Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কি অহঙ্কারী হওয়া উচিত?

তথাগত বুদ্ধের বচনে এবং পালি ত্রিপিটক অনুসারে উত্তর হলে ভিক্ষুদের কখনও অহঙ্কারী হওয়া উচিত নয়। তথাগত বুদ্ধ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ভিক্ষুর আভূষণ হল বিনয়, নম্রতা, মৈত্রী এবং অহঙ্কার বিহীন চিত্ত। অহঙ্কার, মান, অতিমান, অভিমান এ সব হল নির্বাণ মার্গে এক বড় বন্ধন।

এ সম্পর্কে বুদ্ধের বচন হল-‘মানো পহীনো, অস্মিমানো সমূহো।’
অর্থাৎ যিনি মান, অভিমান, অহঙ্কার এবং আমিত্বের ভাবনাকে পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে পেরেছেন, তিনিই দুঃখের অপর পারে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। (উরগ সূত্র, সূত্ত নিপাত)।
সূত্ত নিপাতের করণীয় মেত্ত সূত্তেও বুদ্ধ বলেছেন যে-‘সক্কো উজু চ সুজু চ, সুবচো চস্স মুদু অনতিমানী’।
অর্থাৎ নির্বাণ আকাঙ্ক্ষী যোগীকে সরল, অতিসরল, বিনম্র, উপদেশ গ্রহণকারী এবং অহঙ্কার রহিত হতে হবে।
অহঙ্কারের উদাহরণ
—————————-
যদি কোনো ভিক্ষু এরূপ ভাবনা করে যে-‘আমি অধিক জ্ঞানী, আমি শ্রেষ্ঠ, অন্যরা আমার মতো জ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ নয়’-তাহলে তিনি মান-অহঙ্কারের বশীভূত। এরকম ভিক্ষুর বিকাশে প্রতিবন্ধকতা এসে যায় এবং সঙ্ঘে মতভেদ উৎপন্ন করে থাকে।
ভিক্ষুর জন্য অহঙ্কার খুবই ক্ষতি কারক। অহঙ্কারী ভিক্ষুর বিনয়ের গারবতায় হ্রাস পায়, ধ্যান এবং সমাধি দুর্বল হয়, প্রজ্ঞার বিকাশ থেমে যায়, নির্বাণ মার্গে বাঁধা এসে থাকে।
সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ধম্মের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হয়না। দান-ধম্ম এবং সেবার ভাবনা দুর্বল হতে থাকে।
অহঙ্কার কখন শূণ্য হয়?
————————
যখন যোগী পঞ্চ স্কন্ধ অর্থাৎ রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার এবং বিজ্ঞানকে ইহা আমার নয়, ইহা আমি নই, এতে আমার আত্মা নাই’ (নেতং মম, নেসোহমস্মি, ন মে সো অত্তা) এরূপে যথাযথ ভাবে দেখে থাকে, তখন অস্মিমান অর্থাৎ আমিত্বের অভিমান ক্ষীণ হয়ে যায়।
আমিত্বের পূর্ণ-বিনাশ হয় অরহত্ব অবস্থায়
—————————
তথাগত বুদ্ধের নির্দেশ হল শীল সমূহ দৃঢ়তা সহকারে পালন করা, বিনয় অনুসারে জীবন-যাপন করা, সতিপট্ঠান বা স্মৃতি সাধনার অনুশীলন করা, অনিত্য, দুঃখ এবং অনাত্মের নিরন্তর চিন্তন করা, মৈত্রী, করুণা, মুদিতা এবং উপেক্ষারূপ ব্রহ্মবিহারের বিকাশ করা, জ্যেষ্ঠদের সম্মান তথা উপদেশকে বিনম্রতা সহকারে গ্রহণ করা।
তথাগত বুদ্ধের ধম্মে অহঙ্কার নয়, বরং বিনয় এবং নম্রতাই হল ভিক্ষুর বাস্তবিক গৌরব। যে ভিক্ষু ‘আমি’ এবং ‘আমার’ ভাবনাকে নির্মূল করতে পারেন, তিনিই ধম্মের মার্গে সম্মুখে অগ্রসর হতে পারেন এবং স্বয়ং তথা উপাসক-উপাসিকা সকলের জন্য কল্যাণকারী হয়ে থাকেন। ইহাই হল বুদ্ধের শিক্ষা, যার আধার আমরা সূত্ত নিপাতে, করণীয় মেত্ত সূত্তে, ধম্মপদে এবং পালি বিনয় পিটকে স্পষ্টরূপে দেখে থাকি।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement