শ্রীমৎ জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির ( সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো ) ছিলেন বাংলাদেশি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, সমাজসেবক এবং ত্রয়োদশ সংঘরাজ। দীর্ঘ ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৌদ্ধ ধর্ম, শিক্ষা, জনকল্যাণ এবং মানবসেবায় অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০২২ সালে একুশে পদক প্রদান করে।
- জন্ম: তিনি ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উত্তর গুজরা (ডোমখালী) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রেম লাল বড়ুয়া এবং মাতা মেনোকা রানী বড়ুয়া।
- ভিক্ষুত্ব গ্রহণ: ১৯৪৪ সালে তিনি শ্রামণ্য (প্রব্রজ্যা) এবং ১৯৪৯ সালে উপসম্পদা লাভের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বৌদ্ধ সংঘ জীবনে প্রবেশ করেন।
- সংঘরাজ পদ: তিনি ২০০৪ সালে উপ-সংঘরাজ এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় আসন 'ত্রয়োদশ সংঘরাজ' হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- প্রয়াণ: শতবর্ষী এই মহাপুরুষ ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতলের পিছিয়ে পড়া ও অনাথ শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য ২৪টিরও বেশি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- মনোঘর অনাথ আশ্রম: রাঙামাটির ভেদভেদিতে অবস্থিত এটি পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অনাথ আশ্রম।
- চন্দ্রঘোনা জ্ঞানশ্রী শিশুসদন: কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে অবস্থিত শিশু আশ্রম।
- মুবাইছড়ি জ্ঞানোদয় পালি টোল: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পালি শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রতিষ্ঠিত।
- কদলপুর অনাথ আশ্রম ও ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার: চট্টগ্রামের রাউজানে নবীন ভিক্ষুদের প্রশিক্ষণ ও অনাথদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত।
- অন্যান্য: গুইমারা ড. জ্ঞানশ্রী বৌদ্ধ বিহার এবং সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রসহ বহু ধর্মীয় উপাসনালয়------- ।
মানবসেবা ও বৌদ্ধ ধর্মে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বেশ কিছু বৈশ্বিক সম্মাননা লাভ করেন:
- থাইল্যান্ড সরকার: ১৯৮১ সালে তাঁকে 'শাসন শোভন জ্ঞান ভানক' উপাধিতে ভূষিত করে।
- মিয়ানমার সরকার: ২০০৬ সালে তাঁকে 'মহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ' রাষ্ট্রীয় উপাধি প্রদান করে।
- মহাচুল্লালংকার বিশ্ববিদ্যালয়: ২০০৭ সালে থাইল্যান্ডের এই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট (P.H.D) ডিগ্রি দেওয়া হয়।
0 Comments