Hot Posts

6/recent/ticker-posts

ADD

তামিলনাড়ুতে খননকার্যে পাওয়া গিয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ স্মারক


ভারতবর্ষের সর্বত্র কণায় কণায় কেবল বুদ্ধই বুদ্ধ। যে কোনো স্থানে খনন করলেই উপলব্দ হয় বুদ্ধ মূর্তি এবং বৌদ্ধ স্মারক। বিহারের কেশরিয়ায় খনন কার্যে পাওয়া গিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ স্তূপ, যা কেশরিয়া স্তূপ নামে পরিচিত।

মধ‍্য প্রদেশে খনন কার্যে পাওয়া গিয়েছে বুদ্ধের বিশাল মূর্তি। দক্ষিণ ভারতের কেরলে খনন কার্যে প্রাপ্ত হয়েছে বিশাল বুদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। ……….
সমগ্র ভারতে পুরাতত্ব বিভাগ দ্বারা খনন কার্যের সময় যদি কিছু প্রাচীন প্রত্ন সামগ্রী পাওয়া যায়, তা কেবল বুদ্ধের সাথে সম্বন্ধিত অথবা মৌর্য সম্রাট অসোক কালের সম্বন্ধিত। এরকম কেনো, তা আপনারা কখনও চিন্তা করেছেন কি?
খনন কার্যে অতি প্রাচীন কোনো ব্রাহ্মণ মন্দির অথবা ৩৩ কোটি দেব-দেবীর কোন একটি বিশাল মূর্তিও কেনো পাওয়া যায়না?
বড় বড় বৌদ্ধ চৈত‍্য, বৌদ্ধ বিহার, বৌদ্ধ স্থাপনা, অসংখ‍্য বৌদ্ধ শিলালেখ এবং বিশাল বিশাল বিভিন্ন বৌদ্ধ মূর্তি সমূহ কালে কালে কি নিজ হতেই মাটির নীচে চলে গিয়েছিল?
এরকম যদি হয়ে থাকে, তাহলে প্রাচীন হিন্দু মন্দির সমূহের ধ্বংসাবশেষও অবশ‍্যই থাকতো। কিন্তু বাস্তবে সেগুলির অস্তিত্ব দেখা যায়না কেনো?
বৈদিক সংস্কৃতিকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং পরিস্কৃত সভ‍্যতা হওয়ার দাবী ঢোল পিটিয়ে যাঁরা প্রচার করে থাকেন, আপনারা বলুন যে, আপনাদের ১১ লক্ষ বছর পূর্বে জন্ম নেওয়া রামের কোনো প্রাচীন মূর্তি অথবা মন্দির সময়ের অন্তরালে মাটির নীচে ডুবে যায়নি কেনো?
আপনাদের মতে, সাত হাজার বছর পূর্বে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণের কোনো মন্দির খনন কার্যে পাওয়া যায়নি কেনো?
খনন কার্যে আপনাদের কোনো দেব-দেবী, অবতার বা ভগবানের সাথে সম্বন্ধিত কোনো বাস্তু কোথাও পাওয়া যায়নি কেনো?
অথবা হয়তো আপনার সংস্কৃতি ততই উন্নত-সমৃদ্ধ ছিলনা বা বুদ্ধ সম্বন্ধিত সংস্কৃতি আপনার সংস্কৃতি হতে হাজার গুণ অধিক শ্রেষ্ঠ, উন্নত, পরিস্কৃত এবং বিশাল ছিল ইহাই প্রমাণ করে, নয়কি।
যদি সেরকম হয়, তাহলে আবার এত বিশাল সভ‍্যতা জমিনের নীচে কিভাবে চলে গিয়েছিল?
মিশরের পিরামিড যা কিনা মরুভূমির ভয়ঙ্কর ঝড়-তুফানের আঘাতেও মাটির নীচে তলিয়ে যায়নি, ইহাকে খনন করে বের করতে হয়নি, যা বুদ্ধের থেকেও আড়াই হাজার বছরের পুরাতন এবং ভারতে বুদ্ধের সাথে সম্বন্ধিত অধিকাংশ স্থানই খনন কার্যের দ্বারা অনুসন্ধান করতে হয়েছে।
ভারতের মূল প্রাচীন সিন্ধু সংস্কৃতির সমগ্র শহরই ১৯২২ সালে সংযোগ বশত: খনন কার্যে আবিস্কার করা হয়েছে।
ইহার কারণ আমি আপনাদেরকে বলছি। প্রকৃতপক্ষে খৃষ্টপূর্ব ১৮৯ অব্দে যখন সম্রাট অসোকের উত্তরসূরী বৃহদ্রথ মৌর্যকে ব্রাহ্মণেরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর সেনাপতি পুষ‍্যমিত্র শুঙ্গ দ্বারা হত‍্যা করিয়েছিলেন, এরপূর্বে ভারতবর্ষের কোণায় কোণায় সম্রাট অসোক কর্তৃক স্থাপিত বুদ্ধ ধম্মেরই বিজয় পতাকা উড্ডীনয়মান ছিল, তখন ভারতবর্ষের কোণায় কোণায় বুদ্ধের স্মারক, বৌদ্ধ স্তূপ, বৌদ্ধ বিহার এবং বুদ্ধের সাথে সম্বন্ধিত অন‍্যান‍্য বিশাল বিশাল স্মারকই কেবল ছিল। কোনো ব্রাহ্মণ‍্য মঠ বা মন্দির ছিলনা।
বৃহদ্রথ মৌর্যকে হত‍্যার পরে চলতে থাকা ব্রাহ্মণ এবং শ্রমণদের (বৌদ্ধ) সাথে দীর্ঘ সংঘর্ষে ব্রাহ্মণেরা রাজশক্তির সহযোগিতায় এবং নিজেদের কুটিল, ধূর্ত নীতির দ্বারা জয় হাসিল করেছিল।
ব‍্যাপকভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী ও বুদ্ধ অনুসারীদের হত‍্যা করা হয়েছিল এবং বৌদ্ধদের ইতিহাস চিরতরের জন‍্য জেনে-বুঝেই জমির নীচে কবরস্থ করা হয়েছে! এবং নিজেদের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ সমূহকেও সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল, সে প্রমাণ সমূহকেই আমাদের লোকেরা খনন করে বের করার প্রয়াস করে যাচ্ছেন। আসুন, খনন করে বের করা কিছু প্রাচীন অবশেষকে পর্যবেক্ষণ করি।
‘অসোকাবদান’ নামক পুস্তক হতে জানা যায় যে, পুষ‍্যমিত্র শুঙ্গ পাটলীপুত্র হতে জলন্ধর পর্যন্ত সমস্ত বৌদ্ধ বিহারকে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং এরূপ ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত‍্যা করে একটি শির (মস্তক) যে এনে দিতে পারবে, তাকে শত সুবর্ণ মুদ্রা উপহার প্রদান করা হবে।
সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গের রাজা শশাঙ্কও বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন-নির্যাতনের সীমা পার করেছিলেন। চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু তথা পর্যটক হিউয়েন সাং তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে লিখেছেন যে-
‘তিনি (শশাঙ্ক) কুশীনগর হতে বারাণসীর মধ‍্যে সমস্ত বৌদ্ধ বিহার ও চৈত‍্যকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। পাটলীপুত্রের বুদ্ধ পদ-চিহ্নকে গঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং ব্রাহ্মণদের প্ররোচনায় তিনি বুদ্ধগয়ার পবিত্র বোধিবৃক্ষকে কেটে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং বুদ্ধ মূর্তির স্থানে শিব মূর্তি স্থাপন করেছিলেন।’
তামিলের ‘পেরিয়া-প্রনানম’ নামক গ্রন্থ অনুসারে রাজা মহেন্দ্র বর্মন অসংখ‍্য বুদ্ধ স্মারক এবং বিহারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
একাদশ শতাব্দীতে মৈসুরের রাজা বিষ্ণু বর্মণ বৌদ্ধ মন্দিরকে ধ্বস্ত করে দিয়েছিলেন।
মহাবংশ পুরাণের ৯৩ তম পরিচ্ছেদের দ্বাবিংশতি শ্লোক অনুসারে তথা সিংহলী কাহিনীতেও উল্লিখিত হয়েছে যে, রাজা জয় সিংহ বৌদ্ধদের উপর এতই ভয়ঙ্কর অত‍্যাচার ও তাণ্ডব চালিয়েছিলেন যে, সমগ্র সিংহল দ্বীপ বৌদ্ধ শূণ‍্য হয়ে পড়েছিল।
শঙ্কর দিগ্বিজয় গ্রন্থ অনুসারে ‘রাজা সুধন্বা স্বীয় ব্রাহ্মণ গুরু কুমারিল ভট্টের নির্দেশে তাঁর সেবকেরা এরূপ আদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন যে-‘ রামেশ্বর হতে হিমালয় পর্যন্ত সমগ্র ভূভাগের উপর যে সকল বৌদ্ধ পাওয়া যাবে, তারা বৃদ্ধ হোক বা শিশু, সকলকে হত‍্যা করতে হবে।’ (শঙ্কর দিগ্বিজয়, অধ‍্যায়-১, শ্লোক-৯৩-৯৪)।
এভাবে আরও হাজারাধিক উদাহরণে ভর্তি রয়েছে, তাঁদের দ্বারা লিখিত সাহিত‍্য সমূহে…….।
এ সমস্ত উদাহরণ কি বুঝার জন‍্য যথেষ্ট নয় যে, বুদ্ধ সম্বন্ধিত ইতিহাস জমির নীচে কেনো এবং কিভাবে চলে গিয়েছে? এগুলির জন‍্য কারা দায়ী?

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement