Hot Posts

6/recent/ticker-posts

ধাম্মিক হওয়ার লক্ষণ

বাচ্চারা কখনও কখনও যখন সত্য কথাও বলে ফেলে, তখন বয়স্ক লোকেরা তাদেরকে থামিয়ে দেয়, বলতে দেয়না, কেননা বাচ্চারা সে ভয়কে জানেনা, যা বয়স্কেরা জ্ঞাত রয়েছে। বাচ্চার মধ্যে এখনও সেরকম বুঝার ক্ষমতা হয়নি, যার অপর নাম হল চালাকি, যা তারা মিথ্যা কথাকে সত্য বলতে পারে। তাদের মধ্যে সবসময় সত্যই দেখা দেয়।

একজন ছোট বাচ্চাকে মন্দিরে যখন নেওয়া হয় এবং কোনো মূর্তির সামনে দাঁড় করিয়ে বলা হয় যে, ইনি হলেন ঈশ্বর, প্রণাম করো। সে বাচ্চা দেখে থাকে যে, এখানে একটি মূর্তি রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে বলা হচ্ছে, ইনি হলেন ঈশ্বর, নত মস্তক হয়ে প্রণাম করো। যদি সে বাচ্চা বলে যে, আমি তো পাথরের বা ধাতব মূর্তি দেখতে পাচ্ছি, এখানে ঈশ্বর দেখতে পাচ্ছিনা। তখন বয়স্কেরা বলে থাকে যে, তুমি অবুঝ। এখন তোমার জ্ঞান নাই, আমি অনুভবের করে বলছি যে, এর মধ্যে ঈশ্বর রয়েছে। বয়স্করা বাচ্চার গর্দানকে চেপে জবরদস্তি ঝুঁকিয়ে দেবে এবং এভাবে তাকে করতে করতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সে বাচ্চাও বুঝদার হয়ে যায়।
সমগ্র সংসারে ইহাই হয়েছে। মনুষ্যকে ভয়ভীত করে অনেক প্রকারের অসত্য শিখানো হয়েছে এবং হচ্ছে। ভীরের চাপে, ভীরের ভারে এক ব্যক্তি এতটুকু নৈতিক সাহসও করতে পারেনা এবং যা সে দেখে তাও বলতে পারেনা। সেরকম সাহস দেখাতে গেলে বা বলতে গেলে তখন সে একাকী হয়ে যাবে। ধাম্মিক মানুষ আমি তাকেই বলি, যে একাকী চলার সাহস করতে পারে। যে মনুষ্য ভীড়কে স্বীকার করে নেয়, সে ব্যক্তি প্রকৃত ধাম্মিক নয়। সে বাস্তবে কখনও ধাম্মিক হতেই পারেনা। ধাম্মিক ব্যক্তির প্রথম লক্ষণ হল একাকী দাঁড়ানোর সাহস থাকা। যা সে দেখে থাকে, তা গ্রহণ করার সাহস, বলার সাহস এবং যা সে দেখতে পায়না তা অস্বীকার করার সাহসও থাকতে হবে।
আমরা যে সকল ধাম্মিক লোকদেরকে জানি, তাদের মধ্যে কাউকে একাকী দাঁড়িয়েছে এরকম দেখা যায়না। তারা সকলে ভীড়ের সাথেই সবসময় সম্পৃক্ত হয়ে থাকে। খৃষ্টানদের ভীড় রয়েছে, মুসলিমদের রয়েছে ভীড়, জৈনদের ভীড় রয়েছে বৌদ্ধদের ভীড় রয়েছে এবং প্রত্যেক লোক হল কোনো না কোনো ভীড়েরই অংশ এবং ভীড়ের লোকেরা যা বলে থাকে, ব্যক্তিও তাহাই বলে থাকে। ভীড়ের মধ্যে যুক্ত থাকা প্রত্যেক মানুষ এজন্যই সায় দিয়ে থাকে যে, কারণ অবশিষ্ট লোকেরা সেরকমই বলে যাচ্ছে। প্রায় মানুষ মনে করে যে, প্রত্যেক মানুষকে দৃশ্যমান হয়ে থাকে বিষয় সমূহ। চক্ষু অন্ধ নয়, কান বধির নয় এবং মস্তিষ্ক ভাবতে থাকে। কিন্তু চারিদিকে সকল লোক তাহাই বলে থাকে বলে মনে হয় এবং তখন ব্যক্তি বড়ই একা হয়ে যায়।
এজন্য আজ আপনার সাথে আমার যে বিষয়ের উপর কথা বলতে হয়, তা হল ভয়। ভয় ধাম্মিক ব্যক্তির লক্ষণ নয়। কেননা যে ভয়ভীত থাকে, সে কখনও সত্যের অনুসন্ধান করতে যেমন পারেনা, তেমনি সত্যকে জানতেও পারবেনা। যে হল ভয়ভীত, সে কখনও যোগ্য হতে পারেনা যে, সে সাক্ষাৎকার করতে সক্ষম হবে। তার ভয় অসত্যকেই মেনে নিতে বাধ্য করে। সত্যের পক্ষ হয়না।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement