শ্রদ্ধার আলোয় আমার প্রাণপ্রিয় যুব সমাজ এবং শ্রদ্ধাদান প্রদান করেন কোঠেরপাড় বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতি কে।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কোঠের পাড় গ্রামে আজ এক স্বর্গীয় আবহের সৃষ্টি হয়েছে। আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে বুদ্ধং শরণং গচ্ছামির পবিত্র ধ্বনিতে। প্রয়াত পরম পূজনীয় সাধক ডক্টর এফ. দীপঙ্কর মহাথের মহোদয়ের সুযোগ্য ও প্রধান শিষ্যসংঘের পবিত্র চরণধূলি পড়েছে এই মাটিতে। গুরুভক্তি আর আধ্যাত্মিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পুরো কোঠের পাড় গ্রামবাসী এবং অত্র এলাকার উদ্যমী যুব সমাজ একতাবদ্ধ হয়ে আয়োজন করেছে এক অনন্য পুণ্যোৎসবের।
সকালের মৃদু বাতাসে যখন চারপাশ শান্ত, ঠিক তখনই শুরু হয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও ভক্তিপূর্ণ পর্ব—পিন্ডচরণ। সারিবদ্ধভাবে শান্ত ও সৌম্য পায়ে হেঁটে চলেন পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ। তাঁদের হাতে থালায় অন্ন ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার জন্য রাস্তার দুই পাশে ভক্তিভরে অপেক্ষা করছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা। যুব সমাজের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় এই পিন্ডদান পর্বটি গ্রামে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক মেলবন্ধন তৈরি করে।
২. অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান
গুরুর দেখানো সৎ পথে চলার সংকল্প নিয়ে ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয় মহাসংঘদানের। পরম শ্রদ্ধায় উৎসর্গ করা হয় বুদ্ধ শাসনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান ‘অষ্টপরিষ্কার’ (ভিক্ষুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় আটটি পবিত্র অনুষঙ্গ)। উপস্থিত উপাসক-উপাসিকারা সমস্বরে 'সাধু, সাধু, সাধু' ধ্বনি দিয়ে এই মহান দানের পুণ্য রাশি অনুমোদন করেন এবং প্রয়াত মহাথের মহোদয়ের নির্বাণ সুখ এবং কোটারপাড় গ্রামের প্রয়াত সকল জ্ঞাতিগণের মঙ্গল কামনা করেন।


অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অধ্যায় ছিল মহাসতিপট্্ঠান সূত্র পাঠ(Maha satipatthana sutta ) শ্রবণ ও পাঠ। চিত্তের একাগ্রতা, আত্মশুদ্ধি এবং চতুরার্য সত্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার এই অমোঘ বাণী যখন ভিক্ষুসংঘের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন পুরো বিহার প্রাঙ্গণে এক পরম শান্তি নেমে আসে।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক
ছোটন বড়ুয়া (অনিক)
.jpg)

.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
0 Comments