আজকের দিনে ইস্কনের কথা খুব চর্চিত হয়। ইস্কনের পূর্ণ রূপ হল International Society for Krishna Consciousness (ISKCON)। ১৯৬৬ সালে এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ব্রাহ্মণ অভয় চরণারাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ (১৮৯৬-১৯৭৭)। তিনিও ঘোর জাতিবাদী এবং বর্ণবাদী ব্যক্তি ছিলেন।
ইস্কনের নামে ব্রাহ্মণ আজকাল আমেরিকা এবং ভারতের লোকদেরকে বেওকূপ বানানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। ইস্কনের স্থাপনা করেছিলেন ১৯৬৬ সালে একজন বঙ্গীয় ব্রাহ্মণ শ্রীল প্রভুপাদ নামধারী ব্যক্তি। তিনি লিখেছেন যে-‘আমেরিকার অশ্বেত লোক (কালো) এবং ভারতের শুদ্র (বর্তমানের এস. সি, এস. টি এবং ওবিসি) উভয়ই হল গোলাম এবং তাদেরকে গোলাম বানিয়ে রাখার জন্য বেশী শিক্ষিত হতে দেওয়া উচিত নয়। তাদেরকে অধিক অধিকার দেওয়াও উচিত নয়। বরং তাদেরকে কেবল জীবিত রাখার জন্য ভোজনই দেওয়া উচিত।’ ( The Hare Krishna Movement, Edwin F. Bryant and Maria L Ekstrand, 2004, P-350-377).
অনুরূপভাবে শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন কট্টর নারী বিদ্বেষীও। তিনি মনুস্মৃতির দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা নারীদেরকে নীচ ও তুচ্ছ মনে করতেন। ( প্রাগুক্ত, পৃষ্টা-৩৫০-৩৭৭)।
কিন্তু আজকাল ভারতে ইস্কনের সবচেয়ে অধিক সমর্থক দেখা যাচ্ছে ওবিসি এবং নারীদেরকে। ওবিসি (Other Backward Caste) এবং নারীরা ইস্কনের শ্লোগান ‘হরে রাম, হরে কৃষ্ণ …….’ জপ করে করে আনন্দ নিয়ে থাকে। কিন্তু তারা জানেনা যে, ইস্কনের নির্মাণ করা হয়েছে শুদ্র, ওবিসি এবং নারীদেরকে গোলাম বানানোর জন্য।
সকল ওবিসি এবং নারীরা মূলত: অতীতে বৌদ্ধ ছিলেন। কারণ তাঁরা ছিলেন মূল ভারতীয় শ্রমণ পরম্পরার লোক। তাঁদেরকে সম্মানজনক বৌদ্ধ ধম্মের মার্গ অনুসরণ করা উচিত এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত চলে আসা ধার্মিক গোলামী হতে স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন করা উচিত।
ভগবান তথাগত বুদ্ধ আজ হতে আড়াই হাজার বছরেরও পূর্বে জাতিভেদ, বর্ণভেদ, ছুত-অচ্ছুত ইত্যাদির বিরুদ্ধে দুর্বার অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনিই ঘোষণা করেছিলেন-‘জন্মের দ্বারা নয়, বরং কর্মের দ্বারাই মানুষ উঁচু-নীচু বা উত্তম-হীন হয়ে থাকে। সুতরাং জন্মের ভিত্তিতে কাউকে হীন ভাবা উচিত নয়। তা হল অসভ্যতা, বর্বরতা এবং মানবতা বিরোধী।



0 Comments