Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বাহিরের বেশভূষায় চেনা কঠিন

তথাগত বুদ্ধ অনেক স্থানে ইহা স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ব্যক্তিকে কেবল তার বাহ্যিক রূপ, বেশভূষা, মধুর বাণী বা দাবীর দ্বারা মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বাস্তবিক পরিচয় তার আচরণ, শীল, সমাধি এবং দীর্ঘকালীন ব্যবহার দ্বারা হয়ে থাকে।

লোকদের জন্য তথাগত বুদ্ধের সাবধান বাণী
—————————
তথাগত বুদ্ধের উপদেশ হতে নিম্নের নির্দেশনা পাওয়া যায়-
বেশভূষা দেখে প্রভাবিত হবেনা। মধুর ভাষণকে সত্যের প্রমাণ মান্য করোনা। কোনো ব্যক্তির চরিত্রকে সময় দেখে যাচাই-বাচাই করো। কোনো গুরু, ভিক্ষু বা ধাম্মিক নেতাকেও যাচাই-বাচাই করার অধিকার রাখতে হবে।
ধম্মকে ব্যক্তির উপরে রাখুন
———————————-
১) ধম্মপদে বুদ্ধ বলেছেন- জটা, বেশভূষা বা বাহ্যিক রূপ দ্বারা কেহ শ্রমণ হতে পারেনা।
তথাগত বুদ্ধ সেখানে আরও বলেছেন-
‘ন জটাহি ন গোত্তেন, ন জচ্চা হোতি ব্রাহ্মণো,
যম্হি সচ্চঞ্চ ধম্মো চ, সো সূচী সো চ ব্রাহ্মণো।’
অর্থাৎ জটার দ্বারা, কুলের দ্বারা, জন্মের দ্বারা কেহ শ্রেষ্ঠ হয়না। যার মধ্যে সত্য এবং ধম্ম রয়েছে, সেই বাস্তবে শুচি এবং শ্রেষ্ঠ হয়।
এরূপ সিদ্ধান্ত কেবল ব্রাহ্মণের উপর নয়, বরং যেকোনও ধাম্মিক ব্যক্তির উপরই লাগু হয়। বেশভূষা, নয়, বরং আচরণই হল গুরুত্বপূর্ণ।
২) ধম্মপদে বুদ্ধ ব্যক্ত করে বলেছেন- কেবল কাষায় বস্ত্র পরিধানের দ্বারা কেহ ভিক্ষু হতে পারেনা।
‘অনিক্কসাবো কাসাবং, যো বত্থং পরিধাস্সতি,
অপেতো দমসচ্চেন, ন সো কাসাবমরহতি।’
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভীতর হতে অশুদ্ধ, অসংযম এবং সত্য হতে রহিত, সে কেবল কাষায় বস্ত্র পরিধান করে নিলেই শ্রমণত্বের অধিকারী হয়না।
৩) সূত্র পিটকের অঙ্গুত্তর নিকায়ে বুদ্ধ বলেছেন-
‘কোনো ব্যক্তিকে জলদি বিশ্বাস করতে নেই। ‘মা ভিক্খবে পুগ্গলং অক্কেন পরিতক্কেথ।’ অর্থাৎ ভিক্ষুগণ! কোনো ব্যক্তিকে শীঘ্র বিশ্বাস করোনা।
অতঃপর বুদ্ধ তথাগত বুঝিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তির বাস্তবিক চরিত্র দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার ব্যবহার দেখেই জানতে হয়।
৪) অঙ্গুত্তর নিকায়ের ৪.১৯২ তে বুদ্ধ বলেছেন-চারটি বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয় করতে চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধ ব্যক্ত করেছেন-
‘শীল বা চরিত্রকে সহবাস দ্বারা, শুদ্ধতাকে ব্যবহার দ্বারা, ধৈর্যকে সঙ্কটে এবং প্রজ্ঞাকে আলাপ-আলোচনা দ্বারা জানা যায়।
পালি-
‘সীলং সংবাসেন বেদিতব্বং, সোচেয্যং ব্যবহারেন, থামো আপদাসু, পঞ্ঞা কথায।’
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির বাস্তবিকতা দু’য়েকবার দেখা-সাক্ষাতের দ্বারা জানা যায়না। বরং দীর্ঘ সময়ের নিরীক্ষণ দ্বারাই সঠিকভাবে জানা ও বুঝা যায়।
৫) মধ্যম নিকায়ের বিমংসক সূত্রে বুদ্ধ সতর্ক করে বলেছেন-গুরুকেও পরীক্ষা করো।
বিমংসক সূত্রে তথাগত বুদ্ধ স্বয়ং বলেছেন-‘ভিক্ষুগণ, তথাগতকেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করো।
তথাগত বুদ্ধ কাউকে কোনো অন্ধবিশ্বাসের শিক্ষা দেননি। তিনি বলেছেন যে, কোনো শিক্ষকের আচরণ, কর্ম এবং ব্যবহারকে দেখেই বিশ্বাস করো।
কালাম সূত্রে বুদ্ধ উপদেশ দিয়েছেন-‘কেবল শুনেই বিশ্বাস করতে নেই।’
অঙ্গুত্তর নিকায়ের কালাম সূত্রে তথাগত বুদ্ধ বলেছেন-
‘কেবল পরম্পরা, জনশ্রুতি, গ্রন্থ, যুক্তি, প্রসিদ্ধি বা কোনো গুরুর সম্মানের কারণে কোনো বিষয়কে সত্য বলে মান্য করোনা।
যখন স্বয়ং জানবে যে, কোন বিষয় কল্যাণকারী, তখনই ইহাকে গ্রহণ করবে।
তথাগত বুদ্ধের দৃষ্টিকোণ ছিল যে-‘ব্যক্তির পরিচয় তাঁর বস্ত্র, রূপ, বাণী বা দাবীর দ্বারা হয়না, বরং তার শীল, আচরণ এবং ব্যবহার দ্বারাই হয়ে থাকে।
ইহাই কারণ যে, তথাগত বুদ্ধ অন্ধ শ্রদ্ধার স্থানে বিমংসা (পরীক্ষা-নিরীক্ষা), প্রত্যক্ষ অনুভব এবং বিবেকপূর্ণ নিরীক্ষণকেই গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement