঙ্গুলের মালা চেয়ে বসলেন। চালাক গুরু এরূপ বিচিত্র দক্ষিণা এজন্য চেয়েছিলেন, যাতে সে কৃত্য করার সময় কেহ না কেহ তাঁকে মেরে ফেলবে।
গুরু পূর্ণিমার দিন (আষাঢ়ী পূর্ণিমা) স্বীয় গুরু অথবা গুরুদের প্রতি কেবল নমস্কার, বন্দনা, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাই নয়, বরং ইহাও অন্তরাবলোকন করতে হয় যে, কোথাও আমিও এরকম ধূর্ত গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাবনত তো হচ্ছিনা, যদ্বারা তিনি কেবল আমার শ্রদ্ধার শোষণ করে যাচ্ছেন!
গুরুর প্রতি অপার ভক্তির কারণে সে অঙ্গুলিমাল ১০০০ আঙ্গুলের মালার দক্ষিণা দেওয়ার সঙ্কল্প পূর্তিতে হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছিলেন। গুরুর আজ্ঞা মেনে তিনি কোশল রাজ্যের জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুললেন। সেখানে পথিকদের হত্যা করে তাঁদের নিকট হতে অঙ্গুলি কেটে নিয়ে সেগুলির মালা বানিয়ে গলায় পরিধান করে রাখতেন, যাতে গণনায় ভুল না হয়। এজন্য তাঁর নাম হয়েছিল অঙ্গুলিমাল। তিনি ৯৯৯ জন লোককে হত্যা করেছিলেন। এক হাজার লোকের অঙ্গুলির মালা পূর্ণ করে গুরুকে দক্ষিণা অর্পণ করার মহদাকাঙ্ক্ষায় হাজারের গণনা পুর্ণ করার তৎপরতায় তিনি এবার তাঁর গর্ভধারিণী মাকে পর্যন্ত হত্যা করতে উদ্যত হলেন। কেননা, তাঁকে হত্যা করলে এক হাজার আঙ্গুল পূরণ হবে। মায়ের মতো বেশী সুরক্ষিত শিকার আর কে হতে পারে? বিবেকহীন গুরু ভক্তির ছিল এরকম পরাকাষ্ঠা!
এ সম্বন্ধে প্রাচীন একটি প্রবাদ হিন্দিতে রয়েছে যে-‘পানি পিয়ো ছান কে, গুরু করো পহচান কে’, অর্থাৎ পানি পান করো ছেঁকে, গুরুকে নাও পরিচয় করে।
তিনি যেদিন স্বীয় মাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেদিনই তিনি লোকগুরু ভগবান বুদ্ধের মহাকরুণার দিব্যদৃষ্টির পরিধিতে এসে গিয়েছিলেন। করুণাময় ভগবান স্বীয় পাত্র-চীবর নিয়ে যখন জঙ্গলের মার্গে বের হয়ে পড়েছিলেন, তখন সমগ্র জঙ্গলে অঙ্গুলিমালের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিক্ষুরা ভগবান তথাগতকে জঙ্গলে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করলেন, কিন্তু বুদ্ধ নিজের রাস্তায় সম্মুখপানে অবিচল হয়ে চলতেই থাকলেন।
জঙ্গলে অঙ্গুলিমালের সাথে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হল এবং তাঁর রূপান্তরণের অতীব রোমাঞ্চকর বর্ণনা পালি সাহিত্য ত্রিপিটকের সূত্র পিটকান্তর্গত ‘মধ্যম নিকায়’ গ্রন্থের অঙ্গুলিমাল সূত্রে পাওয়া যায়।
জঙ্গলের রাস্তায় একজন মহাশ্রমণকে যেতে দেখে অঙ্গুলিমালের চক্ষুদ্বয় চমকে উঠলো। ভাবতে লাগলেন-‘আজ অন্তিম শিকারও হস্তগত হয়েছে! এবার তাঁর ১০০০ আঙ্গুলের মালার সঙ্কল্প পূর্ণ হয়ে যাবে।
তিনি দৌঁড়ে স্বীয় তরবারি দ্বারা বুদ্ধকে আঘাত করতে চাচ্ছেন। দৌঁড়তে দৌঁড়তে তাঁর শ্বাস রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ইহাই যে, কয়েক কদম দূরত্বে থাকা বুদ্ধ পর্যন্ত কোনো মতেই পৌঁছতে পারছিলেননা। স্বীয় ঋদ্ধি শক্তিতে ভগবান তথাগত তাঁর থেকে অনেক নিকটে থাকার পরেও একই দূরত্বের নিকটে আসতে পারছিলেননা। দৌঁডতে দৌঁডতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। তখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি পেছন থেকে বলতে লাগলেন-
‘তিট্ঠ সমণ, তিট্ঠ সমণাতি।’
অর্থাৎ শ্রমণ! স্থির হও, শ্রমণ! তুমি স্থির হও!
ভগবান বুদ্ধ পেছনের দিকে চেয়ে বললেন-‘ঠিতো অহং অঙ্গুলিমাল, ত্বঞ্চ তিট্ঠসি।’
অর্থাৎ অঙ্গলিমাল! আমি স্থির আছি। এখন তুমিও স্থির হও।
আশ্চর্য হয়ে অঙ্গুলিমাল বললেন-‘গচ্ছং বদেসি সমণ তিট্ঠোম্হি, ময্হং চ তিট্ঠস্স বদেস্যট্ঠিতোতি।’
অর্থাৎ শ্রমণ! তুমি চলমান থেকেও বলছো যে, আমি স্থির আছি এবং আমি দাঁড়ানোর পরেও আমাকে বলছো, তুমি স্থির হও, এর অর্থ কি?
অঙ্গুলিমাল বললেন-‘পুচ্ছামি তং সমণ এতমত্থং, কথং ঠিতো ত্বং অহমট্ঠিতোম্হীতি?
অর্থাৎ শ্রমণ! তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি যে, তুমি কিভাবে স্থির আছো এবং আমাকে কিভাবে স্থির হতে হবে?
এর উত্তরে বুদ্ধ বললেন-
‘ঠিতো অহং অঙ্গুলিমাল সব্বদা,
সব্বেসু ভূতেসু নিধায দণ্ডং।
তুবঞ্চ পাণেসু অসঞ্ঞতোসি,
তস্মা ঠিতোহং তুবমট্ঠিতোসী’তি।’
অর্থাৎ হে অঙ্গুলিমাল! আমি প্রাণী মাত্রের প্রতি দণ্ড অর্থাৎ হত্যা পরিত্যাগ করেছি। তুমি এখনও প্রাণীদের প্রতি অসংযত আছো অর্থাৎ নির্দয়ভাবে প্রাণ নাশে রত রয়েছো। এজন্য বলছি যে, তুমি স্থির হও, তোমাকে স্থির হতে হবে।
ভগবান তথাগতের শ্রীমুখ হতে স্থির হওয়ার এরূপ অনন্য পরিভাষা শুনে অঙ্গুলিমাল অবাক হয়েছিলেন। উত্তপ্ত হওয়া লৌহের উপর যেমন পানি পড়লে শান্ত-শীতল হওয়ার মতো হয়, তেমনি তিনিও নিমিষেই শান্তভাব ধারণ করে তাঁর মুখ দিয়ে বের হয়েছিল-
‘চিরস্সং বত মে মহিতো মহেসি,
মহাবনং সমণোযং পবুচ্চতি,
সোহং চিরস্সাপি পহস্সং
পাপং সুত্বান গাথং তব ধম্মযুত্তং।’
অর্থাৎ আমার দ্বারা পূজিত হে মহর্ষি বুদ্ধ! শ্রমণ আপনি নিশ্চয়ই দীর্ঘকাল পরে আজ আমার কল্যাণের জন্যই এ মহাবনে পদার্পণ করেছেন। আপনার ধম্মময় বচন শুনে আমার ভিতরে অনেকদিন হতে সঞ্চিত থাকা সমস্ত পাপের পরিত্যাগ করছি।
অঙ্গুলিমালের জীবনের রূপান্তরণের বিস্তৃত বর্ণনা অট্ঠকথাচার্য ভদন্ত বুদ্ধঘোষ দ্বারা রচিত টীকা ‘পপঞ্চসুদনী’ নামক গ্রন্থে পাওয়া যায় তথা ‘পরমত্থদীপনী’র টীকাতেও রয়েছে। ‘থেরগাথা’ গ্রন্থেও এবিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
ভগবান মহাকারুণিক বুদ্ধ তাঁকে দীক্ষা প্রদান করেছেন। এখন চীবর পরিধান করে তিনি ভিক্ষু হয়েছেন। তিনি ভগবান তথাগতের সঙ্ঘে একজন মেধাবী ভিক্ষু রূপে অন্তর্ভুক্ত হলেন। ভগবান দ্বারা প্রদত্ত কম্মট্ঠানেও তিনি খুব দ্রুতভাবে প্রগতি লাভ করেছিলেন। সাধনা করতে করতে তাঁর চিত্ত এতই মৃদু হয়েছিল যে, একদিন সকালে সকালে যখন তিনি পিণ্ডাহরণের জন্য বের হয়েছিলেন তখন সুজাতা নামক এক নারীকে প্রসব বেদনায় কাতরাতে দেখে তাঁর চিত্ত এতই দ্রবিত হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি পুনরায় জেতবন বিহারে ফিরে গেলেন। ব্যাকুল হয়ে তিনি ভগবানের নিকট প্রসব বেদনা হতে কাতরাতে থাকা সে নারীর পীড়া দূর করা যায়, তার উপায় জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন।
তখন ভগবান বলতে লাগলেন-‘অঙ্গুলিমাল! এ প্রসূতি মাতার সামনে গিয়ে সত্যকর্মের সত্যক্রিয়া করো, তার প্রসব সুখদায়ক হবে।’
অঙ্গুলিমাল বললেন-‘ভগবান! এ সত্যক্রিয়া অর্থাৎ সত্য কর্ম কিরকম হবে?’
বুদ্ধ জানালেন-‘অঙ্গুলিমাল! তুমি যাও, তার সামনে গিয়ে এরূপে সত্যক্রিয়া করো যে-‘কায়, বাক্য এবং মন কর্মের দ্বারা যদি আমি কোনো পাপ না করে থাকি, তাহলে আমার এ সত্য বচনের প্রভাবে ‘এতেন সচ্চবজ্জেন’ হে ভগিনী! তোমার পীড়া শান্ত হোক এবং তোমার সুখকর প্রসব হোক।’
অঙ্গুলিমাল বললেন-‘কিন্তু ভগবান! আমি তো জীবনে অনেক পাপ কর্ম সম্পাদন করেছি, তাহলে আমার বচন সত্য হবে কিভাবে?’
বুদ্ধ জানালেন-‘অঙ্গুলিমাল! যখন হতে তুমি বুদ্ধ শাসনে প্রবেশ করেছো, তখন হতে এখন পর্যন্ত তুমি কায়, বাক্য এবং মনের দ্বারা কোনো পাপ কর্ম করেছো কি?’
অঙ্গুলিমাল বললেন-‘না, ভন্তে!’
