কপালের লেখন বলতে আমরা ভাগ্যকেই বুঝি। কিন্তু ভাগ্যকে চিনতে আমরা অনেকেই ভুল করি। ভাগ্য সেটা কি?
আসলে ভাগ্য হচ্ছে অসংখ্য অতীত জন্মের সঞ্চিত কুশলাকুশল(পাপ-পূণ্য) কর্মের ফল। ভগবান বুদ্ধের বর্ণিত সত্ত্বগণের চ্যুতি-উৎপত্তি অনুসারে প্রত্যেক মানুষ বা যে কোন সত্ত্ব প্রতিসন্ধির গ্রহণের মূহুর্তে তার আয়ু , বর্ণ বা জাতি, আহার ও স্থান নির্ধারিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোন সত্ত্বগণ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণের পূর্ব মূহুর্তে চ্যুতি চিত্তের(মৃত্যুর) সময় তার পূর্ব সঞ্চিত কর্মের মধ্যে যে কোন একটি কুশলাকুশল(পাপ ও পুণ্য) কর্মই বলবতী হয়ে ফল প্রদান করে। সেই কর্মের ফল অনুসারে মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণের সময় তার-
১। আয়ু কত বৎসর জীবিত থাকবে, ২। বর্ণ বা দেহের গঠন(পঞ্চগতি অনুসারে) বিকলাঙ্গ বা পূর্ণাঙ্গ, ৩। আহার, ৪। স্থান বা জায়গা মনুষ্য কুল,দেব কুল, চারি অপায় কুল যে কোন একটা স্থান নির্ধারিত হয়ে থাকে।
তখন যেই কর্মের দ্বারা আমাদের এই চারটি বিষয় পূর্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে সেই কর্মই হচ্ছে ভাগ্য বা কপাল। সেই ভাগ্য বা কপাল অনুসারে আমাদের বর্তমান জীবনের প্রতিফলন ঘটে। সেই প্রতিফলনই আমাদের (সত্ত্বগণের) কপালের লেখন বা ভাগ্য।
সচরাচর আমরা চলমান জীবনে যখন দুঃখ পাই তখন একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকি। এটা আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু অতীত কৃত কর্মের দ্বারা যে এখন দুঃখে পতিত হয়েছি সেটা কেউই স্বীকার করি না। তখন শুধু অপরের দোষটাই দেখে থাকি। পরম পূজ্য বন ভান্তে ও দেশনায় বলেছেন " যদি কারোর দ্বারা দুঃখ পেয়ে থাক তাহলে অন্যকে দোষ দিও না। সেটা ধরে নিও অতীত কালে নিজের কৃত কর্মের ফল।"


0 Comments