আপনি কি জানেন যে, যখন একজন বিদেশী ভারতীয় ইতিহাসকে মুছে যাওয়া থেকে সজীব করেছিলেন?
এরকম একজন ইংরেজ যিনি কেবল ভারতের সবচেয়ে পুরাতন লিপিকে পড়তে সফলতা প্রাপ্ত হননি, বরং তার সাথে তিনি ভারতের সবচেয়ে মহান সম্রাট অসোকের গৌরব গাথা এবং ভারতে বুদ্ধের ইতিহাসকে প্রমাণিত করে দিয়েছিলেন।
সে ইংরেজ ইতিহাসবেত্তা ছিলেন স্যার জেম্স প্রিন্সেপ (১৭৯৯-১৮৪০)। তিনি যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন তিনি দেখেছেন যে, ভারতের পৃথক-পৃথক রাজ্যে কিছু শিলালেখ, স্তূপ এবং স্তম্ভ মাটির নীচে চাপা রয়েছে এবং সেগুলির উপর কিছু অজ্ঞাত ভাষায় লেখনীর অস্তিত্ব রয়েছে।
অনেক বছরের পরিশ্রম এবং গবেষণার পর সে ভাষাকে পড়তে সফলতা পাওয়া গিয়েছে। সে লিপির নাম ছিল ‘ধম্ম লিপি’ যা ছিল পালি ও প্রাকৃত ভাষায় লিখা। তা তৎকালে ভারতে প্রমুখতার সাথে ব্যবহার করা হতো। এ ভাষা হতে আরও কয়েক শতাব্দী পরে দেবনাগরী (হিন্দ বা সংস্কৃত) লিপির জন্ম হয়েছে। গবেষণায় তাঁর ইহাও জানা হয়েছে যে, আশে-পাশের অনেক দেশেও এরকম কিছু শিলালেখ পাওয়া যায় এবং পাথরের উপর ভারতীয় কোনো মহান রাজা কর্তৃক উৎকীর্ণ করা হয়েছে।
আপনারা কি জানেন যে, স্তূপ, স্তম্ভ এবং শিলালেখ কোন মহান রাজা কর্তৃক নির্মিত হয়েছে? তিনি ছিলেন দেবানং প্রিয় সম্রাট প্রিয়দর্শী অসোক, যিনি ছিলেন মৌর্য বংশোদ্ভূত মহান শাসক, যাঁকে সম্মান দেওয়ার জন্য ভারত দেশ আজও স্বীয় রাষ্ট্রীয় প্রতীকরূপে গর্জনরত চার মুখ বিশিষ্ট সিংহ স্তম্ভ (অসোক স্তম্ভ) এবং ভারতের জাতীয় পতাকায় অসোক চক্র বা ধম্মচক্রের প্রয়োগ হয়ে থাকে।
ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্রাজ্য অখণ্ড ভারত স্থাপন করেছিলেন সম্রাট অসোকই। তিনি যে শিলালেখ সমূহ লিখিয়েছিলেন, তাতে তিনি তথাগত বুদ্ধের (বুদ্ধের ধম্ম) উপদেশ তথা সম্রাজ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জ্ঞাতকরণ উদ্দেশ্যে উৎকীর্ণ করিয়েছিলেন। যদি জেম্স প্রিন্সেপ এ ভাষাকে ডিকোড বা পড়তে না পারতেন, তাহলে হয়তো আমরা কখনও নিজেদের ভারতের স্বর্ণিম ইতিহাস সম্বন্ধে জানা সম্ভব হতোনা।
আজ ভারতেরই কিছু লোক স্বীয় ব্যক্তিগত কারণে সম্রাট অসোকের মহান ইতিহাস এবং বৌদ্ধ ধম্মের সাথে ঘৃণা উৎপন্ন করতে থাকেন। কিন্তু আমি বলতে চাই যে, যখন সম্রাট অসোক এবং বৌদ্ধ ধম্ম ভারতেই জন্ম হয়েছে, তখন ইহাকে দুর্বল করার পরিবর্তে আমাদের নিজেদের শক্তি বানানো উচিত।
.jpg)

0 Comments