Hot Posts

6/recent/ticker-posts

নিজের দু’কানকে তো অবিশ্বাস করতে পারি না:-

বনভন্তের কুটিরটি একটি টিলার উপর। এ টিলার নীচে ধান্য জমিও রয়েছে। তেমনি একটি ধান্যজমিতে জনৈক বড়ুয়া চাষাবাদ করেন। কৃষি কাজের জন্য প্রায়সময়ই সেই ধান্যজমিতে আসা-যাওয়া করতে হয় তাকে। একদিন খুব ভোরে হালের গরু নিয়ে জমিতে হাজির হলেন। আর বেশ আগ্রহভরে হাল-কর্ষণ শুরু করলেন। অনেকক্ষণ ধরে হাল-কর্ষণ করার পর হঠাৎ তার খেয়াল হল, কে-যেন বড় বড় শব্দ করে কথা বলছে। ক্রমাগত সেই শব্দ শুনতে থাকলে হাল-কর্ষণ বন্ধ করে দিলেন। আর কান পেতে শুনতে লাগলেন সেই শব্দগুলো। এবার তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন, শব্দগুলো বনভন্তের কুটিরে হচ্ছে। স্বয়ং বনভন্তেই বড় বড় শব্দ করে ধর্মদেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। অমনি তার মনে একটা ধাক্কা দিল, আজ তো কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। অনুষ্ঠান ছাড়া এতো লোকজন কোথা থেকে আসলেন! আর হূট করে কী এতো জনসমাগম হতে পারে? অল্পক্ষণ আগেও তো কোনো লোকজনের সাড়া-শব্দ শুনিনি। ফলে বেশ কৌতূহলী হয়ে উঠল তার মন। না, আমাকে অবশ্যই দেখে আসতে হবে। ভন্তে কাকে ধর্মদেশনা প্রদান করছেন? এই ভেবে পুরো হাল-কর্ষণ কাজ বন্ধ করে দিলেন।

এবার অনেকটা চুপি চুপি অগ্রসর হতে থাকলেন ভন্তের কুটিরের দিকে। তবে কুটিরের কাছে আসতেই যেন ভন্তের ধর্মদেশনা প্রদান বন্ধ হয়ে গেল। কোনো শব্দই আর শুনতে পাচ্ছেন না। কুটিরের পুরো এলাকা নীরব, নিস্তব্ধ। কিছুক্ষণের আগে বড় বড় করে ধর্মদেশনা প্রদান করার শব্দ শুনলেন, এখন চুপচাপ কেন! কৌতূহল বেড়ে গেল তার। ফলে আরো অগ্রসর হলেন; একেবারে কুটির পর্যন্ত আসলেন। এবার দেখতে পেলেন, সত্যিই তো বনভন্তে সম্পূর্ণ একাকী কুটিরের ভেতরে ধ্যানরত রয়েছেন। শুধু তাই নয়, এখানে কিছুক্ষণের আগে জনসমাগম হয়েছিল বলে কোনো চিহ্নও নেই। কিছুক্ষণের আগে শুনা বড় বড় করে ধর্মদেশনা প্রদান করার শব্দের সাথে এ নীরব অবস্থা কিছুতেই মেলাতে পারলেন না। যার দরুন বেশ আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেলেন তিনি। অবাক হয়ে ভাবলেন, এটা কী করে সম্ভব! কিছুক্ষণের আগে এখানে এতো বড়ো বড়ো আওয়াজ শুনলাম, আর এখন কোনো শব্দ নেই। শুধু শব্দ কেন, এখানে জনসমাগম হবার কোনো চিহ্নও নেই। কী আশ্চর্যের ব্যাপার! আমি কি তখন ভুল শুনেছিলাম। তা-ও কি করে হয়? নিজের দু’কানকে তো অবিশ্বাস করতে পারি না। এরূপ চিন্তা করতে করতে হালকর্ষণ কাজে ফিরে আসলেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement