Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের একজন বিশিষ্ট বৌদ্ধ পণ্ডিত, ধর্মীয় গুরু এবং সমাজসেবক।

 


শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের তার মূল নাম ছিল বিধু ভূষণ বড়ুয়া।জন্ম: ১৯৩০ সালের ১০ জুন কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তরুণ বয়সে সংসারবিবাগী হন, প্রব্রজ্যাধর্মে দীক্ষা নেন এবং ‘বিধুভূষণ বড়ুয়া’র পরিবর্তে ‘সত্যপ্রিয়’ নাম গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষিত হন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য মিয়ানমার গমন করেন। পঠনপাঠন, অধ্যয়ন, গ্রন্থরচনা ও সাধনায় দশ বছর কাটিয়ে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন থেকেই তিনি ‘রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার’-এর অধ্যক্ষ পদে আসীন আছেন । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের ধর্মবিশ্বাসনির্বিশেষে বিপদাপন্ন নারীপুরুষকে নিজের বিহারে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সর্বোচ্চ সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক সম্মিলন ও সেমিনারে যোগদান করেছেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মার্চ মিয়ানমার সরকার তাঁকে ধর্ম বিষয়ে পাণ্ডিত্য এবং ধর্মপ্রচারের মাধ্যমে শান্তি বিস্তারে অবদান রাখার জন্য পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিপতাকা’ উপাধি প্রদান করেন।

সমাজসেবায় গৌরবজজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথেরকে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয় ।

প্রকাশনা

সত্যপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক অনেক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি ত্রিপিটকের বিনয়পিটকের অন্তর্গত 'চুল্লবর্গ' গ্রন্থ পালি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সম্মাননা

  • সমাজসেবায় একুশে পদক, ২০১৫
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ কর্তৃক শান্তি পুরস্কার, ২০১০।
  • সমাজসেবায় অবদানের জন্য মায়ানমার থেকে 'অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ', ২০০৩।

মৃত্যু

সত্যপ্রিয় মহাথের ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement