বুদ্ধ কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আসেননি। তিনি ছিলেন এক রক্ত-মাংসের মানুষ, যিনি রাজপ্রাসাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে সত্যের সন্ধানে পথে নেমেছিলেন। দীর্ঘ সাধনা, আত্মোপলব্ধি এবং কঠোর বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি দুঃখমুক্তির পথ বা 'ধম্ম' আবিষ্কার করেছিলেন।
যখন আমরা বুদ্ধের জীবনকে অলৌকিক গল্প, মিরাকল বা অতিপ্রাকৃত উপকথায় মুড়ে ফেলি, তখন আসলে আমরা তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি—তাঁর অসামান্য মানবীয় প্রজ্ঞা এবং যুক্তিকে অস্বীকার করি। বুদ্ধ তো অলৌকিকতার বাণী প্রচার করেননি, তিনি প্রচার করেছিলেন কার্যকারণ সম্পর্ক বা 'প্রতীত্যসমুৎপাদ'-এর বৈজ্ঞানিক দর্শন। তিনি বলতেন, "আত্মদীপ ভব"—নিজের আলোয় নিজে আলোকিত হও। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কর্মের ফলকে বিশ্বাস করতে শিখিয়ে গেছেন তিনি।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, একশ্রেণির মানুষ (তাঁরা সাধারণ গৃহী হতে পারেন, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত ভিক্ষুও হতে পারেন) বুদ্ধের সহজ-সরল, বাস্তবমুখী দর্শনকে রহস্যময় ও অন্ধবিশ্বাসের মোড়কে ঢাকতে ভালোবাসেন। কারণ, প্রজ্ঞা অর্জন এবং নিজের চরিত্র সংশোধন করার চেয়ে অলৌকিক শক্তির ওপর ভরসা করা মানুষের অলস মনের কাছে অনেক বেশি সহজ।
বুদ্ধকে অলৌকিকতার আসনে বসানোর অর্থ হলো তাঁর বিপ্লবী মানবিক চেতনাকে খর্ব করা। একজন সাধারণ মানুষ হয়েও যে সাধনা ও বুদ্ধিমত্তার বলে মহামানব হওয়া যায়, সেই অর্জিত মহত্ত্বকে অস্বীকার করে তাঁকে অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা বানিয়ে ফেললে তাঁর আসল শিক্ষা মাটি চাপা পড়ে যায়।
আসুন, বুদ্ধকে অলৌকিকতার মিথ্যে গল্পে বন্দি
না করে তাঁর প্রকৃত দর্শন—মৈত্রী, প্রজ্ঞা, যুক্তি এবং আত্মশুদ্ধির পথ অনুসরণ করি।
.jpg)
0 Comments