বুদ্ধ নির্দেশ দিলেন-‘তাহলে তুমি সে সত্য বাক্যেরই উদ্ঘোষ করো। তাতেই সে মাতার প্রসব সুরক্ষিত হয়ে যাবে।’
ভগবানের কাছ হতে সমাধান পেয়ে তিনি ব্যাকুল হয়ে আবার সে মাতার নিকট গিয়ে সম্মুখে হাজির হলেন এবং ভগবান তথাগতের নির্দেশ অনুসারে করুণা বিগলিত হয়ে সত্যক্রিয়া করলেন-
‘যতোহং ভগিনি! অরিযায জাতিযা জাতো,
নাভি জানামি সঞ্চিচ্চ পাণং জীবিতা বোরোপেতা।
তেন সচ্চেন সোত্থি তে হোতু সোত্থি গব্ভস্স।’
অর্থাৎ হে ভগ্নী! যখন হতে আমি এ আর্য কুলে জন্ম অর্থাৎ ভিক্ষু জীবনে জন্ম নিয়েছি, তখন হতে আমার স্মরণ হচ্ছেনা যে, আমি সজ্ঞানে কোনো প্রাণীকে হত্যা করেছি। এ সত্য বাক্যের প্রভাবে তোমার কল্যাণ হোক এবং তোমার গর্ভেরও কল্যাণ হোক।
এ বচন শুনা মাত্রই শীঘ্র সে মাতার সুখদায়ক ও পীড়া রহিত সুরক্ষিত প্রসব হয়েছিল।
তখন হতে আজ পর্যন্ত শ্রদ্ধাসম্পন্ন বৌদ্ধদের গৃহে প্রসূতি মায়েরা প্রসবকালে সুরক্ষিত এবং সুখপ্রদ প্রসবের প্রত্যাশায় ‘অঙ্গুলিমাল পরিত্রাণ’ নামে উক্ত পংক্তি সমূহের পাঠ করা হয়। সে পংক্তি সমূহ হল মহাপরিত্রাণ পাঠেরও অঙ্গ।
জযমঙ্গল অট্ঠগাথা’র চতুর্থ গাথা ভগবান তথাগত বুদ্ধ দ্বারা ঋদ্ধি শক্তির সহায়তায় অঙ্গুলিমালের রূপান্তরণের জয় এবং মঙ্গলের সত্যক্রিয়া করে সর্বদা শ্রোতাদের জয় এবং মঙ্গল কামনা করা হয় নিম্নোক্তভাবে-
‘উক্খিত্তখগ্গমতিহত্থ সুদারুণন্তং,
ধাবম্তি যোজনপথঙ্গুলিমালবন্তং।
ইদ্ধিভিসঙ্খতমনো জিতবা মুনিন্দো,
তং তেজসা ভবতু তে জযমঙ্গলানি।’
প্রথম গাথায় ভগবানের দান পারমিতার সত্যক্রিয়া করা হয়েছে, দ্বিতীয় গাথায় ক্ষান্তি পারমিতা অর্থাৎ ক্ষমাশীলতার সত্যক্রিয়া এবং তৃতীয় গাথায় মেত্তা অর্থাৎ মৈত্রীর সত্যক্রিয়া এবং চতুর্থ গাথা হল সত্য পারমিতা বা সত্যবলের প্রভাব।
সত্যিকারভাবে এ সমস্ত গাথার পাঠ বা শ্রবণে কি লোকের জয় এবং মঙ্গল হয়ে থাকে? অবশ্যই হয়ে থাকে, কেননা এখানে পাঠকের কোনো চমৎকারিত্ব থাকেনা। এতে ভগবান বুদ্ধের জীবনের সত্য ঘটনা সমূহের কেবল সত্যক্রিয়াই করা হয় যে-‘তং তেজসা ভবতু তে জযমঙ্গলানি’ ইহা হল মুনীন্দ্র বুদ্ধের জীবনের এরূপ সত্য ঘটনার তেজ প্রভাব, যদ্বারা বলা হয়- ‘তোমার/তোমাদের জয় এবং মঙ্গল হোক।’ এ পংক্তি সমূহ আত্মবিশ্বাসকে (Self Confidence) শক্তি প্রদান করে থাকে। ইহা হল এক প্রকার মঙ্গল কামনা। শ্রদ্ধার সাথে পাঠ বা শ্রবণ করলে তখন ভগবান বুদ্ধের পূরিত পারমিতা সমূহ আমাদের মনোবলকে বৃদ্ধি করে থাকে। মনোবলের চেয়ে অন্য কোনো শক্তি আর নাই, মানসিক শক্তির অভাবেই হার হয় এবং মনের জয়ই জিত! আপনি কি স্বীয় জীবনে এরকম কোনো রূপান্তরণকে দেখেছেন?
.jpg)
.jpg)
0 Comments